‘আমার জামাই চলে গেলে দুনিয়া অন্ধকার’

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৩:৩১ এএম

সন্তানদের জন্য বিরিয়ানি কিনতে গত বুধবার রাতে ইসলামবাগের বাসা থেকে বের হন মো. জাকির হোসেন। কিন্তু সেই বিরিয়ানি নিয়ে ঘরে ফেরা হয়নি জাকিরের। গত বুধবার চকবাজারের ওয়াহেদ  ম্যানশনের সামনে অগ্নিকাণ্ডে গুরুতর দগ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন; তার শরীরের ৩৫ ভাগ পুড়ে গেছে। রাত ২টার দিকে খবর পেয়ে হাসপাতালে আসেন তার স্ত্রী খাদিজা বেগম।

গতকাল শনিবার দুপুরে হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের সামনে সাড়ে তিন বছরের মেয়ে নুরজাহানকে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় খাদিজাকে। পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল ১১ বছরের ছেলে নাজির হোসেন। কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে খাদিজা বলেন, ‘আমার জামাই চলে গেলে আমার দুনিয়া অন্ধকার হয়ে যাবে। আমি দুই ছেলে-মেয়ে নিয়ে কোথায় যাব। কীভাবে চলবে আমার সংসার।’

টাঙ্গাইলের বাসিন্দা জাকির সপরিবারে থাকেন পুরান ঢাকার ইসলামবাগে। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। তার ছেলে নাজির পড়ে তৃতীয় শ্রেণিতে। চোখে-মুখে কষ্টের ছাপ নিয়ে শিশুটি বলে, ‘আব্বু মাঝেমধ্যেই আমাদের জন্য বিরিয়ানি নিয়ে আসত। সেদিনও আনতে গিয়েছিল। পরে আর ফিরে আসেনি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত