ডাকসু ছাত্ররাজনীতির গুণগত বদলের নিশ্চয়তা নয়

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১০:২৩ পিএম

রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, দুধ বিষাক্ত হলে সেই দুধ থেকে যে মাখন ছেনে নেওয়া হবে তা আরও বিষাক্ত হবে। কথাটা এ কারণে মনে হলো যে, এখন যে ছাত্ররাজনীতি আমরা দেখছি, সেখানে ছাত্ররাজনীতির নব্বই ভাগই যে প্রক্রিয়ায় চলছে, সেটা বিষাক্ত হয়ে গেছে। ফলে এই ছাত্ররাজনীতি থেকে আসা ছাত্র নেতৃত্ব বা বেছে নেওয়া ডাকসু নেতৃত্বও ‘বিষাক্ত হবে’ বলেই আমি মনে করি। কাজেই ডাকসু নিয়ে উচ্চাশা দেখা যাচ্ছে তার মধ্যে আবেগতাড়িত বিষয় আছে, অতিশয়োক্তি আছে। ডাকসু সম্পর্কে আমাদের ধারণার মধ্যেই যতটা না সত্য আছে, তার চেয়ে বেশি মিথ আছে, একটা বিশ্লেষণহীন ঢালাও ধারণায় আচ্ছন্ন হয়ে থাকার ব্যাপার আছে। ফলে ডাকসু নির্বাচন নিয়ে নির্মোহ হয়ে ভাবনাচিন্তা করা প্রয়োজন যে, আমরা আসলে এখান থেকে কী প্রত্যাশা করছি বা কী প্রত্যাশা করব।

ছাত্ররাজনীতির বর্তমান বাস্তবতা হলো, যারা ক্ষমতাসীনদের তাঁবেদারির রাজনীতি করছে তারাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্ররাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করছে, ক্যাম্পাসগুলোতে এবং ছাত্রছাত্রীদেরে আবাসিক হলগুলোতে আধিপত্য, দখলদারিত্ব বজায় রাখছে। তারা দলীয় আনুগত্যের রাজনীতি করছে এবং পেশিশক্তির চর্চা করছে। ছাত্ররাজনীতির নামে তারা ভয়ের সংস্কৃতি আর দখলদারিত্বের সংস্কৃতিকে মাঠপর্যায়ে বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ছাত্ররাজনীতির এই ধারায় কিন্তু আমরা কোনোরকম আদর্শ কিংবা নৈতিকতার অনুশীলন কিংবা সেই চেষ্টা কিছুই আমরা দেখছি না। সেই অর্থে চলমান ছাত্ররাজনীতির কোনো ন্যূনতম মানও কিন্তু দেখা যাচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভালো-মন্দ এবং শিক্ষা-গবেষণার প্রশ্নে কিন্তু এদের কোনো কর্মসূচি নেই। এমনকি সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের সুবিধা-অসুবিধার প্রশ্নেও তাদের কোনো নৈতিক অবস্থানও নেই। উল্টো আমরা বিভিন্ন সময়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার বিরুদ্ধে এমন ছাত্রসংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের অবস্থান নিতে দেখেছি। সাধারণ শিক্ষার্থীরা যখন চাকরির কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করছিল, রাস্তায় দাঁড়িয়েছিল তখন এই ছাত্ররাজনীতির হোমড়াচোমড়ারা তাদের বিরুদ্ধে ক্ষমতাসীনদের পেটোয়া বাহিনী, হেলমেট বাহিনী হয়ে কাজ করেছে। নিরাপদ সড়কের দাবিতে যখন স্কুল-কলেজের বাচ্চা-বাচ্চা ছেলেমেয়েরা রাজপথে আন্দোলন করছিল, তখনো এদেরকে আন্দোলনে নামা কিশোর-কিশোরীদের বিরুদ্ধে মারমুখী হতে দেখা গেছে। এই রকম চর্চাটা কিন্তু অনেক দিন ধরেই চলছে, এখনকার ক্ষমতাসীনদের সময়ে যেমন এটা দেখা যাচ্ছে, তেমনি এর আগে ক্ষমতায় থাকা দলের পক্ষেও তাঁবেদারি ছাত্ররাজনীতির এই ন্যক্কারজনক ভূমিকা আমরা দেখেছি।

এ অবস্থায় ২৮ বছর পর ডাকসু নির্বাচনকে যত বড় করে দেখা হচ্ছে, আমি কিন্তু ততটা আশাবাদী নই মোটেই। আমার বরং ডাকসু নিয়ে উল্টো আশঙ্কা আছে। মাঝখানে কয়েকটা দশক গেল, আমরা কিন্তু তেমনভাবে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হতে দেখিনি। একটা শব্দ ছিল ‘সাইনে ডাই’ (ংরহব ফরব), এর মানে হলো অনির্দিষ্টকালের জন্য বা কোনো নির্দিষ্ট দিন-ক্ষণ নির্ধারণ ব্যতীত কোনো কিছু ঘোষণা করা। এখন কিন্তু তেমন পরিস্থিতি বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখা যাচ্ছে না। কিন্তু ডাকসু নির্বাচন হলে, যে নতুন ছাত্র নেতৃত্ব আসবে সেটা কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সমান্তরাল একটা ক্ষমতা চর্চার জায়গায় চলে যাওয়ার, একটা দ্বৈত-প্রশাসনের অবস্থায় চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি করতে পারে। যেহেতু এরা নির্বাচিত হয়ে আসবে, ফলে এখনকার ছাত্ররাজনীতির মাস্তানির চেয়ে তারা বরং একটা ‘বৈধ মাস্তানির’ জায়গায় চলে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। সেরকমটা হলে আবাসিক হলগুলো থেকে শুরু করে ক্যাম্পাসে এইরকম ম্যান্ডেট পাওয়া বৈধ মাস্তানির চর্চা এখনকার চেয়ে আরও বেশি ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। এমনকি তখন তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত করতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা-সংস্কৃতি-পরিবেশের প্রশ্নে এটা আমার কাছে খুবই একটা ভয়ের জায়গা হিসেবে কাজ করে। গত দুই-আড়াই দশকে বড় ছাত্রসংগঠনগুলোর কাউকেই আমরা শিক্ষাসংশ্লিষ্ট, শিক্ষার্থীদের অধিকার সংশ্লিষ্ট, আবাসন সমস্যা, বা গ্রন্থাগারের সমস্যা কিংবা ছাত্রছাত্রীদের কোনো সাধারণ সুবিধা-অসুবিধার প্রশ্নে কোনো কর্মসূচি নিতে দেখিনি। কাজেই নির্বাচিত হয়ে আসলেই যে তারা ছাত্র অধিকার নিয়ে কথা বলবে, এমনটা ভাবার কোনো কারণ বা কোনো নমুনাও কিন্তু আমাদের সামনে নেই। প্রগতিশীল ধারার কয়েকটি ছাত্র সংগঠনের মুষ্টিমেয় কিছু ছেলেমেয়েরা হয়তো বিভিন্ন সময়ে এসব নিয়ে কথা বলার চেষ্টা করেছে। কিন্তু তখনো কিন্তু এরা হয় নীরব থেকেছে নয়তো উল্টো বিরোধিতা করেছে, উল্টো আন্দোলনকারীদের ওপর চড়াও হয়েছে।

ক্ষমতার তাঁবেদারি করা এসব ছাত্রসংগঠন হলে হলে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের নিপীড়ন-নির্যাতন চালিয়ে যেই দখলদারিত্ব আর ভয়ের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করেছে সেটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। হলে হলে হিটলারের গেস্টাপো বাহিনীর মতো এদের নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী আছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের এরা সারা রাত গেস্টরুমে আটকে রাখে, গেটে আটকে রাখে, গণরুমে রেখে নির্যাতন চালায়। এই নেতাকর্মীদের নিজস্ব স্টাইলের প্রটোকল আছে, সাধারণ কর্মীদের এদেরকে স্যালুট দিতে হয়, এদের কথায় উঠবস করতে হয়, দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, মিছিলে যেতে হয়Ñসব সময় এদের আদেশ-নির্দেশ মেনে চলতে হয়। সাধারণ শিক্ষার্থীদের এরা মারধর করে, পেটায়, এর মধ্যে কিন্তু এমন নিপীড়নের শিকার হয়ে এক-দুজন ছেলেমেয়ে মারাও গেছে। কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় আমরা কিন্তু মেয়েদের হলগুলোতে ‘মেয়ে মাস্তান’ তৈরি হতে দেখলাম। কী নির্মমভাবে মেয়েদের হলগুলোতে সাধারণ ছাত্রীদের ওপর নিপীড়ন-নির্যাতন চালাল এই ছাত্ররাজনীতির নারী সংস্করণের নেতাকর্মীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ে ছেলেদের মাস্তানি তো ছিলই, নতুন ফেনোমেনা হিসেবে আমরা মেয়েদের মাস্তানিটাও প্রত্যক্ষ করলাম। আসলে দীর্ঘদিন ধরেই ছাত্ররাজনীতির মান নামতে নামতে এখন এসে তলানিতে ঠেকেছে। আমি দুবার ডাকসুতে ভোট দিয়েছি। আমাদের সময়ের অভিজ্ঞতার কথা বলি। আমি বিতর্ক করতাম, আমাদের বিতর্কের দল টেলিভিশনে একটা অনুষ্ঠানে যাবে তখন আমাদের সাহিত্য সম্পাদক দাবি করলেন যে, তাকেও বিতর্ক দলের সদস্যদের মতোই নতুন শার্ট কিনে দিতে হবে। এখন প্রশ্ন হলো যে, তাকে তো আর টেলিভিশনে দেখা যাবে না, তিনি বিতর্ক দলের সদস্যও নন, তাহলে এই দাবি তিনি কেন করবেন? এমনও হয়েছে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েরা যে টেলিভিশনের কোনো অনুষ্ঠানে যাবে সে জন্য ডাকসুর কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদক ওই ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে টাকা নিতেন। সেই সময়টা এমন ছিল। এখন হয়তো সাধারণ ছাত্রনেতারাই আরও বড় বড় বিষয়ের ভাগ-বাটোয়ারা পায়, তাদের ক্ষমতার দাপট আর দৌরাত্ম্যও তাই অনেক বেশি। ক্ষমতাতন্ত্রের এই চর্চা ছাত্ররাজনীতিকে শেষ করে দিয়েছে।

ডাকসুতে আমরা আমান উল্লাহ আমানের মতো নৈতিকতাবর্জিত একটা মানুষকে ভিপি হতে দেখেছি। পরবর্তী সময়ে তিনি মন্ত্রী হয়েছেন, ঢাকা শহরে বহু ফ্ল্যাট-বাড়ি-গাড়ি তিনি করেছেন, সব রকমের দুর্নীতির সঙ্গে তারা জড়িয়েছেন। এখানে মান্নার মতো ভোল-পাল্টানো, দল-পাল্টানো মানুষ তৈরি হয়েছে। আ স ম আবদুর রব একসময় অনেক বড় নেতা ছিলেন, মুক্তিযুদ্ধে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে আমরা তাকে বহুবার বহু দল করতে দেখেছি, সব রকমের সুযোগসুবিধা নিতে দেখেছি। ফলে ডাকসু আমার কাছে বড় কোনো ব্যাপার বলে মনে হয় না। ভাষা আন্দোলন বলি, স্বাধীনতা আন্দোলন বলি সেখানে কিন্তু সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ভূমিকাই মুখ্য ছিল, ছাত্রসংগঠনগুলোর সামষ্টিক নেতৃত্বে বড় ভূমিকা ছিল, ডাকসুর কিন্তু না! আমরা এটাকে গুলিয়ে ফেললে চলবে না। এ তো গেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নিয়ে সাধারণ ধারণা আর এখনকার ছাত্ররাজনীতির মোটা দাগের একটা পর্যালোচনা। আমাদের এটা বুঝতে হবে যে, ডাকসু কোনো ‘প্যানাসিয়া’ বা সর্বরোগের মহৌষধ না। কিন্তু ডাকসু নির্বাচন নিয়ে আমরা এখন কী সিদ্ধান্ত নেব? এখানে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে-

প্রথমত, ডাকসু নির্বাচনটা কীভাবে হচ্ছে বা হবে? ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর আমরা যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে দেখলাম, ডাকসু নির্বাচনও কি সেই রকম হবে? অবস্থাদৃষ্টে আমাদের আশঙ্কা হচ্ছে সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনের মতোই কিছু একটা ডাকসুতে হবে, রাকসুতে হবে, জাকসুতে হবে এবং অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় কলেজগুলোর ছাত্র সংসদে হবে। এক ধরনের জবরদস্তি হবে, ভালো নির্বাচন এখানে হবে না। কারণ এখানে যে প্রশাসন নির্বাচনের দায়িত্বে আছে তারাও একপক্ষীয়, তারাও ক্ষমতাসীনদের আনুগত্যের রাজনীতিই করে। যেসব শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চালান, তাদের ওপরও কিন্তু সাধারণ শিক্ষার্থী কিংবা শিক্ষকদের কোনো আস্থা নেই। জাতীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন যেমন প্রশ্নবিদ্ধ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের কর্র্তৃপক্ষও কিন্তু একই রকম প্রশ্নবিদ্ধ। উপাচার্য, হল প্রভোস্ট বা হাউস টিউটর থেকে শুরু করে সবাই ক্ষমতাসীনদের আনুগত্যের রাজনীতি করার মধ্য দিয়েই ওই পদগুলোতে গেছেন। ফলে এমন একটা পক্ষপাতদুষ্ট প্রশাসনের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি না। দ্বিতীয়ত, ছাত্ররাজনীতির কাঠামোগত এবং গুণগত পরিবর্তন ছাড়া কেবল ছাত্রসংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে কোনো যুগান্তকারী পরিবর্তন সম্ভব বলেও আমি মনে করি না। খেয়াল করলে দেখা যাবে, ডাকসুর যে গঠনতন্ত্র তার কিন্তু কোনো মৌলিক পরিবর্তন করা হয়নি। সেটা নির্বাচনের কাঠামো থেকে শুরু করে নেতৃত্ব বাছাইয়ের প্রক্রিয়াÑ কোথাও হয়নি। স্বাধীনতার আগে ছাত্ররাজনীতিতে মেধাবীদের নেতৃত্ব দিতে দেখা গেছে, এখন সেটা হচ্ছে না। এখন বিভিন্ন বিভাগগুলোর প্রথম এক থেকে দশের মধ্যে যারা আছে, তাদের মধ্য থেকে বাছাই করে নির্বাচনের প্রার্থী করা যেতে পারত। ৮০টা বিভাগ থেকে যদি এভাবে ৮০০ ছেলেমেয়ে বাছাই করে তাদের ভেতর থেকে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হতো তাহলে লেজুড়বৃত্তি ও মাস্তানির ছাত্ররাজনীতির বদলে মেধাবীদের রাজনীতিতে জায়গা করে দেওয়া যেত। কিন্তু এমন কিছু আমরা দেখছি না। তৃতীয়ত, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, রাজনৈতিক দল এবং ছাত্রসংগঠনগুলোকে এটা বুঝতে হবে যে, একটা পরাধীন দেশের জাতীয় কিংবা ছাত্ররাজনীতি আর একটা স্বাধীন দেশের ছাত্ররাজনীতি কোনোভাবেই একই রকম হতে পারে না। ব্রিটিশ কিংবা পাকিস্তান আমলে জাতীয় রাজনীতির পাশাপাশি ছাত্ররাজনীতির ওপর দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের যে বাড়তি চাপ ছিল, এখন সেটা নেই। আজকের ছাত্ররাজনীতি তাই হতে হবে পুরোপুরি শিক্ষাব্যবস্থা কেন্দ্রিক, শিক্ষার্থীদের অধিকার, শিক্ষা-গবেষণা সংক্রান্ত দাবিদাওয়া, ক্যাম্পাসের পরিবেশ-সংস্কৃতি ইত্যাদিকে কেন্দ্র করে। ছাত্রছাত্রীরা লেখাপড়া করবে এবং পাশাপাশি শিক্ষা-সংস্কৃতি নিয়ে নিজেদের চিন্তাভাবনাকে শানিত করবে এই ছাত্ররাজনীতি দিয়ে। ক্ষমতায় বা ক্ষমতার বাইরে থাকা কোনো ছোট-বড় রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তির রাজনীতি ছাত্ররা করবে না। এটা ছাত্রদের কাজ না। ছাত্রসংগঠনগুলোকে কাঠামোগতভাবে এবং অনুশীলনের জায়গা থেকে স্বাধীন থাকতে দিতে হবে। তাহলেই আজকের তরুণ প্রজন্ম নিজেদের মেধার বিকাশ ঘটাতে পারবে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও তখন ছাত্ররাজনীতি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারবে। ছাত্ররাজনীতির কাঠামোগত ও গুণগত এমন পরিবর্তন ছাড়া ‘ডাকসুর সোনার হরিণ’ আমাদের কিছুই দিতে পারবে না।

লেখক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ও কলামনিস্ট

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত