ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক সরাতে টাস্কফোর্স হচ্ছে

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৩:০৪ এএম

আগামী এক মাসের মধ্যে পুরান ঢাকা থেকে সব ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিকের গুদাম সরাতে টাস্কফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। গতকাল সোমবার নগর ভবনে মেয়র সাঈদ খোকনের নেতৃত্বে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।

মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, ‘এই টাস্কফোর্স আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ এপ্রিলের মধ্যে পুরান ঢাকা থেকে সব ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কেমিক্যাল অপসারণ করে নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।’ দুই স্তরবিশিষ্ট টাস্কফোর্স গঠন নিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রথমটি হবে উচ্চ স্তরবিশিষ্ট টাস্কফোর্স। এটি বিভিন্ন সংস্থার প্রধান, ব্যবসায়িক সংগঠনের প্রধান ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠন করা হবে। যারা পরিকল্পনা প্রণয়ন, কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে নির্দেশনা প্রদান করবে। দ্বিতীয় টাস্কফোর্সটি অন গ্রাউন্ডে (মাঠে) থাকবে। ১৫টি ওয়ার্ড ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই ওয়ার্ডগুলোকে সমন্বয় করে দুটি কিংবা তিনটি ওয়ার্ডের সমন্বয়ে এই টাস্কফোর্স গঠন করা হবে। এখানে থাকবেন ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও জনপ্রতিনিধিবৃন্দ। তারা মাঠপর্যায়ে কাজ বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকবেন।’

২০১০ সালে পুরান ঢাকার নিমতলীতে রাসায়নিক থেকে লাগা আগুনে প্রাণ হারায় অন্তত ১২৪ জন। এরপর গত বুধবার রাতে চকবাজারের চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সরকারি হিসাবে অন্তত ৬৭ জন প্রাণ হারায়। একটি আবাসিক ভবনে থাকা গুদামের উচ্চমাত্রার দাহ্য পদার্থে আগুনের সূত্রপাত বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছেন চারটি তদন্ত কমিটির সদস্যরা। এরপর পুরান ঢাকা থেকে ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক সরাতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

সাঈদ খোকন জানান, আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে টাস্কফোর্স তৃণমূল পর্যায়ে কার্যক্রম শুরু করবে। যেসব বাসাবাড়িতে বা গোডাউনে ঝুঁকিপূর্ণ কেমিক্যালের অস্তিত্ব পাওয়া যাবে ম্যাজিস্ট্রেটরা তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। যতক্ষণ পর্যন্ত সেইসব বাসা ঝুঁকিমুক্ত না হবে এবং টাস্কফোর্স থেকে অনুমোদন দেওয়া না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত বিদ্যুৎ, পানি গ্যাসসহ সকল সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকবে। পুরো এলাকাকে নজরদারির মধ্যে আনতেও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতি আহ্বান জানান মেয়র।

গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘যানবাহনে সিলিন্ডারের ব্যবহার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, দপ্তর ও অধিদপ্তরের নজরদারিতে আনা উচিত এবং এগুলোর ব্যবহারকে নিয়ন্ত্রণে আনা উচিত। প্রয়োজনে সিলিন্ডারের ব্যবহার নিষিদ্ধের দাবিও জানান তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত