প্রতারণার শিকার দুই বান্ধবীর পরিবার

নিখোঁজ দোলা ও বৃষ্টির নম্বর থেকে ফোন!

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৩:০৭ এএম

পুরান ঢাকার চুড়িহাট্টায় অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে নিখোঁজ আজিমপুরের দুই বান্ধবী ফাতেমা-তুজ-জোহরা বৃষ্টি ও রেহনুমা তাবাসসুম দোলা। গতকাল সোমবার পর্যন্ত তাদের কোনো খোঁজ মেলেনি। তবে দুজনকে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলে গত বৃহস্পতিবার তাদেরই ব্যবহৃত নম্বর থেকে ফোন করে ১ লাখ টাকা দাবি করা হয়। কয়েক দফা ফোনালাপের পর গত শুক্রবার বৃষ্টির বাবা জসিমউদ্দিন মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা পাঠালেও দোলার বাবা কোনো টাকা দেননি।

গতকাল দোলার বাবা দলিলুর রহমান দুলাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, “আমার মেয়ে যে নম্বর ব্যবহার করত, সেই নম্বর দিয়েই আমার ফোনে কল করেছিল একজন। ওই ফোন পেয়ে আমি দোলা ফোন দিয়েছে, দোলা ফোন করেছে বলে বাসার সবাইকে চিৎকার করে ডেকে এনেছিলাম। রিসিভ করার পর এক পুরুষ কণ্ঠ বলে, ‘দোলা আমাদের কাছে আছে, ৫০ হাজার টাকা পাঠালে মেয়েকে পাবেন।’ এরপর আমি বলি, আমার মেয়ের সাথে কথা বলতে চাই। তারপর টাকা পাঠাব। এ কথা সে শোনেনি। তাই টাকাও পাঠাইনি।”

কান্নাজড়িত কণ্ঠে ওই ব্যবসায়ী আরও বলেন, ‘মেয়েকে পাওয়ার জন্য আমি কিডনি বিক্রি করতেও রাজি আছি। কিন্তু ওই চক্রের ৫০ হাজার টাকার কথা শুনে আমার বিশ্বাস হয়নি। কারণ একজন বাবার কাছে সন্তানের দাম তো এত অল্প টাকা হওয়ার কথা নয়! তারপরও মেয়েকে পাওয়ার আশায় এই তথ্য আগে কাউকে জানাইনি।’

কিন্তু টাকা দেওয়ার পরও মেয়েকে ফিরে না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েন বৃষ্টির বাবা জসিমউদ্দিন। তিনি বলেন, ‘বৃষ্টিকে ফেরত দেওয়ার কথা বলে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা নিয়েছে। টাকা নেওয়ার পর থেকেই ওই নম্বরটি বন্ধ।’

এ ঘটনায় গত শুক্রবার লালবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন দোলার বাবা। তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ডিজিটাল জালিয়াতির মাধ্যমে নিখোঁজ দুই বান্ধবীর ব্যবহৃত নম্বরগুলো নকল করে প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে। প্রতারকচক্রকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

গত বুধবার বিকেলে বান্ধবীদের সঙ্গে শিল্পকলা একাডেমিতে আবৃত্তির অনুষ্ঠানে যান বৃষ্টি ও দোলা। স্বজনদের সঙ্গে বৃষ্টির সর্বশেষ কথা হয়, রাত ১০টা ৪ মিনিটে। চকবাজারে আগুন লাগে ১০টা ৩৮ মিনিটে। এরপর থেকে দুজনই নিখোঁজ এবং তাদের মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। মোবাইল ফোন ট্র্যাক করে চুড়িহাট্টায় অগ্নিকাণ্ডের স্থলের পাশেই তাদের অবস্থান শনাক্ত করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ নগরীর বিভিন্ন হাসপাতালে খোঁজাখুঁজি করেও তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত