স্কুলের ৫৯ লাখ টাকা হাতিয়ে নিলেন প্রধান শিক্ষিকা

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৩:৫০ এএম

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) পরিচালিত ইমরাতুননেছা সিটি করপোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ফেরদৌস আরা বেগমের স্কুলের ৫৯ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি।

তদন্ত কর্মকর্তা ও চসিকের প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন বলেন, ‘তদন্তে স্কুলের ভর্তি, মাসিক বেতন, এমপিও’র টাকাসহ প্রায় ৫৯ লাখ টাকার অনিয়ম পাওয়া গেছে। প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষিকা এখন এলপিআরে চলে গেছেন। তবে ওনার গ্র্যাচুইটি, প্রভিডেন্ট ফান্ড এবং ছুটির টাকা থেকে এসব সমন্বয় করলে অনিয়মের টাকাগুলো সমন্বয় করা যেতে পারে।’ চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সামসুদ্দোহা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদন এখনো পাইনি। প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এ বিষয়ে অভিযুক্ত ফেরদৌস আরা বেগমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাকে একাধিকবার ফোন করা হলে তিনি তা ধরেননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিটি করপোরেশনের একাধিক কর্মকর্তা জানান, শিক্ষার্থীদের বেতন, ভর্তি ও পরীক্ষার ফিসহ স্কুলের বিভিন্ন আয় চসিকের হিসাব বিভাগে জমা না দিয়ে গত তিন বছর ধরে নিজের কাছে রেখে দেন প্রধান শিক্ষিকা। বিষয়টি কর্মকর্তাদের নজর আসে ২০১৭ সালের শেষের দিকে। পরে তাকে একাধিকবার কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি তার জবাব দেননি। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিভাগীয় মামলা করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে সিটি করপোরেশন কর্র্তৃপক্ষ। ওই কমিটি দীর্ঘ এক বছর তদন্তের পর প্রায় ৫৯ লাখ টাকা অনিয়মের সত্যতা পায়। কর্মকর্তারা আরও জানান, বিভাগীয় মামলা চলাকালীন তিনি ফিরোজশাহ কলোনি সিটি করপোরেশন স্কুলে বদলি হন। পরে সেই স্কুল থেকে এলপিআরে যান। অনিয়মের সত্যতা পেলেও এলপিআরে গিয়েও চসিকের হিসাব বিভাগ থেকে মাসিক এলপিআরের বেতন সুবিধা পাচ্ছেন। অনিয়ম উঠে এলেও কর্র্তৃপক্ষকে এসব টাকা আদায়ে কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত