দেশে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহভাজন একজনকে পাওয়া গেছে। রাজধানীর ধানম-ির একটি বেসরকারি হাসপাতালে ওই রোগীকে আলাদাভাবে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আক্রান্ত রোগী ২৭ বছরের একজন যুবক। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) এরই মধ্যে রোগীর বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করেছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। এ বিষয়ে
আইইডিসিআর পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেবরিনা ফ্লোরা দেশ রূপান্তরকে বলেন, সাধারণত এ ঋতুতে মস্তিষ্কে প্রদাহ দেখা দিলে আমরা নিপাহ ভাইরাস সন্দেহ করি। এখন নিপাহ ভাইরাসের সময়। এরই মধ্যে রোগী যেখানে আক্রান্ত হয়েছে সেখানে সার্ভিলেন্স টিম পাঠানো হয়েছে। রোগীর রক্তসহ বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করে আনা হয়েছে। আগামী দুয়েক দিনে পরীক্ষার ফল পাওয়া যাবে।
তিনি আরও বলেন, যেহেতু রোগটি ছোঁয়াচে, তাই আমরা আগেভাগেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছি। রোগীকে ওই হাসপাতালে আলাদা রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আমরা বারবার বলে আসছি, এই ঋতুতে খেজুরের কাঁচা রস খাওয়া যাবে না। কারণ বাদুড় থেকে এ রোগের ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। বাদুড় সাধারণত রসে মুখ দিয়ে থাকে। সেই রস কেউ পান করলে তিনি ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন। তিনি আরও বলেন, ওই ব্যক্তি নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে তাকে বক্ষব্যাধি হাসপাতালে এনে আলাদাভাবে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হবে।আইইডিসিআর থেকে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে এর আগেও দুজন নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হন। যাদের একজন মারা যান। গত ১৯ বছর ধরে দেশে নিপাহ রোগটি রয়েছে। আক্রান্ত ও মৃতের হিসাবে ২০০১ থেকে ’১৯ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে মোট ৩০৫ জন। একই সময়ে আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছে ২১১ জন। মৃত্যুর হার ৬৯ দশমিক ৬৪ ভাগ।
আইইডিসিআর জানায়, নিপাহ ভাইরাস সন্দেহজনক ব্যক্তি ময়মনসিংহের বাসিন্দা। তিনি পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর হিসেবে রাজশাহীর সারদায় প্রশিক্ষণরত ছিলেন। নিপাহ ভাইরাস সন্দেহে তাকে রাজশাহী থেকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর উপসর্গের ব্যাপারে আইইডিসিআরের সাবেক পরিচালক ও আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্রে বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর-বি) চিকিৎসা বিজ্ঞানী অধ্যাপক ডা. মাহমুদুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, নিপাহ ভাইরাস মানুষের শরীরে প্রবেশ করে মস্তিষ্কের প্রদাহ বা এনকেফালাইটিস ও শ্বাসতন্ত্রের রোগ সৃষ্টি করে। ভাইরাসগুলো শরীরে ঢোকার ৪ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে রোগের লক্ষণসমূহ প্রকাশ পায়। ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো জ্বর, মাথাব্যথা, পেশিতে ব্যথা, বমি ইত্যাদি থেকে শুরু করে মাথাঘোরা, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, অজ্ঞান হয়ে যাওয়াÑ এসব লক্ষণ দেখা দেয়। নিপাহ ভাইরাস রোগে আক্রান্ত ৪০-৭৫ শতাংশ রোগীর মৃত্যুও হতে পারে। বেঁচে যাওয়া রোগীদের প্রায় ১৫-২০ শতাংশ ক্ষেত্রে স্নায়ুবিক দুর্বলতা থেকে যায়। তবে আগেভাগেই শনাক্ত হলে ভয় পাওয়ার কিছু নেই।
এই বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, নিপাহ ভাইরাস প্রতিরোধের জন্য কোনো টিকা নেই। যেহেতু সংক্রমিত খেজুরের রস ও বাদুড়ে খাওয়া ফলমূলের মাধ্যমে ভাইরাসগুলো মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে, তাই কাঁচা খেজুরের রস ও বাদুড়ে খাওয়া ফলমূল খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। খেজুরের রস ভালো করে ফুটিয়ে নিলে নিপাহ ভাইরাস মরে যায়। তাই খেজুরের রস ভালো করে ফুটিয়ে খেতে হবে। আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে এলে সাবধান থাকতে হবে। ভালো করে ঘন ঘন হাত ধুয়ে নিতে হবে।
