অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বহুতল ভবন নির্মাণের উদ্যোগ থেকে পিছিয়ে আসছে সরকার। অনুমোদিত ওই প্রকল্প বাতিলের আবেদন বুধবার অনুষ্ঠেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় তুলবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মুক্তিযোদ্ধাদের আপত্তির কারণে প্রকল্পটি বাতিল করা হচ্ছে। এর পরিবর্তে আলাদা আলাদাভাবে অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বাড়ি তৈরি করে দেওয়া হবে।
পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর জানুয়ারিতে সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ২ হাজার ২৭৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘প্রতি জেলা উপজেলায় অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বহুতল ভবন নির্মাণ’ প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। এর আওতায় সারা দেশে ৫৩২টি ভবনে মোট আট হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণের কথা ছিল। পাঁচতলা ভবন হলেও সেগুলোতে লিফটের কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রকল্পটি নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের আপত্তি ছিল। তারা নিজ বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আসতে চায়নি। এছাড়া বহুতল ভবনেও তারা উঠতে চায়নি। অনেক মুক্তিযোদ্ধা বলেছেন, বয়সের কারণে বহুতল ভবনে উঠতে-নামতে তাদের কষ্ট হবে। এজন্য প্রকল্পটি বাতিল করা হচ্ছে।
বিকল্প আবাসনের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের বহুতল ভবন নির্মাণের পরিবর্তে ইন্ডিভিজুয়াল (আলাদা আলাদা) বাড়ি নির্মাণ করা হবে। এজন্য প্রাথমিকভাবে ১৬ হাজার মুক্তিযোদ্ধার তালিকা তৈরি করা হয়েছে। আগামী মার্চের শেষ নাগাদ এ প্রকল্প অনুমোদনের জন্য প্ল্যানিংয়ে পাঠানো যাবে বলে আশা করছি।’ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ফ্ল্যাটের পরিবর্তে মুক্তিযোদ্ধাদের একতলা বাসস্থান বা ঘর করে দেওয়া হবে। তারা চাইলে ওই ঘর তাদের বসতভিটায় হবে। প্রয়োজনে খাসজমি বন্দোবস্ত দিয়েও করা হবে। একেকটি একতলাবিশিষ্ট বাসস্থান নির্মাণে প্রাথমিক খরচ ধরা হয়েছে ২০ লাখ টাকা। সে হিসাবে ১৬ হাজার বাসস্থান নির্মাণে খরচ হবে ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি।
পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এনায়েত হোসেন দেশ রূপান্তকে বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্পটি বাতিল করতে হচ্ছে। আমরা মন্ত্রণালয়ের যুক্তি শুনেছি, তাদের কথাগুলো যৌক্তিক মনে হয়েছে। সার্বিক বিবেচনায় আগামী একনেকে প্রকল্পটি উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে।’
