সুচিকিৎসার ব্যবস্থা না করে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে সরকার তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, প্রয়োজনে তাকে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সব খরচ দল বহন করবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসনকে গত বছরের ৮ অক্টোবর যে অসুখ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল সে অসুখগুলো বেড়ে গেছে। প্রচণ্ড ব্যথা ও হাতের কাঁপুনির কারণে তিনি কোনো কিছু ধরতে পারছেন না। এই বয়সে এই রোগগুলোর নিয়মিত চিকিৎসা করা না হলে জীবননাশের প্রচণ্ড ঝুঁকি থাকে।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত সাড়ে তিন মাসে তার অসুস্থতা বেড়েছে। সাড়ে তিন মাস যাবত পরিবারের সদস্যদের আগের মতো দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। গত চার মাস দলের কাউকে সাক্ষাৎ করতে দেওয়া হয়নি, এমনকি আইনজীবীদেরও না। ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে চিকিৎসা না দিয়ে খালেদা জিয়াকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে সরকার। কারাবন্দি খালেদার সুচিকিৎসা ও নিরাপত্তার দায় সরকারের। চিকিৎসা, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার তার প্রাপ্য।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সরকার খালেদা জিয়াকে সুচিকিৎসা দিচ্ছে না। তারপর আবার কয়েক দিন পরপরই তাকে হুইল চেয়ারে করে আদালতে হাজির করে মানসিকভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে। দেশের জনগণ এটাকে সরকারের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে দেখে।’বন্দি খালেদা জিয়াকে কেরানীগঞ্জে স্থানান্তরের গুঞ্জন নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপি তার সুচিকিৎসা চায়। অবিলম্বে তার মুক্তি চায়।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রমুখ।
