ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে আলাদা প্যানেল ঘোষণা করা সাবেক নেতারা ছাত্রলীগের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে সমাঝোতার পর গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রলীগের আগের কমিটির সহসভাপতি ও বিদ্রোহী প্যানেলের সহসভাপতি (ভিপি) প্রার্থী সোহান খান প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। এর আগে গত সোমবার গভীর রাতে ডাকসু নির্বাচনের প্যানেলে কিছু পরিবর্তন আনার কথা জানায় ছাত্রলীগ।
সংবাদ সম্মেলনে সোহান বলেন, ‘গতকাল আওয়ামী লীগের নেতারা আমাদের ডেকেছিলেন। তারা আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। আমরা তাদের কথায় সন্তুষ্ট। এ জন্য আমরা ঘোষিত প্যানেল প্রত্যাহার করছি।’ ওই সময় তিনি ছাত্রলীগ ঘোষিত প্যানেলকে জয়ী করতে কাজ করারও ঘোষণা দেন।
সমঝোতার পর গতকাল মধুর ক্যান্টিনের সামনে ‘বিদ্রোহী’ প্যানেলের সদস্যদের সঙ্গে সেলফি তোলেন ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন। অবস্থান পরিবর্তনের বিষয়ে ‘বিদ্রোহী’ প্যানেল থেকে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী আমিনুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকব বলেই প্যানেল করেছিলাম। আমরা যেহেতু পার্টি করি, ওপরের নির্দেশে প্যানেল প্রত্যাহার করেছি। আমাদের যে অভিযোগ ছিল, সেগুলো তারা দেখবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।’
গত সোমবার সংবাদ সম্মেলন করে ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী অসাম্প্রদায়িক সাধারণ শিক্ষার্থীদের পরিষদ’ ব্যানারে ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের জন্য বিদ্রোহী প্যানেল ঘোষণা করে। এই প্যানেলে ভিপি পদে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহসভাপতি সোহান খান, জিএস পদে জহুরুল হক হলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও এজিএস পদে গত কমিটির কেন্দ্রীয় সহসম্পাদক মো. রনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দেন। এমন ঘটনায় ওই রাতেই বিদ্রোহী প্যানেলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা।
বৈঠকে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, উপদপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি মোল্লা আবু কাওসার, আওয়ামী লীগের সাবেক স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. বদিউজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।
ছাত্রলীগের পূর্বঘোষিত প্যানেলে পরিবর্তন ডাকসু নির্বাচন নিয়ে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি প্যানেল ঘোষণা করে ছাত্রলীগ। কিন্তু ‘বিভিন্ন কারণে’ ডাকসু ও হল সংসদের কয়েকটি পদে প্রার্থীর পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এজিএস প্রার্থী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন। গত সোমবার গভীর রাতে সংগঠনের প্যাডে পরিবর্তন হওয়া নামগুলো সংযোজন করা হয়।
ডাকসু প্যানেলে সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে শামস ই নোমানের পরিবর্তে সার্জেন্ট জহুরুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসিফ তালুকদার, আর ছাত্র পরিবহন সম্পাদক পদে রাকিব হাওলাদারের পরিবর্তে শামস ই নোমানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া প্যানেলের সদস্য পদে ইশাত কাশফিয়া ইরার পরিবর্তে কুয়েত মৈত্রী হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ফরিদা পারভীনকে আনা হয়েছে। এ ছাড়া মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল সংসদে ছাত্রত্ব না থাকায় আবদুল্লাহ সুবাইলকে সরিয়ে তার পরিবর্তে শাকিলকে ভিপি পদের জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
গত রবিবার বিকেল ৩টায় ছাত্রলীগ মধুর ক্যান্টিনে প্যানেল ঘোষণা করে। এই প্যানেলে ভিপি পদে রয়েছেন ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন। জিএস পদে কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী ও এজিএস পদে ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনকে মনোনীত করা হয়েছে।
