এই দিনে

২৮ ফেব্রুয়ারি

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১০:২৬ পিএম

পপসম্রাট নামে খ্যাত জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও মুক্তিযোদ্ধা আজম খান ১৯৫০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার আজিমপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তার পুরো নাম মোহাম্মদ মাহবুবুল হক খান। বাবা আফতাব উদ্দিন খান ছিলেন সরকারের সচিবালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা; মা জোবেদা বেগম একজন সংগীতশিল্পী।  শৈশব থেকেই মায়ের অনুপ্রেরণা ও নিজের আগ্রহে সংগীতচর্চায় যুক্ত ছিলেন তিনি। ক্রান্তি শিল্পীগোষ্ঠীর সদস্য হিসেবে পাকিস্তানি শোষণকে বিষয় করে গণসংগীত গেয়ে গণআন্দোলনে ভূমিকা রাখেন তিনি।  মাত্র ২১ বছর বয়সে আজম খান মুক্তিযুদ্ধের ২নং সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল খালেদ মোশাররফের গ্রুপে মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করেন। যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, গুলশান, ক্যান্টনমেন্টসহ বেশ কয়েকটি এলাকার গেরিলা অপারেশনে ছিলেন তিনি। আজম খানের নেতৃত্বে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য গেরিলা অপারেশন হলো ‘অপারেশন তিতাস’। ১৯৭২ সালে ‘উচ্চারণ’ নামে একটি ব্যান্ড গঠন করে দেশের আধুনিক পপ সংগীত জগতে যাত্রা শুরু করেন আজম খান। পশ্চিমা ধাঁচের পপগানে দেশজ বিষয় সংযোজন তিনি বাংলা পপ গানের জগতে এক স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য নিয়ে আসতে সক্ষম হন। বাংলাদেশ টেলিভিশনে তার গাওয়া ‘এত সুন্দর দুনিয়ায় কিছুই রবে না রে’ ও ‘চার কালেমা সাক্ষী দেবে’ গান দুটি অসাধারণ জনপ্রিয়তা লাভ করে।  পরে ‘ওরে সালেকা ওরে মালেকা’, ‘আলাল ও দুলাল’, ‘রেল লাইনের ওই বস্তিতে’, ‘আসি আসি বলে তুমি আর এলে না’, ‘হারিয়ে গেছে খুঁজে পাব না’ প্রভৃতি গান দীর্ঘ সময় শ্রোতাদের মাতিয়ে রাখে। ১৯৮২ সালে ‘এক যুগ’ নামে তার প্রথম অডিও ক্যাসেট বের হয়।  তার একক অ্যালবাম সংখ্যা ১৭ এবং দ্বৈত ও মিশ্র অ্যালবাম ২৫টির বেশি। স্বাধীনতাযুদ্ধে এবং সংগীতে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি অনেক সম্মাননা ও পুরস্কার লাভ করেন। সর্বশেষ ২০১৯ সালে মরণোত্তর ‘একুশে পদক’-এ ভূষিত হন আজম খান। ২০১১ সালের ৫ জুন তিনি মৃত্যুবরণ করেন।  

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত