পুরান ঢাকার রাসায়নিক যাচ্ছে শ্যামপুর, টঙ্গীতে

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১১:৫৮ পিএম

পল্লী হওয়ার আগ পর্যন্ত সময়ের জন্য পুরান ঢাকায় থাকা রাসায়নিক রাজধানী শ্যামপুর ও টঙ্গীতে সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়।

কদমতলী থানার শ্যামপুরে বিসিআইসির উজালা ম্যাচ ফ্যাক্টরি ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে টঙ্গীর কাঁঠালদিয়ায় বিএসইসির খালি জায়গায় এগুলো সরানো হবে। প্রাথমিকভাবে দুটি স্থানে ১২ দশমিক ১৭ একর জমিতে ৪ লাখ বর্গফুট আয়তনের স্টিল শেড নির্মাণ করে এগুলো রাখা হবে।

চকবাজারে অগ্নিকা-ের পরিপ্রেক্ষিতে পুরান ঢাকায় থাকা দাহ্য রাসায়নিক স্থানান্তরের জায়গা নির্ধারণ নিয়ে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় গতকাল এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শিল্প সচিব মো. আবদুল হালিম এতে সভাপতিত্ব করেন।

সভায় শিল্প, ভূমি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ, কৃষি, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, রাজউক, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, বিসিআইসি, বিএসইসি, বিএডিসি, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা ছাড়াও ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি এবং রাসায়নিক ও প্লাস্টিক ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় পুরান ঢাকার ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সাময়িকভাবে বিভিন্ন রাসায়নিকদ্রব্য সরিয়ে নিতে উপযুক্ত স্থান নির্ধারণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় ব্যবসায়ী নেতাদের আজ বৃহস্পতিবারের মধ্যে জায়গার পরিমাণ নির্ধারণ করে লিখিতভাবে শিল্প মন্ত্রণালয়কে জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। আলোচনা শেষে রাজধানীর শ্যামপুর এবং টঙ্গীর নিরাপদ স্থানে এগুলো সরানোর বিষয়ে সর্বসম্মতি  নেওয়া হয়।

সভায় ব্যবসায়ীরা বলেন, চকবাজারে অগ্নিকা-ের পর কেমিক্যাল ইস্যুতে স্থানীয়ভাবে এক ধরনের ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য ও আর্থিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে পুরান ঢাকার প্রায় ২৫ লাখ ব্যবসায়ীর বেকার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সাময়িকভাবে টঙ্গীতে নির্ধারিত জায়গায় এসিড ও শ্যামপুরে রাসায়নিকদ্রব্য সরানোর বিষয়ে তারা একমত  পোষণ করেন।

অনুষ্ঠানে শিল্প সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী রাসায়নিকদ্রব্য স্থানান্তরের বিষয়ে শিল্প মন্ত্রণালয় কাজ করছে। আগামী ৬ মাসের মধ্যে এগুলো স্থানান্তরের জন্য ব্যবসায়ীদের জায়গা দেওয়া হবে। এসিড ও রাসায়নিক দ্রব্যের জন্য দুটি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। আরও জায়গা প্রয়োজন হলে, শিল্প মন্ত্রণালয় তার ব্যবস্থাও করবে।

শিল্প সচিব আরও বলেন, টঙ্গী ও কদমতলীতে সরকারি খরচেই স্টিল স্ট্রাকচার নির্মাণ করে দেওয়া হবে। ব্যবসায়ীরা সেখানে ন্যায্য ভাড়ায় রাসায়নিক পদার্থ রাখবেন। ৩ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে কারিগরি প্রস্তাব প্রণয়নের জন্য বিএসইসি ও বিসিআইসিকে নির্দেশনা দেন। এরপরই সরকারি অর্থায়নে দ্রুত এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে বলে তিনি জানান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত