মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বন্দুকযুদ্ধ-আত্মসমর্পণের মধ্যেই আসছে ইয়াবা

আপডেট : ০২ মার্চ ২০১৯, ০৩:০২ এএম

জোরদার মাদকবিরোধী অভিযান, তালিকাভুক্ত শতাধিক কারবারির আত্মসমর্পণের পরও থেমে নেই ইয়াবার কারবার। এখন ইয়াবা আনার পথ পরিবর্তন করেছে কারবারিরা। স্থল থেকে সমুদ্রপথে টেকনাফ ও কক্সবাজারের বিভিন্ন রুটে ইয়াবা আসছে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের দাবি, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি টেকনাফে ১০২ শীর্ষ কারবারির আত্মসমর্পণের পর দেশে ইয়াবার সরবরাহ কিছুটা কমেছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক উপসচিব দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তালিকাভুক্তদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত আলোচিত সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদির ওপরও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নজরদারি রেখেছে। আত্মসমর্পণকারী বদির ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের কাছ থেকেও তথ্য নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, টেকনাফ-উখিয়ার পাশাপাশি দেশের অন্যান্য স্থলবন্দর দিয়ে মাদক আসছে কি নাÑ তা দেখা হচ্ছে এবং তথ্য পাওয়া মাত্রই অভিযানের নির্দেশ রয়েছে। প্রভাবশালী কারবারিদের আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার জন্য বলা হচ্ছে। দেশে ইয়াবা আসা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি স্বীকার করে ওই কর্মকর্তা জানান, এজন্য আরও সময় লাগবে এবং অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে।

মন্ত্রণালয়ের আরেক কর্মকর্তা এই প্রতিবেদককে গতকাল শুক্রবার বলেন, ‘অভিযানে মারা যাওয়ার চেয়ে ধরা দেওয়াকেই ভালো মনে করবে ইয়াবা কারবারিরা। এর আগেও কক্সবাজারে অভিযানে কয়েকজন বন্দুকযুদ্ধে মারা যাওয়ার পর নিজেরাই আত্মসমর্পণের প্রস্তাব দিয়েছে।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের সুপথে আনতে সরকারের শীর্ষপর্যায় থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে। তারপরও যদি ইয়াবাসহ মাদক কারবারিরা তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখে সরকারের কিছু করার নেই। মাদক বন্ধে প্রয়োজনে চলমান অভিযানের চেয়ে আরও কঠোর কিছু আসবে। পালিয়ে কেউ ইয়াবা ব্যবসা করতে পারবে না। মাটির তলা থেকে খুঁজে আনা হবে। অভিযান জোরালো থাকলে তারা ধরা দেবেই।

‘আত্মসমর্পণ কর, নয়তো পরিণতি ভালো হবে না’

আত্মসমর্পণ না করলে ইয়াবা কারবারিদের পরিণতি ভালো হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেন। গতকাল বিকেলে টেকনাফের হ্নীলায় মাদক, জঙ্গি, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসবিরোধী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আত্মসমর্পণের বাইরে এখনো যেসব ইয়াবা কারবারি ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে তাদের বলছি, সময় আছে সরকারের কাছে আত্মসমর্পণ কর, না হলে কেউ রেহাই পাবে না।’

জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, এলাকায় কে কে ইয়াবা ব্যবসা করে, সবাই জানে। কিন্তু তথ্য দেয় না। এখন থেকে যেসব এলাকায় ইয়াবা ধরা পড়বে, ইয়াবা কারবারিদের ব্যাপারে তথ্য না দিলে জনপ্রতিনিধিদের মাদক মামলায় আসামি করা হবে।

টেকনাফ ২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আছাদুজ্জামান বলেন, শীর্ষ কারবারিদের আত্মসমর্পণের পর থেকে গতকাল পর্যন্ত ১ লাখ ৫১ হাজার ইয়াবা উদ্ধার এবং ১৭ কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলা হয়েছে ১০টি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও অনেকের সন্ধান পাওয়া গেছে। এখনো ইয়াবা আসা বন্ধ হয়নি বলেও জানান তিনি।

র‌্যাব-১৫ কক্সবাজারের কোম্পানি কমান্ডার মেজর মেহেদী হাসান জানান, গত ১৫ দিনে ১ লাখ ৯১ হাজার ইয়াবা উদ্ধার, ১৭ জনকে গ্রেপ্তার এবং নয়টি মামলা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এখন স্থল ও সমুদ্রপথ দিয়ে ইয়াবা আসছে। কারবারিরা নতুন নতুন পথ খুঁজছে।’

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানায়, গত ১৫ দিনে ১৫ হাজার ১৬২ ইয়াবা উদ্ধার, ২২ জনকে গ্রেপ্তার এবং দুটি মামলা করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, টেকনাফের নাফ নদীর শাহপরীর দ্বীপ, শাহপরান, হ্নীলা পয়েন্ট, কুরোরির মুখ, গোলার চর দিয়ে বড় চালানগুলো আসছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি একটু শিথিল দেখলেই তারা ঢুকে পড়ার চেষ্টা করে।

তারা আরও জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত জেলার ১ হাজার ১৫১ কারবারির মধ্যে ১০২ জনকে আটক করে ইয়াবা আসা বন্ধ করা যাবে না। কারণ প্রভাবশালী ইয়াবা কারবারিরা এখনো বাইরে। তাদের প্রশ্ন, টেকনাফ-উখিয়ার সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদিকে বাইরে রেখে ইয়াবা আসা কীভাবে বন্ধ করা সম্ভব?

   
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত