সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ৩ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

পঞ্চগড়ে ১ কোটি কেজি চা উৎপাদনের সম্ভাবনা

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০১৯, ১২:৩৯ এএম

পঞ্চগড়ে চলতি বছর এক কোটি কেজি তৈরি চা উৎপাদন হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। গত মৌসুমে জেলায় ৮৪ দশমিক ৬৭ লাখ কেজি চা উৎপাদন হয়েছে।  এবার সাত হাজার ৫৪৫ একর জমিতে চা চাষ হয়েছে। পঞ্চগড় চা বোর্ডের জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ শামীম আল মামুন বলেন, ৯টি নিবন্ধিত ও ১৯ অনিবন্ধিত টি এস্টেটে চা আবাদ হচ্ছে। আর চার হাজার ৪৫০ ক্ষুদ্র চাষি পাঁচ একর করে জমিতে চা আবাদ করছেন।

উত্তরাঞ্চলে চা চাষ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ চা বোর্ড ২০১৫ সালে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এর আওতায় ২০২০ সালের মধ্যে আরও এক হাজার ২৩৫ একর জমিতে চা আবাদ বাড়ানোর জন্য ৪ দশমিক ৯৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। লাভজনক হওয়ায় সমতলে চা উৎপাদন বাড়ছে। এতে এলাকায় নতুন কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে ১৩টি কারখানায় চা পাতা প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে।

সদর উপজেলার সোনাপাতিলা এলাকার মতিয়ার রহমান বলেন, ২০০২ সালে প্রথম ৪ দশমিক ৫০ একর জমিতে তিনি চা আবাদ করেন। এখন চা উৎপাদনে জমির পরিমাণ বেড়ে ঠেকেছে ৫২ একরে। একইভাবে আবদুল হাকিম, সোলায়মান আলী, আবদুর রহমান এবং সেকেন্দার আলী বিভিন্ন গ্রামে চা চাষ করে সচ্ছল হয়েছেন। গত ৯ জানুয়ারি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত চা উৎপাদন সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে প্রতি কেজি কাঁচা চা পাতার মূল্য ২৪ দশমিক ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত নিলামের দর অনুযায়ী প্রতি তিন মাস পর কাঁচা চা পাতার মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হবে।

২০০০ সালে পঞ্চগড়ে চা চাষ শুরু হয়। এর পর থেকে চা উৎপাদন বাড়ছে। চা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ২০০৫ সালে ১ দশমিক ৬১ লাখ কেজি চা উৎপাদন হয়েছিল। ২০১৩ সালে ১৪ দশমিক ৫৫ লাখ, ২০১৪ সালে ১৪ দশমিক ২১ লাখ, ২০১৫ সালে ২৫ দশমিক ২১ লাখ, ২০১৬ সালে ৩২ লাখ, ২০১৭ সালে ৫৪ দশমিক ৪০ লাখ কেজি চা উৎপাদন হয়।

পঞ্চগড় চেম্বারের সভাপতি আবদুল হান্নান শেখ বলেন, চা চাষ পঞ্চগড়ের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করেছে। এলাকার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। ড. শামীম বলেন, “আমরা নিবন্ধিত চাষিদের স্বল্পমূল্যে চা চারা দিচ্ছি, চা বাগান পরিদর্শন করে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়ে থাকি। এটুআই কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ চা বোর্ডের ‘দুটি পাতা একটি কুঁড়ি’ মোবাইল অ্যাপস রয়েছে। সেখানে চা-সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য পাওয়া যাবে।”

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত