মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

দুই সেঞ্চুরিতেও এড়াতে পারল না ইনিংস হার

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০১৯, ০২:৪৬ এএম

হ্যামিল্টন থেকে আত্মবিশ্বাসের রসদ পেয়ে গেল বাংলাদেশ। না, অলৌকিক কিছু ঘটেনি। তা সম্ভবও ছিল না। তবে সৌম্য সরকার আর মাহমুদউল্লাহর সেঞ্চুরি এমন একটা আত্মবিশ্বাসের আবহ তৈরি করেছে দলে যা বাকি সিরিজের গতিপথ বদলে দিতে পারে! ওয়েলিংটন টেস্টের কথা মনে আছে? যেখানে সারাদিন ব্যাট করেছিলেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস ও কুশল মেন্ডিস। টেস্টও বাঁচিয়েছিলেন। বৃষ্টি তাদের সহায় ছিল। নিউজিল্যান্ডের ঘরের মাঠে ডিসেম্বরে খেলা সেই টেস্টের স্মৃতি গতকাল ফিরিয়ে এনেছিলেন সৌম্য ও মাহমুদউল্লাহ। তবু ইনিংস হার এড়াতে পারেননি। সব কি আর পারা যায়? তবে যেটুকু পেরেছেন তাই বা কম কিসে। তৃতীয় দিন শেষে ৬ উইকেট হাতে নিয়ে ৩০৭ রানে পিছিয়ে ছিল বাংলাদেশ। স্বাগতিকদের ব্যাট হাতে নামাতে হলে এর চেয়ে বেশি রান করতে হতো। সৌম্য-মাহমুদউল্লাহর ২৩৫ রানের জুটি সত্ত্বেও ৫২ রান আগেই থেমেছে বাংলাদেশ। মানে এক দিন আগেই ইনিংস ও ৫২ রানে হেরেছে সফরকারীরা।

এই ইনিংস হারের পরও হ্যামিল্টন টেস্ট থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্তি অনেক। ঝলমলে তামিম ইকবাল পথ দেখিয়েছেন। দারুণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে সেই পথে হেঁটে সেঞ্চুরি করেছেন সৌম্য। আর নিখুঁত টেস্ট খেলার টেম্পারমেন্ট নিয়ে সতীর্থদের সেই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গী হয়েছেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। ফলে ইনিংস হার এড়াতে না পারলেও লড়াইয়ের আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে বাংলাদেশ।

চতুর্থ দিনের অর্ধেক সময় ব্যাট করেন সৌম্য-মাহমুদউল্লাহ। পঞ্চম উইকেটের এই জুটি ভাঙেন ট্রেন্ট বোল্ট। তবে দ্বিতীয় নতুন বল হাতে নেওয়ার আগে কিউইদের প্রত্যাঘাত ফিরিয়ে দিয়েছেন তারা। শুরু থেকেই সৌম্য ছিলেন আক্রমণাত্মক। মাঝে মধ্যে তো ২০১০ সালে লর্ডস টেস্টের তামিমকে মনে করাচ্ছিলেন। ৯৪ বলে সেঞ্চুরি করে সেই তামিমকে ছুঁয়েছেন তিনি। বাংলাদেশের দ্রুততম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান তামিমের রেকর্ডে ভাগও বসিয়েছেন। নিউজিল্যান্ডের শর্ট বল ট্যাকটিকসকে ‘স্কোয়ার অন দ্য লেগ সাইড’ দিয়ে মাঠের বাইরে পাঠিয়েছেন। যদিও আক্রমণের ওপর পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ ছিল না সৌম্যর। অনেক সময় নিল ওয়াগনারের শর্ট বল মিস করছিলেন। সব মিলিয়ে ব্যাটিংয়ে ৭৫ ভাগ নিয়ন্ত্রণ ছিল তার। ২১টি বাউন্ডারি মেরেছেন। ১৪৯ রান করে আউট হয়েছেন। এর ৬৭ রানই এসেছে লেগ স্কোয়ার দিয়ে। ২১ চারের ৮টি এই পাশ দিয়েই মেরেছেন। সঙ্গে ৫টি ছক্কাও ছিল। বোল্ট-সাউদি-ওয়াগনারের শর্ট বলের কি মোক্ষম জবাবটাই না দিয়েছেন সৌম্য।

অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর ব্যাটিং ছিল ধীর, স্থির, শান্ত মেজাজের। এককথায় টেস্ট ব্যাটিংয়ে ‘সিলেক্টিভ অ্যাপ্রোচ’ বলতে যা বোঝায় তাই। বল ছেড়েছেন, ডাক করেছেন, বাউন্সার থেকে নিজেকে সরিয়েও নিয়েছেন। আবার মাঝে মধ্যে হুক এবং পুল শটও খেলেছেন। ওয়াগনারকে হুক করে দুটি ছক্কা মারার পর বোল্টকে কাভার পয়েন্ট দিয়ে একটা ছবির মতো ব্যাকফুট কাভার ড্রাইভ করেছেন। চা বিরতির চার ওভার পরে টিম সাউদির বলে ডিপ পয়েন্টে ক্যাচ দেন মাহমুদউল্লাহ। ততক্ষণে ১৪৬ রানের ইনিংস খেলা শেষ। এটা তার সেরা টেস্ট ইনিংস। দলীয় ৩৬১ রানের মাথায় আউট হন সৌম্য। এরপর একপ্রান্ত আগলে হারের ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করছিলেন অধিনায়ক। অন্যপ্রান্তে যাওয়া-আসার মিছিল শুরু হয়। ব্যর্থ লিটন দাস। বল হাতে বাজে দিন কাটানোর পর ব্যাট হাতেও কিছু করতে পারেননি মেহেদী হাসান মিরাজ। তিন পেসার আবু জায়েদ, খালেদ আহমেদ ও ইবাদত হোসেনের কাছে কোনো প্রত্যাশা ছিল না। তাই শেষটুকু ছিল মাহমুদউল্লাহর একার লড়াই। দলীয় ৪২৯ রানে নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন তিনি। দশম ব্যাটসম্যান হিসেবে এবাদত আউট হতেই বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসও শেষ হয় ওই ৪২৯ রানেই।

   
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত