মজুরিকে কেন্দ্র করে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনের পর চার হাজার শ্রমিকের চাকরিচ্যুতির বিষয়টি স্বীকার করেছেন তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএ’র সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান। গতকাল রবিবার সংগঠনটির কার্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি জানান, চাকরিচ্যুত শ্রমিকের সংখ্যা চার হাজারের বেশি নয়। মিলার এই সংখ্যা ১১ হাজার বলে অভিযোগ করেন।
সিদ্দিকুর সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাংলাদেশে দায়িত্ব নেওয়ার পর রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত প্রথম সৌজন্য সাক্ষাতে এসেছিলেন। রাষ্ট্রদূত এ সময় জানতে চান, কোনো কোনো গণমাধ্যমে বলা হয়েছে সাম্প্রতিক অস্থিরতায় ১১ হাজারের বেশি শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যেসব শ্রমিক ছাঁটাইসহ চাকরি হারিয়েছে, তাদের সংখ্যা চার হাজারের নিচে। বিজিএমইএ’র নিজস্ব মনিটরিং, শিল্প পুলিশ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছ থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।’
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি আরও বলেন, ‘অ্যাকর্ডের (ইউরোপীয় অঞ্চলের ক্রেতাদের জোট) ব্যাপারে রাষ্ট্রদূত প্রশ্ন করেছিলেন। আমরা বলেছি, বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। নিষ্পত্তির জন্য আমরা চেষ্টা করছি।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে সিদ্দিকুর বলেন, ‘কিছু শ্রমিক ছাঁটাই হয়েছে। কেউ কেউ বিজিএমইতে আরবিট্রেশনের (সালিশি) মাধ্যমে বেতনভাতা নিয়ে চলে গেছে। আবার কেউ শোকজের পরে উত্তর না দিয়ে শ্রম আইন অনুসারে পাওনা নিয়ে চলে গেছে। আমরা সব গার্মেন্টসে নোটিস দিয়েছি, কোনোভাবেই কারখানার সামনে নাম টানিয়ে শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করা যাবে না। কোনো কোম্পানির মালিক আইনটি না জেনে এ ধরনের কাজ করেছেন। আমরা তাদের সতর্ক করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র আমাদের পণ্য রপ্তানিতে জিএসপি (অগ্রাধিকার খাত) বন্ধ করে দেয়। এ সময়ে মোট ১৬টি বিষয় বাস্তবায়ন করতে বলেছিল দেশটি। এর মধ্যে এ পর্যন্ত একটি ছাড়া সবগুলোর বাস্তবায়ন হয়েছে। এ অবস্থায় আমরা তাদের জিএসপি ফিরিয়ে দিতে বলেছি। পাশাপাশি জিএসপিতে গার্মেন্ট খাতকে অন্তর্ভুক্ত করতে বলা হয়েছে।’
বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ‘বর্তমানে আমরা পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় তুলা (কটন) আমদানিকারক দেশ। তাই যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানি করতে পারি। সেই তুলা দিয়ে পণ্য তৈরি করে আমরা দেশটিতে রপ্তানি করব। সে ক্ষেত্রে তারা আমাদের কী কী সুবিধা দিতে পারে, সে বিষয়ে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, রানা প্লাজার পর বাংলাদেশের শ্রমিক অধিকার ও মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়ন হয়েছে।’
