বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী

শাসক নয়, জনগণের সেবক হিসেবে দেশ পরিচালনা করতে চাই

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০১৯, ০৩:২৫ এএম

টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠনের সুযোগ পাওয়ায় দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমাদের সরকার শাসক নয়, সেবক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। দেশের সার্বিক উন্নয়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, যাবে। গতকাল রবিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজশাহী সেনানিবাসে বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টাল সেন্টারের (বিআইআরসি) ‘জাতীয় পতাকা প্রদান-২০১৯’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচনে সেনাবাহিনীর সদস্যরা নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে দেশের গণতান্ত্রিক ধারা সমুন্নত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। সেজন্য আপনাদের প্রতি ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে

 এমন দৃঢ় প্রত্যয় রেখে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ করেছি। সীমান্ত-বিরোধ নিষ্পত্তি করে আমরা ছিটমহলের সমস্যার সমাধান করেছি। আমরা সমুদ্রসীমা জয় করেছি। জলে, স্থলে ও আকাশসীমায় বর্তমানে আমাদের অবস্থান সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পতাকা হলো জাতির স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, সম্মান ও মর্যাদার প্রতীক। এই পতাকার মান রক্ষা করা সব সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব। পতাকার মর্যাদা রক্ষার জন্য যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে আপনারা সব সময় প্রস্তুত থাকবেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এ দেশের সম্পদ, দেশের মানুষের ভরসা ও বিশ্বাসের মূর্তপ্রতীক। তাই পেশাদারিত্বের কাক্সিক্ষত মান অর্জনের জন্য আপনাদের সকলকে সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে সৎ এবং মঙ্গলময় জীবনের অধিকারী হতে হবে। পবিত্র সংবিধান এবং দেশমাতৃকার সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার জন্য আপনাদের ঐক্যবদ্ধ থেকে অভ্যন্তরীণ কিংবা বাহ্যিক যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় সদাপ্রস্তুত থাকতে হবে। 

বেলা সোয়া ১১টার দিকে হেলিকপ্টারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজশাহী সেনানিবাসে পৌঁছান। এ সময় সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, কমান্ড্যান্ট বিআইআরসি ও ঊর্ধ্বতন সামরিক ব্যক্তিরা তাকে অভ্যর্থনা জানান। শহীদ কর্নেল আনিস প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রী বীর রেজিমেন্টের চারটি ব্যাটালিয়নকে বীরের জাতীয় পতাকা (ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড) প্রদান এবং প্যারেড পরিদর্শন করেন। অনুষ্ঠানে মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ প্রদর্শনী উপভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আধুনিক সশস্ত্র বাহিনীর রূপকার, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা ও ৩০ লাখ শহীদকে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর জাতির অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও জাতির পিতা একটি শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন। তার নির্দেশেই ১৯৭২ সালে কুমিল্লা সেনানিবাসে গড়ে তোলা হয় বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি। ১৯৭৪ সালেই একটি প্রতিরক্ষা নীতি প্রণয়ন করেন। তার সুদূরপ্রসারী ও প্রতিরক্ষা নির্দেশনার আলোকেই সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদাতিক বাহিনীর গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের পাশাপাশি পদাতিক বাহিনীর দ্বিতীয় রেজিমেন্ট প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন আমরাই সর্বপ্রথম উপলব্ধি করেছি। ১৯৯৯ সালে আমি বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্ট গঠনের ব্যাপারে নীতিগত অনুমোদন প্রদান করি। ২০০১ সালের ২১ এপ্রিল আমি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের পতাকা উত্তোলন করি। ২০১১ সালে আমি এ রেজিমেন্টকে মর্যাদাপূর্ণ জাতীয় পতাকা প্রদান করি। এই রেজিমেন্ট বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠিত একমাত্র রেজিমেন্ট। বর্তমানে এই রেজিমেন্টে দুটি প্যারা ব্যাটালিয়নসহ মোট ৪৩টি ইউনিট রয়েছে। এ রেজিমেন্টের সদস্যরা দেশ ও দেশের বাইরে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। এ সুনাম অক্ষুণ্ন রাখতে আপনারা একনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাবেন এটাই আমার প্রত্যাশা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় পতাকা পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করা যেকোনো ইউনিটের জন্য একটি বিরল সম্মান ও গৌরবের বিষয়। আজ স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক জাতীয় পতাকা আপনাদের হাতে তুলে দেওয়া হলো। এই সম্মান ও গৌরব অর্জন করায় আমি ৭৮৯ ও ১০ বীরকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন। কর্মদক্ষতা, কঠোর অনুশীলন এবং কর্তব্যনিষ্ঠার স্বীকৃতি হিসেবে যে পতাকা আজ আপনারা পেলেন তার মর্যাদা রক্ষার জন্য যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে আপনারা সব সময় প্রস্তুত থাকবেন। সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের চিকিৎসাসেবা ও আবাসনসহ বিভিন্ন কল্যাণমূলক সুযোগ-সুবিধা উন্নত ও বৃদ্ধি করা হয়েছে। সেনাসদস্যদের বেতন স্কেল বৃদ্ধি করেছি। সেনাসদস্যদের দুস্থ ভাতা ও ক্ষতিপূরণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করেছি। সেনাবাহিনীর জেসিওর পদকে দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে প্রথম শ্রেণি এবং সার্জেন্ট পদকে তৃতীয় শ্রেণি থেকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও অনেক কল্যাণমুখী কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন আছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা নারীর ক্ষমতায়নে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। সেনাবাহিনীতে ২০১০ সালে সর্বপ্রথম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে নারী অফিসার ও ২০১৩ সালে সর্বপ্রথম নারী সৈনিক ভর্তির যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সম্প্রতি সেনাবাহিনীর একজন নারী ডাক্তারকে মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে নারী কর্মকর্তাকে লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে পদোন্নতি প্রদান ও ইউনিট কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মহিলা পাইলট সংযোজন একটি নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অফিসার প্রথম নারী কন্টিনজেন্ট কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে দেশের জন্য সুনাম বয়ে এনেছে।

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, নৌবাহিনীর প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল এএমএমএম আওরঙ্গজেব চৌধুরী, বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনসহ স্থানীয় সংসদ সদস্যরা ও প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত