মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ঠাকুরগাঁওয়ে সেই ৫ জনের মৃত্যু ‘নিপাহ ভাইরাসে’

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০১৯, ০৩:৪৬ এএম

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে কয়েক দিনের ব্যবধানে একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যুর পেছনে নিপাহ ভাইরাস দায়ী বলে চিহ্নিত করেছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)। মৃতদের মধ্যে একজনের নমুনায় ভাইরাসটির উপস্থিতি মিলেছে। অন্যান্য জীবিত সন্দেহভাজন রোগীদের রক্তে অবশ্য ভাইরাসটি পাওয়া যায়নি।

আইইডিসিআরের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, মৃত ব্যক্তিদের সবার জ্বর, মাথাব্যথা, বমি ও মস্তিষ্কে ইনফেকশনের (এনসেফালাইটিস) উপসর্গ ছিল। গতকাল রবিবার ইনস্টিটিউটটির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তদন্ত দল প্রথম ব্যক্তির খেজুরের কাঁচা রস পান করার সুনির্দিষ্ট ইতিহাস পায়নি। তবে প্রথমজনের মাধ্যমে বাকি চারজন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিল বলে আইইডিসিআর ধারণা করছে। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে মৃত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করে তাদের স্বাস্থ্যের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

তিন সপ্তাহ আগে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ভান্ডারদহ মরিচপাড়া গ্রামের আবু তাহের (৫৫) হঠাৎ অসুস্থ হন। তার মধ্যে জ্বর, মাথাব্যথা, গলা বসে যাওয়াসহ নানা লক্ষ্মণ দেখা যায়। ৯ ফেব্রুয়ারি আবু তাহের মারা যান। একই উপসর্গ নিয়ে ১৫ দিনের ব্যবধানে তার দুই ছেলে ইউসুফ আলী (৩০) ও মেহেদী হাসান (১৭), স্ত্রী হোসনে আরা (৪৫) ও জামাতা হাবিবুর রহমান (৩৫) মারা যান।

আকস্মিক এই ঘটনায় ওই           

গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনা অনুসন্ধান করতে রোগের ধরন, প্রকোপ ও প্রাদুর্ভাবের ওপর নজরদারির প্রতিষ্ঠান আইইডিসিআর গত ২৫ ফেব্রুয়ারি পাঁচ সদস্যের একটি ‘আউটব্রেক ইনভেস্টিগেশন’ দল পাঠায়। পরে আরও চার সদস্যের আরেকটি দল মূল দলে যোগ দেয়। তদন্ত দলটি ১ মার্চ পর্যন্ত বালিয়াডাঙ্গী এলাকা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতাল, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করে এবং হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, মৃতদের ও মৃতের পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে।

এ অবস্থায় খেজুরের কাঁচা রস পানে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে আইইডিসিআর। ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মীরজাদী সেব্রিনা বলেন, বাদুড় খেজুরের কাঁচা রসে মুখ দিয়ে নিপাহ ভাইরাস সংক্রমিত করে। এরপর সেই রস পান করা ও আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার মাধ্যমে এই ভাইরাস দ্রুত ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার পর হাত-পা সাবান-পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। এ ছাড়া নিপাহ আক্রান্ত রোগীদের সেবায় স্বাস্থ্যকর্মী ও পরিবারের সদস্যদের মাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহার করতে হবে।

   
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত