উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে বগুড়ায় বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে বহিষ্কার আতঙ্ক বিরাজ করছে। গত রবিবার রাতে আরও ২৭ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এ নিয়ে কয়েক দিনের ব্যবধানে জেলার ৩০ বিএনপি নেতাকে বহিষ্কার করা হলো।
দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া এবং প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচনী কাজে অংশ নেওয়ার অভিযোগে তাদের বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় বিএনপি।
রবিবার রাতে বগুড়ার ২৭ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কারের খবর জানাজানি হলে নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থী, তাদের সমর্থক ও কর্মীদের মধ্যে শুরু হয় বহিষ্কার-আতঙ্ক। এরপর থেকে বিএনপির কোনো নেতাকর্মীকে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রচারে দেখা যাচ্ছে না।
বিএনপির কেন্দ্রীয় সহদপ্তর সম্পাদক বেলাল হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বগুড়া জেলা এবং জেলার বিভিন্ন উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের ২৭ নেতাকর্মীকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
দলীয় সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাফতুন আহম্মেদ খান রুবেল ও শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলামকে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অভিযোগে এবং জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মীর শাহে আলমকে এক প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার কারণে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এই বহিষ্কারাদেশ নিয়ে দলের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের অনেক নেতাকর্মী নির্বাচনে অংশ নিলেও তাদের সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে শুধুমাত্র ওই তিনজনকে বহিষ্কার করায় ক্ষুব্ধ হন অনেকেই।
এ অবস্থায় গত শনিবার জেলা বিএনপি জরুরি সভা আহ্বান করে। ওই সভা থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের একটি তালিকা করে তা কেন্দ্রীয় কমিটিতে পাঠানো হয়। একইসঙ্গে নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের পক্ষে কাজ না করতে দলের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে জেলা বিএনপি থেকে পাঠানো তালিকা অনুযায়ী গত রবিবার রাতে আরও ২৭ জনকে বহিষ্কার করে চিঠি পাঠায় কেন্দ্রীয় বিএনপি।
এরপর থেকে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ কিংবা কোনো প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে অংশ নেওয়া না নেওয়ার ব্যাপারে দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছেন নেতাকর্মীরা। নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া বিএনপি নেতাদের পক্ষের সমর্থক হিসেবে এখন আর কাউকে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার মাঠে দেখা যাচ্ছে না।
জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক পদ থেকে বহিষ্কৃত সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী মাফতুন আহম্মেদ খান রুবেল দলের এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘প্রথম পর্যায়ে দলের নেতাকর্মীদের চাপ এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতেই প্রার্থী হই। এখন দল আমার পাশে নেই, দলের কর্মী-সমর্থকদেরও আমার পক্ষে কাজ করতে নিষেধ করা হয়েছে।’ তিনি জানান, নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে না নামলেও তার পক্ষে নীরব প্রচারণা চালাবেন।
শিবগঞ্জ উপজেলা মহিলা দলের সভানেত্রীর পদ থেকে বহিষ্কৃত ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী বিউটি বেগম বলেন, ‘জনগণ আমার সঙ্গে আছেন। কিন্তু বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন দলের কিছু নেতা। আজ যারা এমনটি করছেন, নির্বাচিত হলে তারাই আবার বরণডালা নিয়ে আমাদের দলে ফিরিয়ে নেবেন।’
শাজাহানপুর উপজেলায় চেয়ারম্যান প্রার্থী বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা আবুল বাশার বলেন, ‘দল থেকে গণহারে বহিষ্কারের কারণে নেতাকর্মীরা অনেকটা আতঙ্কে রয়েছেন। প্রকাশ্যে না হলেও ভোটের সময় তারা পাশে থাকবেন।’
নেতাকর্মীদের বহিষ্কার বিষয়ে জানতে বগুড়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিএনপির সঙ্গে থাকতে হলে অবশ্যই দলীয় সিদ্ধান্ত মানতে হবে। যারা সিদ্ধান্তের বাইরে যাবেন, তাদের বিরুদ্ধে গঠনতান্ত্রিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় কমিটি যেভাবে নির্দেশ দিয়েছে, জেলা বিএনপি থেকে সেভাবেই কাজ করা হচ্ছে।
