বিআইডিএসের সেমিনারে বক্তারা

উন্নয়নে বিশ্বাসযোগ্যতা বড় প্রশ্ন

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০১৯, ১২:১৭ এএম

বাংলাদেশের উন্নয়নে বিশ্বাসযোগ্যতা এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন বলে উল্লেখ করেছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা অর্থনীতিবিদ ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ। তিনি বলেন, বিশ্বাসযোগ্যতা কেবল মানুষে মানুষে নয়; সরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও এটা হতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশ বিশ্বাসযোগ্যতায় অনেক পিছিয়ে।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) আয়োজিত ‘অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশের বিস্ময় ও চ্যালেঞ্জ’ নামের এক গবেষণামূলক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন উপলক্ষে সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘যখন কোনো বিশ্বাসযোগ্য ইলেকশন হবে না, একক দল এবং একক সরকার দেশকে নিয়ন্ত্রণ করবে, তখন সুশাসন কীভাবে নিশ্চিত হয়? অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, বিশ্বাসযোগ্যতা আমরা আনতে পারিনি। এটা অন্যতম চ্যালেঞ্জ।’

‘এগুলো এখন সরকারের ভাবার প্রয়োজন হয় না। এ দেশের শীর্ষ পর্যায়ের উদ্যোক্তারা এখন সরকারের হাতের মুঠোয়। এদেরকে সরকারের তোষামোদের প্রয়োজন হয় না। একক দল নিয়ন্ত্রিত শাসনব্যবস্থা হওয়ার কারণে অন্যান্য দলগুলোকে তোষামোদ করারও প্রয়োজন হয় না’Ñযোগ করেন তিনি।  

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, দেশের উন্নয়ন এভাবে করা যাবে, ২০ বছর আগে সেটাও অনেকে বিশ্বাস করতেন না। আমরা সেটা করে দেখাতে পেরেছি। এটা সত্যিই অলৌকিক। সরকারের ধারাবাহিকতা ও সঠিক নেতৃত্বের কারণে এটি সম্ভব হয়েছে।

‘সুশাসন নিয়ে সবাই কথা বলে। আমি মনে করি দারিদ্র্য বিমোচন, সামাজিক সুরক্ষা ও মানুষের দৈনন্দিন চাহিদা সঠিকভাবে পূরণ করতে পারলে সুশাসন এমনিতেই চলে আসবে। নেতৃত্বের জন্য গবেষণা হওয়া প্রয়োজন, একটা সঠিক নেতৃত্ব জাতিকে এগিয়ে দিতে পারে কি না, সেটাও জানা প্রয়োজন’ যোগ করেন মান্নান।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. ইয়াসোয়াকি সোয়াদা। তিনি বলেন, শিল্পায়ন, অবকাঠামো, ক্ষুদ্রঋণ ও নারীর ক্ষমতায়নে অনেক অর্জন সত্ত্বেও বাংলাদেশের সামনে চারটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এগুলো হলো- শহরায়ন, দুর্যোগ, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ঝুঁকি এবং সিনিয়র গবেষক ও বিআইডিএসের রিসার্চ ডিরেক্টর ড. বিনায়ক সেন বলেন, ‘সুশাসন গণতন্ত্র এবং বাড়তে থাকা বৈষম্য আমাদের ধারাবাহিকভাবে উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে যাচ্ছে। উন্নয়নের পথে এগুলো বড় বাধা। আর্থিক খাতে নতুন করে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। আর্থ-সামাজিক খাতে বাংলাদেশ এগিয়েছে ঠিকই, তবে এ খাতে বরাদ্দ অপ্রতুল। শিক্ষার উন্নয়ন ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে বৈষম্য কমানো সম্ভব। তবে রাজস্ব খাতে আমাদের নতুন কৌশল ধরতে হবে। সম্পদকর, সারচার্জ এবং কর ব্যবস্থাপনা উন্নতির মাধ্যমে রাজস্ব বাড়াতে হবে।’

বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘প্রত্যাশার তুলনায় বাংলাদেশের অর্জন বেশি। এখন সময় এসেছে অর্জনগুলোকে ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখার। কারণ আমাদের আকাক্সক্ষা বেড়েছে, চাহিদা বেড়েছে। আমাদের সমতুল্য অনেক দেশ যেমন চীন ও ভিয়েতনাম আমাদের চেয়ে বেশি এগিয়ে আছে। উন্নয়নের পথে ওরা কী কৌশল অবলম্বন করেছে, যা আমরা এখন পর্যন্ত করিনি। এ বিষয়গুলোর ওপর এখন দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন।’

এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন প্রকাশ বলেন, গত ১০ বছর প্রবৃদ্ধিতে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। ৯০ দশকের পর থেকে ৬০ শতাংশ দারিদ্র্য কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ। টেকসই উন্নয়নের পথে এ দেশ এখন সঠিক পথে আছে। তবে রপ্তানির স্বল্পতা ও পণ্যের বহুমুখীকরণের ঘাটতি বড় আশঙ্কার জন্ম দিচ্ছে।

জনশক্তির দক্ষতা বাড়ানো প্রয়োজন। কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার গুণগতমান বাড়ানো সম্ভব। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে উচ্চ অবকাঠামোগত সুযোগ সুবিধা, গুণগত স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার মাধ্যমে শহরে আসার পথ বন্ধ করতে হবে। তবে সম্পদের সুষম বণ্টন সম্ভব।’ জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ হিতোয়েসি হিরাতা, ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গর্ভনেন্স ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইমরান মতিন বক্তব্য দেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত