কম্বোডিয়া যাত্রায় নেই মামুনুল

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০১৯, ০৩:১৯ এএম

২৭ সদস্যের প্রাথমিক দল ঘোষণার পরই বর্ষীয়ান লেফটব্যাক ওয়ালি ফয়সালের বাদ পড়া নিশ্চিত হয়ে যায়। আর গতকাল কম্বোডিয়ার বিপক্ষে ৯ মার্চ ফিফা আন্তর্জাতিক ফ্রেন্ডলি ম্যাচের জন্য ঘোষিত ২৩ সদস্যের দলে জায়গা পাননি দীর্ঘদিন জাতীয় দলকে সার্ভিস দেওয়া মিডফিল্ডার মামুনুল ইসলাম। জাতীয় দলের ইংলিশ হেড কোচ জেমি ডে গতকাল মামুনুলসহ চার ফুটবলারকে বাদ দিয়ে গড়েছেন চূড়ান্ত দল। যেখানে শেষ মুহূর্তে জায়গা পেয়ে গেছেন আরেক অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার তৌহিদুল আলম সবুজ।

চট্টগ্রাম আবাহনী ছেড়ে এ মৌসুমে আবাহনীতে ফিরেছিলেন মামুনুল। বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের হয়ে অবশ্য নিয়মিত খেলার সুযোগ পাচ্ছেন না জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক। তাছাড়া ইনজুরিও বেশ কিছুদিন মাঠের বাইরে রেখেছিল তাকে। সুস্থ হয়ে ফিরলেও সেরা একাদশে জায়গা হচ্ছে না তার। গতকাল জেমি ডে অবশ্য মামুনুলের বাদ পড়ার পেছনে ফিটনেস ঘাটতিকেই বড় করে দেখছেন, ‘মামুনুল একজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড়। এই দলে তার মতো খেলোয়াড়ের প্রয়োজন ছিল। ফিটনেস ঘাটতির কারণে তাকে সঙ্গে নেওয়া যাচ্ছে না।’ ২০০৬ সালে জাতীয় দলে অভিষেকের পর পারফরম্যান্স কিংবা ফিটনেসের কারণে কখনো বাদ পড়তে হয়নি মামুনুলকে। তারুণ্যে আস্থা রাখা তরুণ কোচ জেমি ডের কাছে গতিটাই গুরুত্বপূর্ণ। সুবাদে তার দলে জায়গা না পাওয়াটা অনুমেয়ই ছিল। মামুনুল অবশ্য এখনই ক্যারিয়ারের শেষ দেখছেন না, ‘অবসর যখন নেব তখন সবাইকে জানিয়েই নেব। ফুটবল খেলাটা একটা লড়াই। সেই লড়াইয়ে এখনো আছি। এখনই সময় আসেনি শেষ বলার। প্রথমবারের মতো বাদ পড়লাম। তাই বলে আমি মোটেই কষ্ট পাইনি। আসলে ঘরোয়া ফুটবলে খেলার সুযোগ পাচ্ছি না বলেই নিজেকে প্রমাণ করতে পারিনি। ভবিষ্যতে নিশ্চয়ই সুযোগ আসবে।’

মামুনুলের ভাগ্য সুপ্রসন্ন না হলেও হয়েছে সবুজের ক্ষেত্রে। মামুনুলের মতো তিনিও তার দল বসুন্ধরা কিংসের সেরা একাদশে বলতে গেলে ব্রাত্য। তারপরও কোচ তাকে দলে নিয়েছেন শেষ মুহূর্তে আরামবাগের উঠতি লেফটব্যাক আরিফুর রহমানের ইনজুরির কারণে। চলতি লিগে পারফরম্যান্সের দিক দিয়ে এই তরুণ এগিয়ে ছিলেন অনেকটাই। কম্বোডিয়াতে জাতীয় দলের জার্সিতে অভিষেক অনেকটাই নিশ্চিত ছিল। কিন্তু প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে গ্রোয়েন ইনজুরি অপেক্ষায় রাখছে আরিফুরকে।

মামুনুল ও আরিফুর ছাড়া জেমির মূল দলে ঠাঁই হয়নি গোলকিপার মাজহারুল ইসলাম হিমেল এবং আবাহনীর মিডফিল্ডার সোহেল রানার। কম্বোডিয়া যাত্রার আগে ৩৮ বছর বয়সী জেমি ডে অবশ্য কিছুটা নির্ভার। তার মূল দলে তিনি পেয়ে গেছেন ইনফর্ম দুজন স্ট্রাইকার নাবীব নেওয়াজ জীবন ও মতিন মিয়াকে। আবাহনীর হয়ে ১০ ম্যাচে ৬ গোল করে জাতীয় দলে জায়গাটা নিশ্চিত করেছেন জীবন। আর বসুন্ধরা কিংসের হয়ে ৯ ম্যাচে ৪ গোল করার পাশাপাশি বেশকটি গোলের জোগান দিয়ে জেমির গুডবুকে মতিন মিয়া। কম্বোডিয়া যাত্রার আগে গতকাল এই ম্যাচ নিয়ে বলতে গিয়ে জেমি বলেন, ‘ম্যাচ হলে গোলের ব্যাপারটা বোঝা যাবে। তবে জীবন ও মতিন দারুণ খেলছে ঘরোয়া ফুটবলে। দুজনই গোল পাচ্ছে। সুবাদে দলের ফরোয়ার্ড লাইন আগের চেয়ে শক্তিশালী হবে। তারা গোল পেলে কম্বোডিয়া ম্যাচে বাংলাদেশ দলের চেহারা বদলে যাবে।’

প্রায় পাঁচ মাস পর জাতীয় দল নিয়ে কাজ করতে যাচ্ছেন জেমি ডে। সর্বশেষ বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের সেমিফাইনালে ফিলিস্তিনের কাছে হারের পর আর জাতীয় দলের খেলা ছিল না। মাঝের সময়ে ফুটবলাররা ব্যস্ত ছিলেন ঘরোয়া লিগ নিয়ে। তাই কোচ দলের ফিটনেস নিয়ে তেমন চিন্তিত নন, ‘আমাদের দলের চেহারাটা খুব ভালো ছিল গত বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে। তাদের ফিটনেসে অনেক উন্নতি হয়েছিল, খেলায় ছিল খুব লড়াকু মেজাজ। এরপর থেকে তারা ঘরোয়া ফুটবলের সঙ্গে আছে। সুতরাং ফিটনেস নিয়ে কোনো সমস্যা থাকার কথা নয়। তারা খেলার মধ্যেও আছে। এটা ইতিবাচক।’

বাংলাদেশ দল আজ কম্বোডিয়ার উদ্দেশে দেশ ছাড়বে। ৯ মার্চ ম্যাচের দুদিন পর সেখান থেকেই দলের একটা বড় অংশ সরাসরি চলে যাবে কাতারে। চলতি মাসেই বাহরাইনে এএফসি অনূর্ধ্ব-২৩ চ্যাম্পিয়নশিপ বাছাই পর্বকে সামনে রেখে সেখানে ১০ দিনের ক্যাম্প চলবে অনূর্ধ্ব-২৩ দলকে নিয়ে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত