দলীয়ভাবে একক প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হলেও বসে নেই বাকি মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে কক্সবাজারের ৮টি উপজেলার সবকটিতেই আলাদাভাবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে প্রতীক নিয়েছেন আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা। সহযোদ্ধারাই এখন প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে দাঁড়াচ্ছেন। প্রচারের মাঠে বিভক্ত হয়ে গেছেন দলীয় নেতাকর্মীরাও। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে প্রতি উপজেলায় একজন করে প্রার্থী মনোনীত হলেও অন্যদের নির্বাচনে দাঁড়াতে কোনো বাধা ছিল না। এই সুযোগে বাকি প্রার্থীরা উপজেলা পরিষদ নির্বাচন থেকে সরেনি। এ ব্যাপারে এখনো কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত না আসায় কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না জেলা আওয়ামী লীগ। আগামী ১৮ মার্চ চকরিয়া উপজেলা, ২৪ মার্চ রামু, মহেশখালী, পেকুয়া, উখিয়া, টেকনাফ, কুতুবদিয়া ও ৩১ মার্চ কক্সবাজার সদর উপজেলার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সর্বমোট ৮৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ২৬ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪৮ জন ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২৫ জন। প্রার্থীরা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী প্রচারে নেমেছেন। চকরিয়া উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী গিয়াস উদ্দিনের পক্ষে প্রচারে রয়েছেন অধিকাংশ নেতাকর্মী। একাংশ প্রকাশ্যে ও আরেকটি অংশ গোপনে প্রচার চালাচ্ছেন দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী ফজলুল করিম সাঈদীর পক্ষে। পেকুয়ায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ সদস্য জাহাঙ্গীর আলম। আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মীই প্রকাশ্যে ও গোপনে জাহাঙ্গীরের পক্ষে কাজ করছেন। এতে বেকায়দায় পড়েছেন দলীয় প্রার্থী আবুল কাসেম।
রামু উপজেলায় দলীয় প্রার্থী মোহাম্মদ রিয়াজুল আলমের বিপক্ষে লড়ছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সোহেল সরওয়ার কাজল। জেলা সদরে দলীয় প্রার্থী কাইছারুল হক জুয়েলের বিরুদ্ধে ভোটে লড়ছেন কক্সবাজার পৌরসভার চারবারের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল আবছার, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইশতিয়াক আহমদ জয়, ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইমরুল রাসেদ, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু তালেব, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান মাদু ও সোহেল জাহান চৌধুরী। উখিয়ায় দলীয় প্রার্থী অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছেন আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাহমুদুল হক চৌধুরী। আওয়ামী লীগ নেতা আবুল মনসুর চৌধুরীও নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। টেকনাফে অধ্যাপক মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে মাঠে রয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আলম এবং সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আলম। মহেশখালীতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোহাম্মদ হোছাইন ইব্রাহীমের বিরুদ্ধে মাঠে রয়েছেন উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক সাজেদুল করিম।
প্রত্যেক উপজেলায় দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল মোস্তফা বলেন, ‘এখনো বিদ্রোহী প্রার্থীদের ব্যাপারে করণীয় নিয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো নির্দেশনা আসেনি। আমরা কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি। তবে কোনো আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর নৌকা প্রতীকের বিপক্ষে যাওয়ার সুযোগ নেই।’
