ভারতীয় সাবমেরিন রুখে দেওয়ার দাবি পাকিস্তানের

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০১৯, ০৪:১১ এএম

রাজস্থানে পাকিস্তানের ড্রোন ভূপাতিতের দাবি ভারতের পাকিস্তানের জলসীমায় গত সোমবার রাতে ভারতীয় একটি সাবমেরিনের প্রবেশের চেষ্টা নস্যাতের দাবি করেছে ইসলামাবাদ। গতকাল মঙ্গলবার পাকিস্তান নৌবাহিনীর মুখপাত্র এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের জলসীমায় ভারতীয় সাবমেরিন প্রবেশ চেষ্টার খবর জানান বলে জানিয়েছে ডন। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ভারতীয় সাবমেরিনকে নিবৃত্ত করতে পাকিস্তানের নৌবাহিনী বিশেষ কৌশল অবলম্বন করে এবং পাকিস্তানের জলসীমা থেকে দূরে রাখে। পাকিস্তান   নৌবাহিনী তাদের আঞ্চলিক জলসীমা রক্ষায় সদা প্রস্তুত এবং যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের জবাব পুরোদমে দিতে সক্ষম।’ ২০১৬ সালের পর এ নিয়ে দ্বিতীয়বার ভারতীয় সাবমেরিন পাকিস্তানের জলসীমায় প্রবেশের চেষ্টা করে। পাকিস্তানের

জলসীমার আয়তন ১২ নটিক্যাল মাইল।

নৌবাহিনীর ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘পাকিস্তান নৌবাহিনী আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন ভারতীয় সাবমেরিন শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। সরকারের শান্তিপূর্ণ পদক্ষেপের কথা মাথায় রেখে পাকিস্তান নৌবাহিনী ভারতীয় ওই সাবমেরিনকে টার্গেট করেনি। এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভারতকে শান্তির পথে এগিয়ে আসা উচিত।’

এক সপ্তাহ আগে পরাশক্তিধর প্রতিবেশী এ দুই দেশের পাল্টাপাল্টি আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনার পর ফের সাবমেরিন প্রবেশ চেষ্টার ঘটনায় নতুন করে উত্তজনা শুরু হয়েছে। অবশ্য এখন পর্যন্ত সাবমেরিনের ঘটনায় ভারতের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

এদিকে ভারতের রাজস্থানে একটি পাকিস্তানি গোয়েন্দা ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি। প্রতিবেদনে বলা হয়, ড্রোনটি ভারতীয় রাডারে ধরা পড়ার পর সুখোই-৩০এমকেআই জঙ্গিবিমান আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য একটি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে এটিকে ভূপাতিত করে। এর আগে ২৬ ফেব্রুয়ারি গুজরাটের কচ্ছ অঞ্চলে আরেকটি পাকিস্তানি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছিল ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য স্পাইডার ক্ষেপণাস্ত্র পদ্ধতি ব্যবহার করে।

আন্তর্জাতিক চাপের মুখে এদিকে পাকিস্তান সরকার জইশ-ই-মোহাম্মদের প্রধান মাসুদ আজহারের দুই ভাই হামাদ আনসারি, আবদুল রউফ আজগরসহ সংগঠনের ৪৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী শাহরিয়ার আফ্রিদি এই গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করেন।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি কাশ্মীরের পুলওয়ামায় ভারতের কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনীর (সিআরপিএফ) গাড়িবহরে জঙ্গি হামলায় ৪৪ জন নিহত হয়। ওই হামলার পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে বিমান হামলা চালায় ভারতীয় বিমানবাহিনী। অভিযানের এক দিন পর ২৭ ফেব্রুয়ারি দুই দেশের আকাশসীমায় পাল্টাপাল্টি যুদ্ধবিমানের অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটে। পাকিস্তান ভারতীয় বিমানবাহিনীর দুটি বিমান ভূপাতিত এবং একজন পাইলটকে আটকের দাবি জানায়। অন্যদিকে, ভারতও পাকিস্তানের একটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি তোলে। পাকিস্তানি অনুপ্রবেশ ঠেকানোর সময় ভারতীয় একটি মিগ-২১ যুদ্ধবিমান ও অভিনন্দন বর্তমান নামে একজন পাইলট নিখোঁজ রয়েছেন বলে স্বীকার করে নয়া দিল্লি। আটক ওই পাইলটকে ফিরিয়ে দেওয়ার পর পরিস্থিতি শান্ত হলেও পাকিস্তানের জলসীমায় ভারতীয় সাবমেরিন অনুপ্রবেশের ঘটনা উত্তেজনা সৃষ্টি করছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত