চালু হচ্ছে ছোট কোম্পানির আলাদা বাজার

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০১৯, ১২:১৮ এএম

চলতি মাসেই স্বল্প মূলধনি কোম্পানির বাজারের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। নতুন তালিকাভুক্ত এসএমই কোম্পানি নিয়ে এ বাজার গঠিত হবে, যার নাম হবে ‘স্মল ক্যাপিটাল বোর্ড’। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এ বাজার ব্যবস্থা চালু হলে ছোট ও মাঝারি মানের কোম্পানিগুলোর জন্য মূলধন উত্তোলনের সুযোগ তৈরি হবে। সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও মূলধন সংকটে লোকসানে রয়েছে, এমন কোম্পানিও এ বাজারে তালিকাভুক্ত হতে পারবে।

ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, নতুন এ বাজার চালুর লক্ষ্যে এরই মধ্যের সব প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে এ বাজারের মাধ্যমে কিছু কোম্পানি মূলধন উত্তোলনে আগ্রহ দেখিয়েছে। চলতি মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে চালুর পর কোম্পানি তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে ঝুঁকি থাকায় সাধারণ বিনিয়োগকারীরা এসব কোম্পানিতে বিনিয়োগের সুযোগ পাবেন না। যোগ্য বিনিয়োগকারীর পাশাপাশি মার্কেট মেকার এবং এক কোটি টাকার বেশি সম্পদশালী প্রবাসী ও স্থানীয়রা এখানে বিনিয়োগের সুযোগ পাবেন। চলতি মাসে স্মল ক্যাপিটাল বোর্ড চালু হলেও এখানে লেনদেন শুরু হতে চার থেকে পাঁচ মাস সময় লাগতে পারে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এ এম মাজেদুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। চলতি মাসেই স্মল ক্যাপিটাল বোর্ড আনুষ্ঠানিকভাবে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। এজন্য একটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। তবে প্লাটফর্ম চালু হলেও এখনোই লেনদেন শুরু হবে না। কোম্পানি তালিকাভুক্ত হতে অন্তত তিন-চার মাস সময় লাগতে পারে। এর পরই লেনদেন শুরু হবে।

এদিকে ডিএসই স্মল ক্যাপিটাল প্লাটফর্ম চালুর উদ্যোগ নিলেও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) একেবারে লেনদেন শুরুর সময় এ ধরনের প্লাটফর্মের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করতে চায়।

এ বিষয়ে সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুর রহমান মজুমদার দেশ রূপান্তরকে জানান, স্মল ক্যাপিটাল বোর্ড সংক্রান্ত বিধিবিধানের গেজেট হয়েছে। কিন্তু এখনো রেগুলেশনের অনুমোদন দেয়নি বিএসইসি। আমাদের প্লাটফর্ম প্রস্তুত আছে। কিন্তু আমরা শুধুমাত্র প্লাটফর্মের উদ্বোধন করতে চাই না। কোম্পানি তালিকভুক্ত হওয়ার পর একবারে লেনদেন শুরুর সময় এসএমই বোর্ডের উদ্বোধন করবে সিএসই। এ বোর্ডে তালিকাভুক্তির জন্য আমরা এরই মধ্যে ইস্যু ম্যানেজারদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। আমরা আশা করছি, আগামী ছয়-সাত মাসের মধ্য স্মল ক্যাপিটাল বোর্ড চালু করতে পারব। 

জানা গেছে, কোয়ালিফাইড ইনভেস্টর অফার (কিউআইও) বা যোগ্য বিনিয়োগকারী প্রস্তাবের মাধ্যমে স্মল ক্যাপিটাল বোর্ডে কোম্পানিগুলো মূলধন সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু করবে। প্রক্রিয়াটি মূল শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির জন্য আইপিওর অনুরূপ প্রক্রিয়া। এ বাজারে তালিকাভুক্তির পর কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন সর্বনিম্ন ৫ কোটি টাকা থেকে অন্যূন ৩০ কোটি টাকার মধ্যে থাকতে হবে। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে কিংবা প্রিমিয়ামে মূলধন সংগ্রহের সুযোগ থাকবে। মুনাফায় থাকা কোম্পানির পাশাপাশি লোকসানি প্রতিষ্ঠানও অভিহিত মূল্যে ফিক্সড প্রাইস (স্থির মূল্য) পদ্ধতিতে তালিকাভুক্ত হতে পারবে। গ্রিনফিল্ড বা এখনো বাণিজ্যিক কার্যক্রমে আসেনি এমন কোম্পানিকেও এ বাজারের মাধ্যমে মূলধন উত্তোলন ও লেনদেন করার সুযোগ দেওয়া হবে। তবে এমন কোম্পানি শুধু অভিহিত মূল্যে মূলধন উত্তোলনের সুযোগ পাবে।

স্মল ক্যাপিটাল বোর্ডে প্রিমিয়ামে কোনো কোম্পানি মূলধন সংগ্রহ করতে চাইলে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে আবেদন করতে হবে। সেক্ষেত্রে কিউআইওর আগে কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন অন্তত ১০ কোটি টাকা থাকতে হবে ও বিএসইসির নিবন্ধিত রেটিং এজেন্সি দ্বারা ঋণমান সনদ নিতে হবে। এছাড়া সর্বশেষ দুই বছরে কোম্পানির পজিটিভ এনপিভি (নেট প্রেজেন্ট ভ্যালু) বা বিনিয়োগকারীর জন্য লাভজনক বিনিয়োগ থাকতে হবে।

এ বাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য আইনি বাধ্যবাধকতা মূল বাজারের তুলনায় কম হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে পুঁজিবাজারমুখী করতেই এ ছাড় দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে এ বাজারে তালিকাভুক্ত হতে পারে এমন বেশ কিছু কোম্পানির সঙ্গে ডিএসইর যোগাযোগ হয়েছে। ছোট কোম্পানিগুলোকে আকৃষ্ট করতে এসএমই ফাউন্ডেশনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তবে এখনো কোনো কোম্পানি প্রসপেক্টাস জমা দেয়নি। জানা গেছে, এসএমই প্লাটফর্ম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের পর কোম্পানিগুলো প্রসপেক্টাস জমা দেওয়া শুরু করবে। এক্ষেত্রে মূলধন সংগ্রহের আবেদন জমার ২০ কার্যদিবসের মধ্যে স্টক এক্সচেঞ্জ প্রাথমিক সুপারিশ পাঠাবে বিএসইসিতে এবং অতিরিক্ত তথ্যের জন্য আরও ১০ কার্যদিবস সময় পাবে। কোম্পানির প্রাথমিক আবেদনের পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে বিএসইসি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত