দেড় লাখ কোটি টাকার সৌদি বিনিয়োগ আসছে

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০১৯, ০৩:৪১ এএম

সৌদি আরবের কাছ থেকে জ্বালানি, বিমান চলাচল, সৌরবিদ্যুৎ, সিমেন্ট, কৃষি ও দক্ষ জনশক্তিসহ বিভিন্ন খাতের অন্তত ১৬টি প্রকল্পে প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ প্রত্যাশা করছে বাংলাদেশ। দেশটির দুই মন্ত্রীর নেতৃত্বে ৩৪ সদস্যের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক সামনে রেখে গতকাল বুধবার রাজধানীতে সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষ (বিডা)।

বিডা চেয়ারম্যান কাজী আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, সৌদি আরবের বাণিজ্য ও বিনিয়োগমন্ত্রী মাজেদ বিন আব্দুল্লাহ আল কাসাবি এবং অর্থনীতি ও পরিকল্পনামন্ত্রী মোহাম্মেদ বিন আলতোয়াজরির নেতৃত্বে ৩৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রিয়াদ থেকে ঢাকায় আসছে। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের পরিচালনায় দেশটির ‘পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের’ কর্মকর্তারা এই দলে আছেন। আজ বৃহস্পতিবার তাদের সঙ্গে দেশের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদলের বৈঠক হবে। পরে বিভিন্ন প্রকল্পে বিনিয়োগে চুক্তি ও সমঝোতা সই হবে।

তিনি বলেন, ‘১৬টি প্রকল্পে বিনিয়োগের আশা করছি। প্রকল্প নিয়ে তাদের বেশ আগ্রহ আছে। সব মিলিয়ে ১৫-২০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ হবে বলে আশা করছি। গত মাসে তাদের একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফরে এসে প্রকল্পগুলোর বিষয়ে আগ্রহের কথা জানান। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরপর চারবার সৌদি আরব সফর করেন। তখন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বিনিয়োগের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তারই অংশ হিসেবে এই বিনিয়োগ হচ্ছে।’

দেশ রূপান্তরের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এর আগে কোনো দেশ থেকে বাংলাদেশে একসঙ্গে এই পরিমাণ বিনিয়োগ আসেনি। একক দেশ হিসেবে এটাই হবে সর্বোচ্চ বিনিয়োগ।’

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে ‘সৌদি আরব-বাংলাদেশ বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সহযোগিতা’ বিষয়ক সংলাপ হবে। এ সময় বলা হয়, বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের সরকার ও প্রতিনিধিদের মাঝে এর আগে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে, কিন্তু মন্ত্রী পর্যায়ে সফর ও সংলাপ হচ্ছে এই প্রথম। দলটির সঙ্গে ১৬টি প্রকল্প নিয়ে সংলাপে বসবেন বাংলাদেশ সরকারের ও রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। তাদের মধ্যে কয়েকটিতে চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হবে।

বিডা চেয়ারম্যান বলেন, বিশ্বব্যাপী বিমান পরিচালনা ব্যবসার সম্ভাবনার মধ্যে এয়ারলাইন্সের বর্ধমান চাহিদা বিবেচনায় সৌদি আরব বাংলাদেশে একটি উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণ (এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স) কারখানা স্থাপন করবে। এতে আশপাশের দেশগুলো থেকেও উড়োজাহাজ মেরামতের কাজ পাওয়া যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। লালমনিরহাটে এই প্রকল্পের জন্য প্রায় ১০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে পারে সৌদি আরব।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বিডা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সৌদিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ ও অর্থনৈতিক কাউন্সিলর মোহাম্মদ আবুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।

গোলাম মসীহ বলেন, ৩০ বছর আগে ইসলামী ব্যাংকে বিনিয়োগ ছাড়া বাংলাদেশে সৌদি আরবের আর কোনো বিনিয়োগ ছিল না। এখন সেখানে ২২ লাখ বাংলাদেশি বসবাস করে; কর্মসংস্থানের আশায় যায় প্রতি মাসে ২০ হাজার মানুষ সেখানে। তাই বাংলাদেশের বিনিয়োগে সৌদি যুবরাজের আলাদা আগ্রহ আছে। এজন্য সৌদি বড় বড় মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির ১৭ জন ব্যবসায়ীও প্রতিনিধিদলে আছেন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ইউরোপ ও আমেরিকায় সৌদি আরবের বিনিয়োগ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এখন তারা পূর্বের দিকে ঝুঁকেছে এবং বাংলাদেশ এর জন্য সবচেয়ে সঠিক জায়গা। গত মাসেই ক্রাউন প্রিন্স ভারত, পাকিস্তান ও চীন ঘুরে যাওয়ার পর দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে বিনিয়োগ চুক্তি করছে সৌদি আরব।

অর্থনৈতিক কাউন্সিলর মোহাম্মদ আবুল হাসান বলেন, বছরে ৪০০ প্রশিক্ষিত বায়ো-মেডিকেল টেকনিশিয়ান তৈরিতে কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমএটি) ময়মনসিংহ ও জামালপুর ট্রেনিং সেন্টারে বিনিয়োগ করবে সৌদি আরব, যারা সৌদিতে গিয়ে চাকরি পাবেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উচ্চ পর্যায়ের এক সভার কার্যবিবরণীর তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানি তেল পরিশোধনে বিনিয়োগে বাংলাদেশের একমাত্র কোম্পানি রাষ্ট্রায়ত্ত ইস্টার্ন রিফাইনারি ও সৌদি আরবের মালিকানাধীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল কোম্পানি আরামকোর মধ্যে, সেবার মান বাড়াতে রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল কোম্পানি টেলিটকের সঙ্গে, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও সৌদি আরবের আল সালাম এরোস্পেসের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি হতে পারে। এছাড়া সৌদি আরবে প্রতিরক্ষা খাতে বাংলাদেশি নির্মাণ শ্রমিক নিয়োগে আল বাওয়ানি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি হবে। এর বাইরে আরও কয়েকটি খাতে সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ চুক্তি হতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত