মঞ্চ বানিয়ে ছাত্রলীগের প্যানেল পরিচিতি

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০১৯, ০৩:৪৫ এএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ছাত্রলীগ মঞ্চ তৈরি করে ইশতেহার ঘোষণা এবং প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলে প্রচারে গেলে ছাত্রদলের নেতাকে বাধা দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে মঞ্চ স্থাপন করে ডাকসুর কেন্দ্রীয় সংসদে নিজেদের দলীয় প্যানেলের পরিচিতি সভা করেছে ছাত্রলীগ। সভা সঞ্চালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইন। সম্মিলিত শিক্ষার্থী সংসদ নামে ছাত্রলীগের ২৫ সদস্যের প্যানেল পরিচয় করিয়ে দেন কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ডাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন।

পরে একে একে প্রার্থীরা নিজেদের পরিচয় দিয়ে নির্বাচিত হলে কী কী করবেন তা তুলে ধরেন এবং নিজেদের ব্যালট নম্বর উল্লেখ করে শিক্ষার্থীদের কাছে ভোট চান। প্যানেলের প্রার্থীদের পরিচয়পর্ব শেষে ছাত্রলীগের ডাকসু নির্বাচনের ইশতেহার উপস্থাপন করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর কেন্দ্রীয় সংসদে প্যানেলটির জিএস প্রার্থী গোলাম রাব্বানী।

ছাত্রলীগের ইশতেহারে অঙ্গীকারগুলোর মধ্যে রয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে পূর্ণাঙ্গ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের রূপরেখা প্রণয়ন ও আপৎকালীন সমাধান হিসেবে দ্বিতল বা ত্রিতল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের সিঙ্গেল সিটের নিশ্চয়তা, সন্ধ্যাকালীন বাণিজ্যিক কোর্স ও সাত কলেজের অধিভুক্তির বিষয়টি পুনর্বিবেচনা, গবেষণাধর্মী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কার্যক্রমকে অটোমেশনের আওতায় আনা, অযৌক্তিক সব বর্ধিত ফি বাতিল, ক্যাম্পাসে গণপরিবহন নিয়ন্ত্রণ, ক্যাম্পাসে রিকশা ভাড়া নির্ধারণ, মাদকমুক্ত ক্যাম্পাস, আধুনিক গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ, শিক্ষা সফরের জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, বিশ্ববিদ্যালয়ের মোতাহার হোসেন ভবন ও মোকাররম ভবনে ক্যাফেটেরিয়া স্থাপন, সব শিক্ষার্থীর জন্য স্বাস্থ্যবীমা চালু, হলের পাঠকক্ষে আসন বৃদ্ধি, সমতাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, ক্যান্টিনের পুরনো নিয়ম পরিবর্তন, নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিবছর বর্ণাঢ্য নবীনবরণের আয়োজন ইত্যাদি।

ডাকসু নির্বাচনের আচরণবিধির ৭ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে কোনো ছাত্রসংগঠন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী গেট, তোরণ নির্মাণ, প্যান্ডেল, ক্যাম্প, শামিয়ানা, মঞ্চ স্থাপন ও আলোকসজ্জা করতে পারবে না।’

এ বিষয়ে জানতে ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে ফোন কল দিলেও তারা রিসিভ করেননি। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘এটি মঞ্চ ছিল না। এটি ছিল একটি পাটাতন। মঞ্চ হলে সেটি আরও উঁচু হতো। প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমতি নিয়েই আমরা পরিচিতি সভা করেছি।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে ডাকসু নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও আন্তর্জাতিক ব্যবসা বিভাগের অধ্যাপক এসএম মাহফুজুর রহমানের ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক একেএম গোলাম রব্বানী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাকে কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। দিলে ব্যবস্থা নেব।

ছাত্রদল নেতাকে প্রচারে বাধার অভিযোগ

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর ১২টার দিকে বিজয় একাত্তর হলের গেট থেকে হল সংসদ ছাত্রদলের জিএস প্রার্থী বজলুর রহমান বিজয়কে ডেকে নিয়ে ছাত্রলীগের হলের জিএস প্রার্থী নাজমুল হাসান নিশান ‘ছাত্রদল হলে প্রচার চালাতে পারবে না’ বলে জানায়। তারা তার হাতে থাকা প্রচারের স্টিকার ও লিফলেট কেড়ে নেয়।

বজলুর রহমান বিজয় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি বিজয় একাত্তর হলে দুপুরের দিকে গেলে ছাত্রলীগের জিএস প্রার্থী নিশান আমার গায়ে হাত তোলে। আমার হাত থেকে প্রচারের লিফলেট, স্টিকার কেড়ে নেয়। জুনিয়রদের ডেকে বলে, এগুলো আগুনে পুড়িয়ে দিতে। আমি সাথে সাথে হল রিটার্নিং অফিসারকে বিষয়টি জানাই। লিখিত অভিযোগও দিই।’

জানতে চাইলে হল রিটার্নিং অফিসার ড. শাহ মোহাম্মদ মিরান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ছাত্রদলের একটা প্রচারে বাধা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা অস্বীকার করেছে। তবুও আমরা তাকে মৌখিকভাবে সতর্ক করেছি। ছাত্রলীগ নেতা নাজমুল হাসান নিশানের মোবাইলে কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত