করিম দাদ সিকদারের বয়স ৯১ বছর। কক্সবাজারের মহেশখালী থানায় ১৯৯১ সালের ২৫ আগস্ট দায়ের হওয়া হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি তিনি। ২০ বছরের বেশি সময় কক্সবাজার জেলা কারাগারে বন্দি করিম। বয়সের ভারে ন্যুব্জ নবতিপর এ ব্যক্তির একান্ত ইচ্ছা নিজের ভিটায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার। স্বজনরাও চাইছেন করিম দাদকে বাড়িতে দেখতে। তাদের সে স্বপ্ন সত্যি হচ্ছে। এবারের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে কারাগার থেকে মুক্তি পেতে যাচ্ছেন তিনি। শুধু করিমই নন, স্বাধীনতা দিবসে তার মতো চলতে-ফিরতে অক্ষম ও সদাচরণ করা আরও ২২ জনকে দেশের ১১টি কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ ও কারা অধিদপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে।
করিম দাদের মুক্তির বিষয়ে কক্সবাজার জেলা কারাগারের জ্যেষ্ঠ কারা তত্ত্বাবধায়ক বজলুর রশীদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত করিম দাদ সিকদারকে মুক্তি দেওয়ার বিষয়ে প্রক্রিয়া চলছে। আশা করছি আগামী ২৬ মার্চের আগেই তিনি মুক্তি পাবেন।’
সুরক্ষা সেবা বিভাগের যুগ্ম সচিব (কারা অনুবিভাগ) সৈয়দ বেলাল হোসেন গতকাল বুধবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘স্বাধীনতা দিবস ও ঈদে লঘুদণ্ডে দণ্ডিত এবং অচল ও অক্ষম কারাবন্দিদের মুক্তি দেওয়া হয়। এবার অক্ষম, অচল ও লঘুদণ্ডে দণ্ডিত কিছু কয়েদিকে মুক্তি দেওয়ার কাজ চলছে। এখনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি, তাই সংখ্যা বলা যাচ্ছে না। কারামুক্তির সুপারিশ করে আইন মন্ত্রণালয়ে একটি তালিকা পাঠানো হয়েছে। তাদের মতামত পাওয়ার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘অচল অক্ষমদের পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধা কারাবন্দিদের মুক্তির বিষয়েও কাজ চলছে।’
প্রাপ্ত নথি অনুযায়ী, এবার দেশের ১১টি কারাগার থেকে ২৩ কয়েদিকে মুক্তি দেওয়ার কাজ চলছে। তার মধ্যে সর্বাধিক পাঁচ কয়েদি মুক্তি পাচ্ছেন রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে। আর সিলেট কারাগার থেকে মুক্তি পাবেন চারজন। এই ২৩ জনের বাইরে মুক্তিযোদ্ধা কারাবন্দিদের একটি তালিকা করে তাদের মুক্তিরও প্রক্রিয়া চলছে। এই তালিকায় শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা বন্দির নাম আছে। চূড়ান্ত যাচাই-বাচাই শেষে তাদের নামের তালিকা চূড়ান্ত করা হবে।
মুক্তির তালিকায় যারা : মুক্তি পেতে চলা কয়েদিদের মধ্যে রয়েছেন কুষ্টিয়া জেলা কারাগার থেকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল মামলার আসামি মহর আলী (৬৭), রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সেশন মামলার আসামি খলিল মৃধা (৭৫), সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া থানার মামলার আসামি আমানত আলী ওরফে আমানত মেম্বার (৭০), পুঠিয়া থানার মামলার আসামি আবদুস সাত্তার (৮৩), নওগাঁর মান্দা থানার মামলার আসামি তালেব (৫৩), লালমনিরহাট থানার বিশেষ মামলার আসামি সুফলা খাতুন (৪৩), ময়মনসিংহ কারাগারের গফরগাঁও থানার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল মামলার আসামি ইলিয়াস (৫৭), শেরপুরের নালিতাবাড়ী থানার মামলার আসামি আবদুল জলিল (৫৫), বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া থানার সেশন মামলার আসামি সাফায়েত তালুকদার (৭৯), একই কারাগারের কয়েদি সেশন মামলার আসামি সুলতান বেপারী (৫৮), পটুয়াখালীর গলাচিপার সেশন মামলার আসামি আবদুল খালেক ঘরামি (৬৯) ও বরিশালের বাকেরগঞ্জ থানার সেশন মামলার আসামি হাকিম হাওলাদার (৭৭)। এছাড়া চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের বাঁশখালী থানার মামলার আসামি দেলা আহম্মদ (৬৭), সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের জগন্নাথপুর থানার মামলার আসামি আবদুল আহাদ ওরফে আহাদ (৭৯), মৌলভীবাজার সদর থানার দ্রুত বিচার আইনের মামলার আসামি আবদুল মান্নান (৭০), কুলাউড়া থানার দ্রুত বিচার আইনের মামলার আসামি আবদুল করিম ওরফে আবুল মিয়া (৭১), একই থানার মামলার আসামি তৈয়ব আলী (৭৬), সিলেটের গোলাপগঞ্জ থানার মামলার আসামি আঙ্গুর নেছা (৭৪), কুড়িগ্রাম জেলা কারাগারে থেকে উলিপুর থানার জিআর এসটি মামলার আসামি কাসেম আলী (৮৪), ফেনী জেলা কারাগারের দায়রা মামলার আসামি আবদুল কালাম (৬৩), বগুড়া জেলা কারাগারে বগুড়া থানার মামলার আসামি মো. সোলেমান (৮০) ও যশোর জেলা কারাগারের কয়েদি জীবননগর থানার জিআর মামলার আসামি মো. হাফিজুর রহমান (৪১) মুক্তি পেতে চলেছেন।
