অজস্র নারীর দুঃখ কাশ্মীর

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০১৯, ০৪:১৯ এএম

রাত পোহালেই বিশ্ব নারী দিবস। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নারীদের অধিকার নিয়ে সরব হয়ে উঠবে বহু সংগঠন। কিন্তু কাশ্মীরের বিপন্ন নারীদের কথা বলবে না কেউ। কারণ তারা ভারত ও পাকিস্তানের রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের মাঝখানে প্রশ্নবোধক চিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কাশ্মীরি নারীদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মতো কেউ নেই।

ভারত ও পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের উভয় অংশেই আঞ্চলিক দ্বন্দ্বের বলি নারীরা। অধিকাংশ নারীই হয় তাদের স্বামী, নয়তো সন্তান অথবা পিতাকে হারিয়েছে বহু বছর ধরে চলা রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝে। এদের মধ্যে প্রায় পনের শ’ নারী আছেন যারা জানেন না তাদের স্বামী জীবিত আছেন নাকি মারা গেছেন। দিনের পর দিন অপেক্ষা আর উৎকণ্ঠায় দিন কাটে তাদের।

আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত তিন দশকে কাশ্মীর নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের দ্বন্দ্বে ৭০ হাজারের বেশি কাশ্মীরি মারা গেছেন। যদিও কাশ্মীরের বিভিন্ন অধিকারবিষয়ক সংস্থা মৃতের সংখ্যা এক লক্ষাধিক বলে দাবি করে। কারণ হিসেবে তারা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কাশ্মীরি নিখোঁজ থাকার বিষয়টি সামনে আনেন। শোকে বিধ্বস্ত কাশ্মীরি নারীদের মধ্যে একজন খুরশি। একমাত্র সন্তান মানজুর আহমেদকে হারিয়ে প্রায় নির্বাক হয়ে গেছেন তিনি। ২০১৮ সালের শুরুতে জম্মুতে সুনজুয়ান হামলায় জঙ্গিদের হাতে মারা যায় আহমেদ। খুরশির মেয়ে বলেন, ‘মা শুধু ভাইয়ার কথা জানতে চায়, তিনি এখনো জানেন না ভাইয়া মারা গেছে। ছেলের ফোনের অপেক্ষায় থাকেন সারা দিন।’

এমনি আরেক নারী নাজবা বানু। তিন সন্তানকেই হারিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমার তিন বিদ্রোহী সন্তানকে হারিয়েছি। ওদের মধ্যে একজন বিদ্রোহীদের জন্য খাবার দিতে গিয়ে এনকাউন্টারে মারা যায়।’ এই নাজবা বানুরই স্বামী তিন বছর আগে মারা যান। ৮৩ বছর বয়সে ভয়ংকর নিঃসঙ্গ জীবন যাপন করছেন তিনি।

স্বামী, সন্তান হারিয়ে অনেক নারীই ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছেন। স্বাভাবিক জীবনে তারা ফিরে আসতে পারছেন না। কাশ্মীরের স্থানীয় মনোবিদ আরিফ মাগরিবি খান বলেন, ‘২০১৬ সালের পর মানসিক ভারসাম্য হারানো নারীদের সংখ্যা বাড়ছে। যখন একজন নারী তার পরিবারের সদস্যকে হারান, সেই আঘাত থেকে অনেক ক্ষেত্রেই সারা জীবনে আর তিনি বের হতে পারেন না।’

২০১৬ সালে ‘বিদ্রোহী কমান্ডার’ বুরহান ওয়ানি ভারতীয় বাহিনীর হাতে নিহত হওয়ার পর কাশ্মীরের পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপের দিকে যায়। ওয়ানির জানাজার দিন কাশ্মীরের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী উপস্থিত হয়েছিলেন সোপিয়ান জেলায়। এই জেলার পার্শ্ববর্তী জেলার নাম পুলওয়ামা। ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের এই দুই জেলাকে মূল বিদ্রোহী অঞ্চল দাবি করে ভারতীয় প্রশাসন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত