খালেদাকে মুক্ত করা হবে দুর্বার আন্দোলনে : ফখরুল

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০১৯, ০৪:২০ এএম

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি সংগঠন শক্তিশালী করে দুর্বার আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা হবে। গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা এবং নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে দলটি আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এ কথা বলেন।

বেলা ১১টা থেকে এক ঘণ্টার এ কর্মসূচিতে অংশ নিতে সকাল থেকেই নেতাকর্মীরা প্ল্যাকার্ড-ব্যানার নিয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। তাদের ভিড়ে মানববন্ধন এক পর্যায়ে সমাবেশে রূপ নেয়। এ কর্মসূচি সামনে রেখে সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করেছে। এখন সংগঠন শক্তিশালী করে আন্দোলনের মাধ্যমে পুনরায় নির্বাচন দিতে সরকারকে বাধ্য করা হবে। সবার আগে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এজন্য আইনি লড়াই চলছে। পাশাপাশি রাজপথে দুর্বার আন্দোলন করে তাকে মুক্ত করতে হবে। আন্দোলন ছাড়া খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে না, সরকার মুক্তি দেবে না।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, খালেদা জিয়া কারাগারে অত্যন্ত অসুস্থ। ক্ষমতাসীন অবৈধ সরকার তাকে সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত রেখেছে। সব মামলা জামিনযোগ্য হলেও শুধু সরকারের প্রতিহিংসার কারণে তাকে মুক্ত করা যাচ্ছে না। সরকার খালেদা জিয়াকে ভয় পায় দাবি করে তিনি বলেন, কারণ কারাগারে যাওয়ার পর তিনি গণতন্ত্রের মাতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। তারা খালেদাকে এতটাই ভয় পায় যে, তারা ভাবে তাকে সুচিকিৎসা দিলেও তাদের ক্ষমতা হারাবে।

সারা দেশে দলীয় নেতাকর্মীরা নির্যাতনের শিকার অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৯৮ লাখ মামলা হয়েছে। আসামি করা হয়েছে ২৫ লাখ নেতাকর্মীকে।

সদ্যসমাপ্ত ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচন জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে দাবি করে তিনি বলেন, সিটি নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে যায়নি, কারণ এই সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি জনগণের আস্থা নেই। তারা নির্বাচন ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দিয়েছে।

খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবনতির জন্য সরকারকে দায়ী করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, সরকারের উচিত ছিল তাদের নিজেদের উদ্যোগে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। কিন্তু তারা তা করেননি, বিএনপিকে হাইকোর্ট পর্যন্ত যেতে হয়েছে। হাইকোর্ট থেকে নির্দেশ নিতে হয়েছে মেডিকেল বোর্ড করার। মেডিকেল বোর্ড নানা রকম বিশ্লেষণ করে সুপারিশ করেছে কী ধরনের চিকিৎসা তার প্রয়োজন। কিন্তু আজ পর্যন্ত সেই সুপারিশ সরকার বাস্তবায়ন করেনি।

মানববন্ধনে পরবর্তী কর্মসূচির জন্য বিএনপিকে পুলিশের অনুমতি না চাওয়ার আহ্বান জানান গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান বেগম সেলিমা রহমান, শামসুজ্জামান দুদু, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, সহ-প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলীম প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত