বাংলাদেশের থিয়েটারচর্চায় নারীর অংশগ্রহণ কম। কোনো কোনো নাট্যদলে ৫০ জনেরও বেশি পুরুষ সদস্য থাকলেও সেখানে নারী সদস্য আছেন ৬/৭ জন। নাট্যচর্চার ইতিহাস বলে শুরু থেকেই নারীর সংকটে ভুগছে নাট্যদলগুলো। কিন্তু যে অল্পসংখ্যক নারী মঞ্চে যুক্ত হয়ে কাজ করছেন তারা যে দক্ষতায় অন্যদের চাইতে এগিয়ে সেটা প্রমাণ হয় একক অভিনীত নাটকের দিকে তাকালে। মঞ্চে একক অভিনীত নাটকে পুরুষের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন নারীরা। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে সব মিলিয়ে ২০টি একক অভিনীত নাটকের মধ্যে ১৭টিই নারী অভিনীত।
১৯৮৯ সালে প্রথম একক অভিনীত নাটক মঞ্চায়িত হয় আবদুল্লাহ আল মামুনের রচনা ও নির্দেশনায় ‘কোকিলারা’। দুই ঘণ্টা ব্যাপ্তির এই নাটকটিতে একক অভিনয় করেন ফেরদৌসী মজুমদার। ‘কোকিলারা’র মধ্য দিয়ে সূচনা হয় বাংলাদেশের নাট্যমঞ্চে নারী অভিনেত্রীদের একক অভিনীত নাটক।
রোকেয়া রফিক বেবী এবং জ্যোতি সিনহা অভিনয় করেছেন দুটি করে একক নাটকে। বেবী অভিনীত একক নাটকের মধ্যে রয়েছে ‘গোলাপজান’ ও ‘রিকুয়েস্ট কনসার্ট’। জ্যোতি সিনহা অভিনীত একক নাটকের মধ্যে রয়েছে ‘কহে বীরাঙ্গনা’ ও ‘হ্যাপি ডেইজ’।
এছাড়া নারী অভিনেত্রীদের একক নাটকের মধ্যে রয়েছে- শিমূল ইউসুফের ‘বিনোদিনী’, লাকী ইনামের ‘আমি বীরাঙ্গনা বলছি’, মুনিরা ইউসুফ মেমীর ‘ফুলরানী আমি টিয়া’, ফেরদৌসী আবেদিনের ‘স্ত্রীর পত্র’, মোমেনা চৌধুরীর ‘লাল জমিন’, নাজনীন হাসান চুমকীর ‘সীতার অগ্নিপরীক্ষা’, সামিউন জাহান দোলার ‘নভেরা’, শামছি আরা সায়েকার ‘গহনযাত্রা’, রোজী সিদ্দিকীর ‘পঞ্চনারী আখ্যান’, জুয়েনা শবনমের ‘হেলেন কেলার’, রওশন জাহান রুশনীর ‘বীরাঙ্গনার বয়ান’ এবং দীপ্তা রক্ষিত অভিনীত ‘আমার আমি’। যার মধ্যে মোমেনা চৌধুরী অভিনীত ‘লাল জমিন’ নাটকটি ২০০তম প্রদর্শনীর দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। এটিই বাংলাদেশের সর্বাধিক মঞ্চায়িত একক নাটক।
অন্যদিকে পুরুষ অভিনেতাদের একক নাটকের মধ্যে রয়েছে মামুনুর রশীদ অভিনীত ‘দ্য ডিসটেন্ট নিয়ার’, খন্দকার শাহ আলম অভিনীত ‘আমি’ এবং রফিক নটবর অভিনীত ‘আমি রফিক বলছি’। একক নাটকের অনুপ্রেরণায় দলগুলোতে নারী শিল্পীদের সংখ্যা বাড়ুক। সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণে আমাদের নাট্যাঙ্গন মুখরিত থাকুক।
