আমরা সাধারণত সুন্দরী নায়িকাদের বড় পর্দায় গ্ল্যামারাস রূপেই দেখতে পছন্দ করি। তবে তারা যখন সিনেমার মুখ্য ভূমিকায় শক্তিশালী নারী চরিত্রে রূপদান করেন তখন আমরা বেশি আবেগতাড়িত হই। এজন্য নারীকেন্দ্রিক সিনেমা বেশিরভাগ সময়ই ব্যবসায়িক সফলতার পাশাপাশি সমালোচকপ্রিয় হয়ে ওঠে। বিশ্ব নারী দিবসে হলিউডে নারীকেন্দ্রিক সেরা ১০ অনুপ্রেরণাদায়ী সিনেমা নিয়ে এই আয়োজন সাজিয়েছেন মাসিদ রণ
দ্য ডেভিল ওয়্যারস প্রাডা
অন্দ্রিয়া একজন মফস্বল শহরের মেয়ে। বিশ^বিদ্যালয় থেকে গ্রাজুয়েশন করেছে। আর মিরান্ডা প্রিস্টলি নিউ ইয়র্কেও একটি বিখ্যাত ফ্যাশন ম্যাগাজিনের সম্পাদক। অন্দ্রিয়ার স্বপ্ন সে একদিন সাংবাদিক হবে এবং মিরান্ডার সহকারী হিসেবে কাজ করবে। কিন্তু তার কোনো ধারণাই ছিল না এই চাকরিটা পাওয়া কতটা কঠিন। মূলত একজন সাধারণ নারীর স্বপ্নপূরণের পেছনে সংগ্রামের গল্প ফুটে উঠেছে সিনেমাটিতে। অভিনয় করেছেন মেরিল স্ট্রিপ ও অ্যানা হ্যাথাওয়ে।
মাম্মা মিয়া!
সোফি নামের এক তরুলী স্বপ্ন দেখে তার বিয়ে আয়োজন হবে খুবই জমকালো এবং ঐতিহ্যবাহী। তার বাবার কাছে এর বেশি কোনো চাওয়া থাকে না তার। কিন্তু সমস্যা হলো সে জানেই না কে তার বাবা। মা কোনোদিন বাবা সম্পর্কে তার কাছে কিছুই বলেনি। এখানে মায়ের চরিত্রে আছেন কিংবদন্তি মেরিল স্ট্রিপ।
ব্রেভ
জনপ্রিয় এই অ্যানিমেশন সিনেমায় মেরাদা নামের এক মেয়ে যে একজন দক্ষ তীরন্দাজ। যে কিছুতেই তাদের শোষক নেতাদের সামনে মাথা নত করে না। এজন্য তাকে বনবাসে দেওয়া হয় এবং সে ভয়ংকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়। কিন্তু সে বিশ্বাস হারায় না এবং নিজের মতামত প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।
গ্র্যাভিটি
মহাকাশ অভিযানে বিজ্ঞানীদের দলে থাকেন ড. রায়ান স্টোন নামের এক নারী। তিনি ভেট্রেন অ্যাস্ট্রোন্যান্ট মাট কোয়ালস্কির তত্ত্বাবধানে তার প্রথম মহাকাশ মিশন শেষ করেন। সব কিছুই ঠিক ছিল, এমনকি কোনো খারাপ পরিস্থিতি আসার চিহ্ন পর্যন্ত ছিল না, কিন্তু হঠাৎ যান থেকে ছিটকে পড়েন তিনি। এই বিরূপ অবস্থা থেকে সেই সাহসী ও কুশলী নারীর বেরিয়ে আসার গল্প ‘গ্র্যাভিটি’।
দ্য হাঙ্গার গেমস...
এই সিনেমার জন্যও এ সময়ের আলোচিত নায়িকা জেনিফার লরেঞ্জ দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে অস্কার জয় করেন। এই সিনেমা মানব সমাজের এক সময়ের যেখানে শোষক নেতারা মানুষকে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয় এমন খেলায় প্রজাদের নামিয়ে দিয়ে বিনোদিত হয়। মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে জয়ী নারী লরেঞ্জের গল্প এটি। পরিচালনা করেছেন গ্রে রোজ। এটি এতই ব্যবসাসফল যে পরবর্তী সময়ে এর সিক্যুয়াল নির্মিত হয়।
লরা ক্রফট : টুম্ব রাইডার
এই ব্যবসাসফল সিনেমার মাধ্যমে অ্যাকশন লেডি হিসেবে বিশ্বে ব্যাপক পরিচিতি পান বিশ্বনন্দিত তারকা অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। তিনিই কেন্দ্রীয় চরিত্র লরা ক্রফট। যে একাধারে দক্ষ মার্শাল আর্টিস্ট, শ্যুটার। যে কোনো প্রতিকূল পরিবেশেও নিজেকে নিরাপদ রাখতে পারেন। এই সিনেমা অনেক নারীকে আত্মরক্ষার বিষয়ে সচেতন করতে পারে।
ফ্রিদা
এটি মেক্সিকোর সেরা ও জনপ্রিয় চিত্রশিল্পী ফ্রিদা কাহলোর বায়োপিক। এতে নাম ভূমিকায় অভিনয় করে বাজিমাত করেন মেক্সিয়ান অভিনেত্রী সালমা হায়েক। এতে দেখা যায়- ফ্রিদার পেশা জীবনের অর্জন, স্বামীর সঙ্গে বৈরী সম্পর্কসহ তার ব্যক্তিজীবনের ঘটনা।
ব্ল্যাক সোয়ান
এই সিনেমার গল্প একজন ব্যালে ড্যান্সারকে ঘিরে যে চরিত্রে অনবদ্য অভিনয় করে সুন্দরী নায়িকা নাটালি পোর্টম্যান অস্কার জয় করেন। তিনি থিয়েটারের প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন আরেক অভিনেত্রী ভিনসেন্ট ক্যাসেলের সঙ্গে। দিন যতই ঘনিয়ে আসে প্রতিযোগিতা কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে ওঠে। ছবিটি আপাতদৃষ্টিতে গর্জিয়াস হলেও একজন নৃত্যশিল্পীর কঠিন পরিশ্রম ফুটে উঠেছে।
এলিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড
এটি মূলত রূপকথার গল্প থেকে তৈরি। এতে ১৯ বছর বয়সী এলিস সংগ্রাম করতে থাকে অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতির সঙ্গে। রূপের মাদকতার জন্য সে প্রেমের প্রস্তাব পায় লর্ড এস্কটের ছেলে হামিসের কাছ থেকে। সে কোনো উত্তর দেয় না, বরং সে জনকোলাহল ছেড়ে উগে যেতে চায়। লনের কাছে খরগোশ দেখে তার পিছু করতে করতে সে এমন জায়গায় নিজেকে আবিষ্কার করে যার নাম ওয়ান্ডারল্যান্ড।
মেলেনা
মনিকা বেলিুচ্চির উত্থানের অন্য নাম মেলেনা। এই সিনেমা তাকে বিশ্বব্যাপী সুন্দরী, মেধাবী অভিনেত্রী হিসেবে জনপ্রিয় করে তোলে। মেলেনা এমন এক নারী চরিত্র যা প্রতিটি পুরুষের স্বপ্নের সঙ্গে মিলে যায়। এবং যে চরিত্র প্রতিটি নারীর হিংসার কারণ। একই সঙ্গে এই নারীর মধ্যে রয়েছে নারীবাদী মনোভাব এবং স্বামী-সংসারের প্রতি অনবদ্য টান। কিন্তু অন্য নারীরা মেলেনাকে নিয়ে নোংরা গুজব রটাতে থাকে। স্বামীহীন এই নারীর জীবনের কঠিন বাস্তবতা চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তোলেন মনিকা।
এছাড়া অনুপ্রেরণাদায়ী আরও অনেক সিনেমার মধ্যে রয়েছে জুলিয়া রবার্টস অভিনীত ‘মোনালিসা স্মাইল’, ডেমি মুর অভিনীত ‘জি.আই জেন’, স্যান্দ্রা বুলক অভিনীত ‘দ্য ব্লাইন্ড সাইড’ ও ‘মিস কনজিনিলিয়াটি’, সালমা হায়েক অভিনীত ‘ফ্রিদা’, ইমা থরম্যান অভিনীত ‘কিল বিল’, এলেন পেজ ও জেনিফার গার্নার অভিনীত ‘জুনো’, হিলারি সোয়াঙ্ক অভিনীত ‘মিলিয়ন ডলার বেবি’, মেরিল স্ট্রিপ অভিনীত মার্গারেট থেচারের জীবনী ‘দ্য আইরন লেডি’ ও অ্যাঞ্জেলিনা জোলি অভিনীত ‘চ্যালেঞ্জিং’।
.jpg)
