রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি ১৩ শতাংশ

আপডেট : ০৮ মার্চ ২০১৯, ১২:৪৫ এএম

চলতি অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) ২ হাজার ৭৫৬ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এই আয় গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১২ দশমিক ৯৮ শতাংশ ও লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৭ দশমিক ৮১ শতাংশ বেশি।

গতকাল বৃহস্পতিবার রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রকাশিত রপ্তানি আয়ের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

ইপিবির প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছর সব ধরনের পণ্য রপ্তানিতে বৈদেশিক মুদ্রার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে তিন হাজার ৯০০ কোটি ইউএস ডলার। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে লক্ষ্যমাত্রা ছিল দুই হাজার ৫৫৬ কোটি ডলার। এ সময় আয় হয়েছে দুই হাজার ৭৫৬ কোটি ২৭ লাখ ডলার। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ৭ দশমিক ৮১ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ে রপ্তানি আয় হয়েছিল দুই হাজার ৪৩৯ কোটি ডলার, এ হিসাবে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ৯৮ শতাংশ।

প্রতিবেদন অনুসারে, তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ভালো প্রবৃদ্ধি হওয়ায় সার্বিকভাবে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে দুই হাজার ২৫ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এই আয় গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৪ দশমিক ১৭ ও লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ বেশি।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, একক মাস হিসেবে গত ডিসেম্বরে ৩৩৮ কোটি ৩২ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এটি গত বছরের ডিসেম্বরের চেয়ে ১০ দশমকি ১২ শতাংশ বেশি। ওই সময় রপ্তানি হয়েছিল ৩০৭ কোটি ২১ লাখ ডলারের পণ্য।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। এই খাত থেকে গত অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসে রপ্তানি আয় এসেছিল দুই হাজার ২৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের একই সময় তৈরি পোশাক খাত থেকে আয় হয়েছে ২ হাজার ৩১২ কোটি ৬৩ লাখ ডলার।

গত অর্থবছরের তুলনায় এ খাতে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ১৪ দশমিক ১৭ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে আট মাসে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আয় বেড়েছে ৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ। এর মধ্যে নিটওয়্যার খাতের পণ্য রপ্তানিতে এক হাজার ১৪৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার আয় হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বেড়েছে ৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ।

গত অর্থবছরের তুলনায় গত আট মাসে নিটওয়্যার খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩ দশমিক ৫০ শতাংশ। অন্যদিকে ওভেন গার্মেন্ট পণ্য রপ্তানিতে এক হাজার ১৬৩ কোটি ৩১ লাখ ডলার আয় হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৭ দশমিক ৩০ শতাংশ বেশি। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ।

বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা এখন শতভাগ কমপ্লায়েন্স কারখানার দিকে হাঁটছি। প্রতি মাসেই রপ্তানি আয় বাড়ছে, বাড়ছে প্রবৃদ্ধি।’ ইপিবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের আট মাসে ৫৮ দশমিক ২৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে কৃষিপণ্য রপ্তানিতে। এ খাত থেকে আয় এসেছে ৬৪ কোটি ২৭ লাখ ডলার। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রপ্তানি আয় বেড়েছে ৩৭ দশমিক ৯ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের আট মাসে প্লাস্টিক পণ্যে প্রবৃদ্ধি বেড়েছে ১৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। এ সময়ে আয় হয়েছে সাত কোটি ৬৮ লাখ ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৭ দশমিক ১৬ শতাংশ বেশি। গত আট মাসে হোম টেক্সটাইল খাতে প্রবৃদ্ধি ও লক্ষ্যমাত্রা দুটিই কমেছে। এ সময় আয় এসেছে ৫৬ কোটি ৮৫ লাখ ডলার। গত আট মাসে পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি কমেছে। একই সঙ্গে অর্জিত হয়নি লক্ষ্যমাত্রা। এ সময়ে এ খাত থেকে আয় এসেছে ৫৬ কোটি পাঁচ লাখ ডলার। এ ছাড়া চামড়াজাত পণ্য রপ্তানিতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় কম হয়েছে ৫ দশমিক ৭১ শতাংশ। প্রবৃদ্ধিও গত বছরের চেয়ে ১১ দশমিক ৫ শতাংশ কম হয়েছে। এ সময়ে আয় হয়েছে ৬৯ কোটি ৪৭ লাখ ডলার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত