৩৫ বিলিয়ন ডলারের সৌদি বিনিয়োগ চায় বাংলাদেশ

আপডেট : ০৮ মার্চ ২০১৯, ০৩:৩০ এএম

চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকা ও কক্সবাজারের মধ্যে দ্রুতগামী (বুলেট) ট্রেন চালু এবং বরিশাল হয়ে ঢাকা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরের মধ্যে ট্রেন চালুসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে সৌদি আরবের কাছ থেকে বিনিয়োগ চাওয়া হয়েছে, যার পরিমাণ ৩৫ বিলিয়ন ডলারের কম হবে না বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এছাড়া বিনিয়োগের জন্য সৌদি আরবের সঙ্গে দুটি চুক্তি ও চারটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে। দুই মন্ত্রীর নেতৃত্বে ঢাকা সফররত সৌদি আরবের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বিষয়ক সংলাপ শেষে এসব কথা জানান তিনি।

অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, যেসব প্রকল্পের অধীনে সৌদি আরবের কাছ থেকে বিনিয়োগ প্রস্তাব করা হয়েছে, তার পরিমাণ ৩৫ বিলিয়ন ডলারের কম হবে না। বিনিয়োগের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে সৌদি আরবের অর্থনীতি ও পরিকল্পনামন্ত্রীর নেতৃত্বে ‘সৌদি-বাংলাদেশ জয়েন্ট ওয়ার্কিং কমিটি ফর ইনভেস্টমেন্ট’ নামে একটি কমিটি প্রস্তাব করা হয়েছে, যাতে সদস্য দুই দেশের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী থাকবেন। কমিটি খুব দ্রুত প্রস্তাবিত এসব প্রকল্প ‘স্টাডি’ করে মতামত জানাবে। এর বাইরে বাংলাদেশের বন্ড মার্কেটে বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে সৌদি আরব।

বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সৌদি আরবের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বিষয়কমন্ত্রী মাজেদ বিন আবদুল্লাহ আল কাসাবি এবং অর্থনীতি ও পরিকল্পনা বিষয়কমন্ত্রী মোহাম্মেদ বিন আলতোয়াজরির নেতৃত্বে সৌদি আরবের ৩৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা সফর করছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দিনভর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে তাদের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নিয়ে বিভিন্ন পর্বের আলোচনায় বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং রাষ্ট্রীয় কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

অর্থমন্ত্রী ছাড়াও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব নজিবুব রহমান, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী মো. আমিনুল ইসলাম এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সৌদি উইন-উইন সিচুয়েশন থেকে এখানে বিনিয়োগ করবে। এখানে উৎপাদিত পণ্য আবার বিদেশে এক্সপোর্ট করবে। শুধু তাই নয়, আফ্রিকাসহ আশপাশ দেশগুলোতে তারা আমাদের নিয়ে বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে। একসঙ্গে প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছে। আমাদের সক্ষমতা তারা কাজে লাগাতে চায়। তাদের পক্ষ থেকে খুবই ভালো সাড়া পাওয়া গেছে।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে ব্যাপক সম্ভাবনা থাকার পরও দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ দেড়শো কোটি ডলারেরও কম। সামনের দিনে এই ব্যবসা বাড়াতে, সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। এফবিসিসিআইয়ের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম ও মোহাম্মদী গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিজিএমইএ’র সভাপতি প্রার্থী রুবানা হকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

দুপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেন সৌদি আরবের দুই মন্ত্রী। পরে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সৌদি প্রতিনিধিদের সঙ্গে দুটি চুক্তি ও চারটি সমঝোতা স্মারকে সই করেন বাংলাদেশের বিভিন্ন কোম্পানি ও সংস্থার প্রতিনিধিরা। এর মধ্যে ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র (সোলার আইপিপি) নির্মাণে সৌদি আরবের আলফানার কোম্পানির সঙ্গে ইলেকট্রিসিটি জেনারেশন কোম্পানি অব বাংলাদেশ (ইজিসিবি) এবং ট্রান্সফরমার ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম উৎপাদনে সৌদি কোম্পানি ইঞ্জিনিয়ারিং ডাইমেনশনের সঙ্গে চুক্তি করেছে জেনারেল ইলেকট্রিক ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি।

এছাড়া জনশক্তি রপ্তানি বিষয়ে সরকারি সংস্থা জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) ও সৌদি আরবের আল মাম ট্রেডিং এস্টেটের মধ্যে; ইউরিয়া ফরমালডিহাইড-৮৫ প্লান্ট নির্মাণে সৌদি আরবের ইউসুফ আল রাজি কনস্ট্রাকশন এস্টেট ও বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন; ‘সৌদি-বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব বায়ো-মেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়তে সৌদি আরবের আল আফালিক গ্রুপ (এএইচ গ্রুপ) ও বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের মধ্যে; তার উৎপাদনের বিষয়ে বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশন (বিএসইসি) এবং রিয়াদ কেব্লস গ্রুপ অব কোম্পানির মধ্যে আলাদা সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।

বৈঠকের কার্যপত্র অনুযায়ী, যেসব প্রকল্পে বাংলাদেশ সৌদি আরবের বিনিয়োগ চেয়েছে তার মধ্যে রয়েছেÑ ফেনীর সোনাগাজীতে ১০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন, চট্টগ্রামে ইলেকট্রিক্যাল আইটেম নির্মাণ প্রকল্প, আইরিয়া ও ফরমালডিহাইড কেমিক্যাল পণ্য উৎপাদন, বিএমএটির ট্রেনিং সেন্টারে বায়ো-মেডিকেল টেকনিশিয়ান তৈরি, বেকারি-খাদ্য পণ্যে যৌথ বিনিয়োগ, ঢাকা চট্টগ্রামে হাইস্পিড ট্রেন, তেল পরিশোধন ও পেট্রো কেমিক্যাল কমপ্লেক্স স্থাপন, রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল কোম্পানি টেলিটকের সেবা বাড়াতে টেলিটক পার্টনারশিপ, উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণ (এয়ারক্রাফট মেইনটেইনেন্স) কারখানা স্থাপন, ইউরিয়া ও অ্যামোনিয়া সার কারখানা স্থাপন ও হাই-ভোল্টেজ কেব্ল উৎপাদনে কারখানা স্থাপন, মিরসরাইতে স্পেশাল ইকোনমিক জোন স্থাপন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত