রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে প্রসিত খীসা নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) এক নেতাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। নিহত উদয় বিকাশ চাকমা ওরফে চিক্কোধন চাকমা (৪০) উপজেলার বঙ্গলতলী ইউনিয়নের বি-ব্লক গ্রামের শশধর চাকমার ছেলে। তিনি ইউপিডিএফের বাঘাইছড়ি উপজেলা শাখার সমন্বয়ক। তিনি বঙ্গলতলী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ও গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের বাঘাইছড়ি উপজেলা শাখার সভাপতি ছিলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার বঙ্গলতলী ইউনিয়নের করেঙ্গাতলা গ্রামের নিজ বাড়িতে তিনি খুন হন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
বাঘাইছড়ি থানার ওসি এম এ মঞ্জুরুল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, বাঘাইছড়ির বঙ্গলতলী ইউনিয়নে দুর্বৃত্তের গুলিতে চিক্কোধন নামের একজন ইউপিডিএফ নেতা নিহত হয়েছেন। দুপুরে তার লাশ উদ্ধার করে খাগড়াছড়ি হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
ইউপিডিএফের (প্রসিত খীসা) মুখপাত্র মাইকেল চাকমা বলেন, ‘বঙ্গতলী ইউনিয়নের করেঙ্গাতলী গ্রামে তার নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিলেন চিক্কোধন চাকমা। এ সময় ৫-৭ জনের একটি সশস্ত্র গ্রুপের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি নিরাপদে সরে যাওয়ার সময় তাকে গুলি করলে তিনি ধানক্ষেতে পড়ে যান এবং ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
নিজ বাড়িতে থাকার সময় চিক্কোধন চাকমার ওপর হামলা চালানো হয়। প্রাণ বাঁচাতে পালাতে যাওয়ার পথে তাকে গুলি করা হলে তিনি ধানক্ষেতে পড়ে যান এবং ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে আধিপত্য বিস্তারের মাধ্যমে নিজেদের প্রার্থীর জয় নিশ্চিত করার পরিকল্পনা থেকে জনসংহতি সমিতি (এমএন লারমা) চিক্কোধনকে হত্যা করেছে।
জনসংহতি সমিতির এই অংশের তথ্য ও প্রচার সম্পাদক প্রশান্ত চাকমা এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘এটি তাদের অন্তঃকোন্দল হতে পারে। এই ঘটনার সঙ্গে আমরা কোনোভাবেই জড়িত নই।’
এক বিজ্ঞপ্তিতে ইউপিডিএফের প্রচার ও প্রচারণা বিভাগের প্রধান নিরণ চাকমা এ হত্যাকাণ্ডকে ‘ন্যক্কারজনক ও কাপুরুষোচিত’ আখ্যায়িত করে বলেন, সংস্কারবাদী জেএসএস সন্ত্রাসীরা নিরাপত্তা বাহিনীর ক্যাম্পের আশপাশে সশস্ত্রভাবে অবস্থান করে একের পর এক খুন, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়সহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালালেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না। উপরন্তু প্রত্যক্ষ সহযোগিতা দিয়ে এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাতে তাদের উৎসাহিত করা হচ্ছে, যা চরম উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয়।
