রোববার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

এগুলো ডাহা মিথ্যা: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ০৮ মার্চ ২০১৯, ১১:৪৫ পিএম

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ আগেই আলোচনা করে নির্ধারিত হয়েছিল, যারা এমন দাবি করছেন, তাদের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এগুলো ডাহা মিথ্যা কথা।

তিনি বলেন, আজকে এই ভাষণটার অনেকে অনেক ব্যাখ্যা দেন। এ ব্যাখ্যাগুলো শুনলে হাসি পায়। এরা আসলে কত অর্বাচীনের মতো কথা বলে, যে তিনি (বঙ্গবন্ধু) নাকি আগের দিন নিউক্লিয়াসের সঙ্গে আলোচনা করলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ভাষণে এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম- এখানে মুক্তির সংগ্রাম আগে বলবেন নাকি স্বাধীনতার সংগ্রাম আগে বলবেন, সেটাও নাকি নিউক্লিয়াস আলোচনা করেছিল। এগুলো সম্পূর্ণ ডাহা মিথ্যা কথা। এসব কথার কোনো যৌক্তিকতাই নাই।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট আয়োজিত বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের ওপর আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘হ্যাঁ, ভাষণের আগে অনেকে দিনরাত পরিশ্রম করেছেন, অনেক পয়েন্ট তৈরি করেছেন, অনেকে বলেছে এটা বলতে হবে, ওটা বলতে হবে। এইভাবে বলতে হবে, এই করতে হবে, ওই করতে হবে। এটা না করলে হতাশায় (জনগণ) ফিরে যাবে। নানা ধরনের কথায় কথায় সে সময় আমরা জর্জরিত ছিলাম, কাগজে কাগজে, অনেক কাগজ আমাদের বাসায় জমা হয়েছিল’।

‘শেষ কথা বলেছিলেন আমার মা, যেটা আমি সব সময় বলি’- উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমার মা একটা কথাই বলেছিলেন, সারাটা জীবন তুমি সংগ্রাম করেছিলে, তুমি জান বাংলাদেশের মানুষ কি চায় এবং তার জন্য কী করতে হবে। তোমার থেকে ভালো কেউ জানে না। কাজেই মনে যে কথাটা আসবে তুমি শুধু সেই কথাটাই বলবে। আর কোনো কথা না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ভাষণ, এই ভাষণটা অনেক দীর্ঘ, এখানে কোনো পয়েন্টও নাই, কাগজও নাই। কিছুই ছিল না। কারণ তিনি তো সংগ্রাম করে গেছেন সেই ১৯৪৮ সাল থেকে। তখন থেকে বাঙালি জাতির মুক্তির জন্য তিনি সংগ্রাম করে গেছেন। স্বাভাবিক ভাবে তিনি তো জানেন বাঙালির জাতির মুক্তির পথটা কোথায়? কীভাবে আসবে।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, তিনি (বঙ্গবন্ধু) যে নির্দেশনা দিয়েছিলেন সেটা বাঙালি জাতি অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছে। ৭ই মার্চের ভাষণের মাধ্যমেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার মূল ঘোষণা দেন এবং পাকিস্তানের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করেন। ওই ভাষণের মাধ্যমে জাতির পিতা জাতিকে সকল দিক-নির্দেশনা প্রদান করেন। বাঙালিদের কী করতে হবে, তাও তিনি বলেছেন।

‘বঙ্গবন্ধু আশঙ্কা করেছিলেন যে, ভাষণের পর তিনি জীবিত নাও থাকতে পারেন। তাকে হত্যা করা হতে পারে, যেহেতু পাকিস্তানিরা বহুবার সে অপচেষ্টা করেছে। সে কারণে বঙ্গবন্ধু যুদ্ধের সকল ব্যবস্থা করে রাখেন। আমি তার নীরব সাক্ষী’ বলেও উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।

‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ : রাজনীতির কবি ও অমর কবিতা’ শীর্ষক সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নিলয় রঞ্জন বিশ্বাস এবং বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের চেয়ারপারসন শিল্পী হাশেম খান মূল প্রবন্ধের ওপর আলোচনায় অংশ নেন।

বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাশুরা হোসেন অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত