ভোট হবে, কিন্তু কেন্দ্রে ভোটার যাবে না এবং পরে তা নিয়ে সমালোচনা সইতে হবে আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে এমন পরিস্থিতিতে পড়তে চায় না আওয়ামী লীগ। ১০ মার্চ শুরু হতে যাওয়া স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচনে ভোটারের দীর্ঘ সারি দেখতে চায় তারা। ক্ষমতাসীন দলটির কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা এসব কথা জানিয়ে গত বৃহস্পতিবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেয়নি। কিন্তু তারা চাইছেন প্রার্থীরা ভোটারের দুয়ারে দুয়ারে যাবে, ভোট চাইবে, কেন্দ্রে ভোটারের সারিবদ্ধ লাইন থাকবে এমন জমানো নির্বাচন। এজন্য মাঠে বিকল্প প্রার্থী রাখা হয়েছে। দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী থাকলেও তা ‘ওভারলুক’ করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কোনো কোনো এলাকায় অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটলেও দেখেও না দেখার কৌশল নেওয়া হয়েছে।
জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ফারুক খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, উপজেলা নির্বাচন সত্যিকার অর্থে প্রভাবমুক্ত নির্বাচন হয়ে উঠবে। ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করবে। এগুলো নিশ্চিত করতে একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে যা করা দরকার আওয়ামী লীগ তা করছে। এ ক্ষেত্রে সরকারের যেসব পদক্ষেপ নেওয়া দরকার তাও নেওয়া হচ্ছে।
আওয়ামী লীগের ওই কেন্দ্রীয় নেতারা জানান, উপজেলা নির্বাচনে কোনো প্রার্থীর পক্ষে দলের স্থানীয় সংসদ সদস্যের অবস্থান নেওয়া যাবে না, স্থানীয় প্রশাসনকে ব্যবহার করে পছন্দের প্রার্থীকে বিজয়ী করার মনোবৃত্তি দলের কোনো সংসদ সদস্যের ভেতরে রাখা যাবে না। শুধু তাই নয়, ভোটসংশ্লিষ্ট সবাইকে এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রভাবমুক্ত উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থান নিশ্চিত করতে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তারা আরও জানান, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক ও উৎসবমুখর পরিবেশে উপজেলা নির্বাচন
অনুষ্ঠিত হোক তা চান। কর্মকর্তারা ডিসি-এসপিদের কাছে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পৌঁছে দিয়েছেন অনিয়মমুক্ত উপজেলা নির্বাচনের। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সবুজ সংকেতে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা এবং ভোট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আসন্ন উপজেলা ভোটে অনিয়ম হবে নাÑ জনগণের ভেতরে সেই বিশ্বাস সৃষ্টি করতে মাঠে কাজও শুরু করেছেন। তারা ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আগ্রহ তৈরির চেষ্টা করছেন। গত বুধবার এক অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনার শাহাদাৎ হোসেন চৌধুরী প্রকাশ্যে বলেন, উপজেলা নির্বাচনে কোনো অনিয়ম হবে না। ভোটের আগের দিন রাতে ভোট হবে না। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারাও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাচনে কোনো অনিয়ম হবে না বলে বলছেন বারবার। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও অসুস্থ হওয়ার আগে বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানে উপজেলায় কারও প্রভাব খাটবে না বলে পরিষ্কার জানিয়ে দেন। এগুলো ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আগ্রহ তৈরিরই প্রচেষ্টা।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বলেন, ১০ মার্চ প্রথম ধাপের উপজেলা নির্বাচনে প্রভাবমুক্ত ভোটের প্রমাণ দেব আমরা। উপজেলা নির্বাচন শতভাগ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হবে। তিনি বলেন, প্রভাবমুক্ত নির্বাচন চান শেখ হাসিনাÑ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সবাইকে সেই বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য আবদুর রাজ্জাক বলেন, নির্বাচনকে উৎসবমুখর, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলতে হলে সব রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব-কর্তব্য থাকে। এই দায়িত্ব-কর্তব্য আওয়ামী লীগের ওপর চাপিয়ে দেওয়া কোনো সচেতন মানুষের উচিত নয়। তিনি বলেন, অন্য দলগুলো অসহযোগিতা করলেও আওয়ামী লীগ মনে করে, আসন্ন উপজেলা নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণই হবে।
ক্ষমতাসীন দলটির নেতারা জানান, এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি বিভিন্ন জেলার ডিসি-এসপির কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। একই চিঠি পাঠানো হয়েছে পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে। সেখানে বলা হয়েছে, আগামী ১০ মার্চ থেকে ৩১ মার্চের মধ্যে সারা দেশে চার ধাপে উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পঞ্চম ধাপে নির্বাচন রমজানের পর জুন মাসের দিকে অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠেয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ এবং আইনানুগভাবে অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশন বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্যে ভোটকেন্দ্রে ও নির্বাচনী এলাকায় ভোটগ্রহণের কয়েকদিন পূর্ব হতে দুই-তিন দিন পর পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন এবং এক্সিকিউটিভ ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন বিশ্বাস করে যে মাঠ প্রশাসনের সহযোগিতা ছাড়া দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনা করা সম্ভব নয়। আজ তার সে জায়গাটি সমুন্নত রাখার জন্য মাঠ প্রশাসনের সবাইকে সচেতন থাকার অনুরোধ করা হলো। চিঠিতে আরও বলা হয়, অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে আসন্ন উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকলকে প্রভাবমুক্ত থাকার অনুরোধ করা হলো।
