কেরানীগঞ্জের বেশিরভাগ মানুষ বুড়িগঙ্গা নদী পারাপারে সেতুর বদলে নৌপথ ব্যবহার করে। সড়কের যানজট এড়াতে চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ এই পথকেই বেছে নেন। নদী পারাপারে যাত্রীদের প্রধান ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে ডিঙি নৌকা। হাজার হাজার ছোট নৌকা প্রতিদিন কয়েকবার করে পাড়ি দেয় বুড়িগঙ্গা। একই পথে লঞ্চ, কার্গো জাহাজসহ বিভিন্ন নৌযান চলায় নিয়মিত দুর্ঘটনা ঘটছে। এর প্রধান শিকার ডিঙি নৌকা।
ঝুঁকি নিয়ে গভীর রাতেও চলতে দেখা যায় নৌকাগুলোকে। বেশিরভাগ দুর্ঘটনা এই সময়েই ঘটছে। রাত যত গভীর হয়, দুর্ঘটনার হার তত বাড়ে। ব্যস্ততম সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালের এই এলাকায় ডিঙি নৌকায় পারাপারে সরকারি কোনো বিধিনিষেধও নেই। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্র্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) টেন্ডারের মাধ্যমে নৌঘাট ইজারা দিচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কীভাবে নিরাপদে নৌকাগুলো নদী পার হতে পারে সে ব্যবস্থা না করেই এগুলো চলাচলে অনুমতি দিয়ে আসছে বিআইডব্লিউটিএ। এ বিষয়ে ঢাকা নদীবন্দরের নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা ও বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক (বন্দর) এ কে এম আরিফ উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে ঘাটগুলোতে ছোট ডিঙি নৌকা বন্ধ করতে গেলে স্থানীয়রা বাধা দেয়। তবে দুর্ঘটনা এড়াতে ঘাটগুলোকে পটুয়াখালী লঞ্চঘাটের উজানে বীণা স্মৃতি নঘাটে নেওয়া হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘রাতে নৌকা চলাচলের বিষয়ে কোনো বিধিনিষেধ নেই। তবে নৌকা থেকে লঞ্চে ওঠা-নামা নিষেধ।’
তিনি বলেন, ‘দুর্ঘটনার কারণ চিহ্নিতকরণসহ দায়ী ব্যক্তি, মাস্টার, নৌযান ও মাঝির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এ ধরনের ঘটনা রোধে কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিন কার্যদিবসের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন প্রদানের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
বুড়িগঙ্গার কেরানীগঞ্জ পাড়ে জিঞ্জিরা, শুভাঢ্যা ও আগানগর ইউনিয়নের প্রায় ৪ লাখ মানুষের পারাপারের অন্যতম বাহন ডিঙি নৌকা। এসব নৌকা বুড়িগঙ্গার দুই তীরে সদরঘাট, আলম মার্কেট ঘাট, তেলঘাট, পিনসন, বাদামতলী, সোয়ারীঘাট, ব্রিজঘাট, ফেরিঘাট, মিটফোর্ড ঘাটসহ প্রায় অর্ধশত ঘাট দিয়ে চলাচল করে। আলম মার্কেট ঘাটে তৈরি পোশাক শিল্পের বৃহৎ বাজার বসে প্রতিদিন। এখানকার মানুষই নৌকায় চলাচল বেশি করে। এ ছাড়া রাজধানীর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, কবি নজরুল কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্ররা ভাড়া থাকে কেরানীগঞ্জে। তারাও প্রতিদিন নৌকায় বুড়িগঙ্গা পার হয়ে সদরঘাটে আসে। বুড়িগঙ্গা প্রথম ও দ্বিতীয় সেতু থাকলেও যানজটের কারণে স্থানীয়দের কাছে এই পথ বেশি জনপ্রিয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বেপরোয়া গতিতে চলা লঞ্চগুলোর জন্য এই নৌপথ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সদরঘাটে বুড়িগঙ্গার এই অংশ সরু হলেও বরিশাল, পটুয়াখালী, চাঁদপুর থেকে ছেড়ে আসা লঞ্চগুলো এখান দিয়ে বেপরোয়া গতিতে চলে। সামাজিক সংগঠন কেরানীগঞ্জ ফেইসবুক গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী জহির আরিফ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত চার মাসে প্রায় চারটি নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। এতে ১২ জনের প্রাণহানি হয়। লঞ্চগুলোর বেপরোয়া গতির কারণেই ঘটছে বেশিরভাগ দুর্ঘটনা।’
