নীলফামারী সদর ও জলঢাকায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন স্থগিত

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০১৯, ০৪:২৩ পিএম

নীলফামারী সদর ও জলঢাকা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের চেয়ারম্যান পদের নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। তবে ভাইস চেয়ারম্যান পদের নির্বাচনের ভোট গ্রহণ যথাসময় অনুষ্ঠিত হবে।

শুক্রবার রাতে ওই দুই উপজেলার চেয়ারম্যান পদের নির্বাচন স্থগিত করে পৃথক দুইটি গণ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাগণ। ওই দুই উপজেলার চেয়ারম্যান পদের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের পক্ষে-বিপক্ষে উচ্চ আদালত আদেশ প্রদান করায় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে ১০ মার্চ চেয়ারম্যান পদের নির্বাচন স্থগিত রাখা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন তারা।

গণবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি উচ্চ আদালতে আদেশে প্রার্থিতা ফিরে পান নীলফামারী সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান পদ প্রার্থী সাদিক হোসেন নয়ন। ওই আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে ৪ মার্চ একটি রিট পিটিশন করেন প্রতিদ্বন্দ্বী চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহিদ মাহমুদ। তার রিট পিটিশনের প্রেক্ষিতে গত ৫ মার্চ উচ্চ আদালত ২৪ ফেব্রুয়ারির আদেশটি স্থগিত করে ১ এপ্রিল শুনানির দিন ধার্য করায় নির্বাচন কমিশন ১০ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য  সদর উপজেলার চেয়ারম্যান পদের নির্বাচনের সকল কার্যক্রম স্থগিত করে।

অপর দিকে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি উচ্চ আদালতের আদেশে প্রার্থিতা ফিরে পান জলঢাকা উপজেলা পরিষদের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল ওয়াহেদ বাহাদুর। ওই আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে গত ৭ মার্চ  উচ্চ আদালতে আপিল করেন অপর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আনছার আলী মিন্টু। উচ্চ আদালত গত ১৮ ফেব্রুয়ারির ওই আদেশটি ছয় সপ্তাহের জন্য স্থগিত করে।  নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে জলঢাকা উপজেলার চেয়ারম্যান পদের নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।

সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আজাহারুল ইসলাম বলেন,‘শুক্রবার রাতেই সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদের নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করে গণ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে পাশাপাশি মাইকিং করে ভোটারদের অবগত করা হয়েছে। তবে ভাইস চেয়ারম্যান পদের নির্বাচনের ভোট গ্রহণ যথাসময় অনুষ্ঠিত হবে।’

অপরদিকে জলঢাকা উপজেলা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা  মো. ফজলুল করিম গণবিজ্ঞপ্তি জারির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,‘আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল ওয়াহেদ বাহাদুরে প্রার্থিতা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে বাতিল হলে  আপিল কর্তৃপক্ষ জেলা প্রশাসকের কাছে আপিলে সেটি অবৈধ হয়। পরে উচ্চ আদালতে আপিলে বৈধতা পান তিনি। এরপর প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী আনছার আলী মিন্টু বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে রিট করলে আদালত ছয় সপ্তাহের জন্য বাহাদুরের প্রার্থিতার বৈধতার আদেশটি স্থগিত করেন। উচ্চ আদালতের ওই আদেশের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে সিদ্ধান্ত চাওয়া হয়। শুক্রবার নির্বাচন কমিশন জলঢাকা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের চেয়ারম্যান পদের নির্বাচন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত দেওয়ায় রাতেই গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। ১০ মার্চ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের  পুরুষ ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদের নির্বাচন হবে তবে চেয়ারম্যান পদের নির্বাচন হবে না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত