বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ৯ শ্রাবণ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ছেলেদের পথে হাঁটলেই চ্যাম্পিয়ন মেয়েরা!

আপডেট : ১০ মার্চ ২০১৯, ১২:৩৪ এএম

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ছেলেদের পথে হাঁটলেই ২২ মার্চ পঞ্চম সাফ মহিলা চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপাটা ওঠার কথা বাংলাদেশ মহিলা ফুটবল দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুনের হাতে! অতীত ঘেঁটে দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশের ছেলেরা প্রথম ও একমাত্র সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছিল ২০০৩ সালে পঞ্চম আসরের ফাইনালে মালদ্বীপকে হারিয়ে। এর আগে অর্থাৎ চতুর্থ আসরে ভারতের কাছে ফাইনালে হেরে বাংলাদেশ হয়েছিল রানার্সআপ। পরের বারই দেশের মাটিতে ইতিহাস গড়েছিল রজনী, হাসান আল মামুনরা। ছেলেদের মতো মেয়েরাও মর্যাদার এই টুর্নামেন্টের চতুর্থ আসরে রানার্সআপ হয়েছিল ভারতের কাছে হেরে। সেই সোনায় মোড়ানো অতীতের সঙ্গে নিকট ভবিষ্যৎ মেলালে, মেয়েদের পঞ্চম আসরের আগে আশা করাই যায়, নেপালের বিরাটনগর ২২ মার্চ রূপ নেবে এক টুকরো বাংলাদেশে। আজ সকালে নেপালের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বে ২০ অকুতোভয় মেয়ে।

অত বড় স্বপ্নটা বুকে লালন করলেও মেয়েরা অবশ্য মুখ ফুটে বলতে চাইছেন না। মাঠে লড়াই করেই সাফল্য নিজেদের তালুবন্দি করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ তারা। দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ এই আসরে অংশ নিতে আজ নেপালের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বে স্বপ্নচারী মেয়েরা। গতবার লক্ষ্যটা তত বড় ছিল না গোলাম রাব্বানী ছোটনের শিষ্যদের। অনেকটা প্রত্যাশাতীতভাবেই তারা উঠে এসেছিল ফাইনালে। কিন্তু আসল মঞ্চে তারা অভিজ্ঞ ভারতের কাছে নতিস্বীকার করে। আশাতীত এই সাফল্যের পর এবার স্বভাবতই প্রত্যাশাটা বেশি মেয়েদের ঘিরে। তবে সিনিয়র পর্যায় বলেই পা মাটিতে রাখছেন ছোটন। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে আরও ভালো খেলার প্রত্যয় নিয়েই নেপালে যাওয়ার কথা বলেছেন, ‘গত সাফে আমাদের এই দলটা ছিল অনভিজ্ঞ। মেয়েদের অনেকের বয়সও ছিল কম। গত দুই বছরে এরা অনেক আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে। খেলোয়াড়দের মধ্যে পরিপক্বতা এসেছে।  আশা করছি গত সাফের চেয়ে মেয়েরা এবার আরও ভালো ফুটবল খেলবে।’

গ্রুপপর্ব টপকানো নিয়ে তেমন ভাবনা থাকার কথা নয় বাংলাদেশের। ‘এ’ গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ ভুটান ও নেপাল। আর ‘বি’ গ্রুপে গত চারবারের চ্যাম্পিয়ন ভারতের সঙ্গে আছে মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কা। সেমিফাইনালটা তাই এক প্রকার নিশ্চিত বলা যায়। তবে সেমিফাইনালে ভারতকে এড়ানোর একটা বিষয় থেকেই যাচ্ছে। ছোটনও তেমনটাই বললেন, ‘গ্রুপপর্ব নিয়ে আমাদের একটা পরিকল্পনা আছে। গত সাফে যেমন ভারত আফগানিস্তানকে ৫ গোলে হারিয়েছিল, আমাদের লক্ষ্য ছিল ওদের ছয় গোল দেওয়ার এবং দিয়েছিলাম। পরে আমরা ভারতের সঙ্গে ড্র করে গ্রুপ সেরা হয়ে সেমিফাইনালে  নেপালকে এড়িয়েছিলাম। এবারও আমাদের লক্ষ্য থাকবে গ্রুপে নেপালের চেয়ে ভালো করে সেমিফাইনালে ভারতকে এড়ানোর।’

লক্ষ্যটা পরিষ্কার। ফাইনাল খেলতে চায় বাংলাদেশ। তবে দলটির অভিভাবক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা বাফুফের টেকিনিক্যাল ডাইরেক্টর পল স্মলি অভিজ্ঞতার বিষয়টাই সাফল্য পাওয়ার সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে উল্লেখ করলেন, ‘আমরা বয়সভিত্তিক পর্যায়ে ভালো, কিন্তু অন্য দুটি দল (ভারত ও নেপাল) ওরা জাতীয় দল পর্যায়ে ভালো। কারণ তারা অভিজ্ঞতার কারণে ছোটখাটো ভুলগুলো করে না এবং আমাদের ছোট ছোট ভুলের সুযোগ কাজে লাগায়। আমাদের দলে সিনিয়র খেলোয়াড়ের সংখ্যা খুবই কম। এই সমস্যা থেকে এখনই সমাধান খোঁজা ঠিক হবে না। তার জন্য ধৈর্য ধরতে হবে। আমাদের এই দলটাই একটা সময় দারুণ একটা জাতীয় দল হবে।’

দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুনও অভিজ্ঞতাকেই মূল অন্তরায় হিসেবে দেখছেন, ‘নেপাল ও ভারত শক্তিশালী দল।  আমাদের সঙ্গে তাদের মূল পার্থক্য হচ্ছে অভিজ্ঞতায়। যেমন ভারতের এমন অনেক খেলোয়াড় আছে যার অন্তর্জাতিক ফুটবল খেলার বয়সের চেয়েও আমাদের দলের অনেকের বয়স কম। তবে আমরা নিজেদের উজাড় করে খেলব। ভালো ফল পাওয়ার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’ বাংলাদেশ সাফ মিশন শুরু করবে আগামী ১৪ মার্চ ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। দু’দিন পর তারা খেলবে স্বাগতিক নেপালের বিপক্ষে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত