ডাকঘর আইন সংশোধনের প্রস্তাব বাংলাদেশ ব্যাংকের

আপডেট : ১০ মার্চ ২০১৯, ১২:৫৪ এএম

প্রচলিত মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মতোই ডাক বিভাগের চালু করা ‘নগদ’ নিয়ে বেকায়দায় পড়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নগদ অর্থ লেনদেন করলেও তাতে অনুমোদন নেই বাংলাদেশ ব্যাংকের। তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের অনুমোদন ছাড়া নগদ পরিচালনা বন্ধের পক্ষে জোরালো অবস্থান নেয় ডাক বিভাগের বিপক্ষে। কিন্তু ডাক বিভাগও সাফ জানিয়ে দেয়, দেশে বিদ্যমান ডাকঘর আইনে এ ধরনের সেবা দেওয়ার এখতিয়ার রয়েছে তাদের। এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংক বা অন্য কোনো সংস্থার অনুমোদন নেওয়ার দরকার নেই। 

ডাক বিভাগের এই মতের পর সুর নরম করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ডাকঘর আইন সংশোধন করার অনুরোধ জানিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, ডাক বিভাগের কার্যক্রমকে মৌলিক ডাক সেবা ও আর্থিক ডাক সেবা নামে দু’ভাগ করা যেতে পারে। মৌলিক ডাক সেবার বিষয়ে ডাক অধিদপ্তর নিজেরাই সব সিদ্ধান্ত নেবে। তবে আর্থিক ডাক সেবার আওতায় মানি অর্ডার ও ডাক জীবন বীমা বাদে অন্যান্য আর্থিক সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হবে এবং আর্থিক সেবাগুলোর তদারকি বাংলাদেশ ব্যাংকের আওতাভুক্ত হতে হবে। বিদ্যমান ডাক আইন সংশোধন বা নতুন আইন প্রণয়ন করে এ ধরনের বিধান সংযুক্ত করার অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার অনুসারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকই নিরাপদ ও দক্ষ পেমেন্ট সিস্টেমস নিশ্চিত করবে। অন্যদিকে দ্য পোস্ট অফিস (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট-২০১০ অনুযায়ী ডাক বিভাগ পেমেন্ট, সেভিংস, রেমিট্যান্স ও বীমা সংক্রান্ত সেবা দেওয়ার এখতিয়ার রাখে। ফলে দেশের লেনদেন ব্যবস্থায় এ আইন দুটো পরস্পর বিরোধী। বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসাবে আর্থিক লেনদেনের সুরক্ষা ও এর তদারকির দায়িত্ব শুধুমাত্র বাংলাদেশ ব্যাংকের হাতে থাকা উচিত। সে কারণে পোস্ট অফিস অ্যাক্টের সংশোধন করে ডাক বিভাগের ব্যাংকিং ও রেমিট্যান্স সেবা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আওতাধীন করা হোক।  বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্টের মহাব্যবস্থাপক লীলা রশিদ স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত প্রস্তাবটি ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে গত ৫ মার্চ পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এ ধরনের আর্থিক সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে ডাক বিভাগ অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে আগ্রহী হলে ডাকঘর আইনের ১১১ ধারা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে একটি সাবসিডিয়ারি কোম্পানি গঠন করে কার্যক্রম চালাতে পারে। সেক্ষেত্রে ওই কোম্পানির ৫১ শতাংশ শেয়ার ডাক বিভাগের থাকতে হবে। ওই কোম্পানিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে এবং কোম্পানির কার্যক্রম বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকির আওতায় থাকবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত