সাবেক মন্ত্রী ও বর্তমান সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন বলেছেন,‘কৃষি আন্দোলনের মাধ্যমেই গোল্ডেন রাইসের আগ্রাসন বন্ধ করতে হবে।’ গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে কৃষিবিষয়ক কয়েকটি সংগঠনের আয়োজিত আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি। এ সময় তিনি গোল্ডেন রাইসের চাষ ও প্রচলন বন্ধে সংসদে কথা বলবেন বলেও জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেনন বলেন, ‘বিদেশি ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলো অনেক সময়ই আমাদের ওপর আগ্রাসন চালানোর পাঁয়তারা করে। এখন তারা নতুন এই চাল নিয়ে এসেছে। কৃষি আন্দোলনের মাধ্যমেই এই আগ্রাসন বন্ধ করতে হবে। আমি আমার জায়গা থেকে ওয়াদা করছি যে, পরিবেশ মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ অধিদপ্তরকে এর ক্ষতিকারক দিক সম্পর্কে বোঝানোর চেষ্টা করব। প্রয়োজনে সংসদে এ নিয়ে কথা বলব।’
আলোচনা সভায় কৃষিসংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়, বহুজাতিক কোম্পানি এবং প্রোপাগান্ডা ছড়ানোদের দিয়ে প্রচার করা হচ্ছে যে, গোল্ডেন রাইসে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ, আয়রন ও জিংক রয়েছে। এই চাল রাতকানাসহ ভিটামিনের অভাবজনিত রোগ দূর করবে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গোল্ডেন রাইসে বিটা ক্যারোটিনের পরিমাণ খুবই কম। যা ভিটামিনের অভাব মোকাবিলায় যথেষ্ট নয়। মূলত গোল্ডেন রাইস একটি জেনেটিক্যালি ইঞ্জিনিয়ার্ড রাইস বা জিনবৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করে আবিষ্কৃত এক ধরনের চাল।
গোল্ডেন রাইস প্রবর্তন বন্ধ, বিটি বেগুনের বাণিজ্যিক চাষাবাদ বন্ধ করাসহ সব জিএমও ফসল বন্ধ করা এবং কঠোর জৈব নিরাপত্তা আইন চালু করার দাবি জানানো হয় সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে।
