আগের রাতে ব্যালট বক্স ভরা নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদার বক্তব্যে থলের বিড়াল বেরিয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। গতকাল শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) চালু হলে ভোটের আগের রাতে ব্যালট বাক্সে ভর্তি হবে না বলে মন্তব্য করেছিলেন সিইসি। এর পরিপ্রেক্ষিতে রিজভী বলেন, ‘থলের বিড়ালকে আর বেশি দিন আটকে রাখতে পারলেন না সিইসি। মিডনাইট নির্বাচনে আসল সত্যটি এখন সিইসি মুখ ফসকে বলে ফেলেছেন। জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া দস্যুতার নামান্তর।’
সিইসির উদ্দেশে বিএনপির জ্যেষ্ঠ এ নেতা বলেন, ‘মিডনাইট নির্বাচনের হোতা আপনি। আদর্শগত শূন্যতার কারণে আপনি এত বড় অন্যায়টি করেছেন জনগণের বিরুদ্ধে। অবৈধ সরকারের ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতেই আপনি মহাভোট কেলেঙ্কারির মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করলেন। আপনার এই বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ দলিল হয়ে থাকল জাতির কাছে। জাতি জানবে একজন সিইসি একটি নির্বাচনে জনগণের ভোটাধিকার বঞ্চিত করে কী করে মধ্যরাতে ব্যালট বাক্স পূর্ণ করার অনুমতি দিয়েছিলেন। ভবিষ্যতে এ জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে।’
‘পঁচাত্তরের পরে জিয়াউর রহমান খলনায়ক’প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের জবাবে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘ইতিহাস কিন্তু মানুষের মনেই রচিত হচ্ছে। আপনার হাতে বন্দুক আছে বলে আপনি জোর করে ইতিহাস রচনা করবেন। ওই ইতিহাস একদিন মানুষ টুকরো টুকরো করে বাতাসে ছুঁড়ে ফেলে দেবে। আর আসল ইতিহাস যেটা, সেটা লেখা থাকবে।’
কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে অবিলম্বে গুলশানের বিশেষায়িত ইউনাটেড হাসপাতালে ভর্তির দাবি জানান বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব। ওই সময় ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, ‘নানাভাবে অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে একতরফাভাবে ঢাকা জেলা বার সমিতির এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সরকার এখন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনেও মিডনাইট ভোটের পদ্ধতি অবলম্বন করছে। সাধারণ জনগণের মতো বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতারাও এখন বঞ্চিত ও লাঞ্ছিত। প্রহসনের পর প্রহসন এবং তামাশার নানা অভিনবত্ব অবলোকন করছে দেশবাসী। বিএনপি ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করছে।’
নির্বাচন পদ্ধতির সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘দ্বিতীয় দফার দিন সন্ত্রাস সৃষ্টি করে বিএনপির প্যানেলের কমিশনার যিনি ভোট গণনার দায়িত্বে ছিলেন তাকে প্রচণ্ড মারধর করা হয়েছে। তা ছাড়া যাকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার করা হয়েছে, তিনি একজন কট্টর আওয়ামীপন্থি আইনজীবী। প্রথম দফা নির্বাচনের সাত দিন পর দ্বিতীয় দফা ভোটগ্রহণ করা হয়েছে।’
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আবদুস সালাম, সুকোমল বড়ুয়া, সৈয়দ মো. শামসুল আলম, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ, আসাদুল করীম শাহিন, তাইফুল ইসলাম টিপু, বেলাল আহমেদ প্রমুখ।
