নির্মাণাধীন ভবনের ফ্ল্যাট কিনতেও গৃহনির্মাণ ঋণ নীতিমালা অনুযায়ী ঋণ পেতে আমমোক্তারনামা বা পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দিতে হবে না ঋণগ্রহীতাদের। আমমোক্তারনামা ছাড়াই নির্মাণাধীন ফ্ল্যাটের বরাদ্দপত্রের বিপরীতে ব্যাংকগুলো চাকরিজীবীদের ৫০ শতাংশ ঋণ দিত। ঋণের বাকি ৫০ শতাংশ ফ্ল্যাটের রেজিস্টার্ড বন্ধক দেওয়ার পর বিতরণ করা হবে। গত সপ্তাহে অর্থ মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ৫ শতাংশ সুদে গৃহনির্মাণ ঋণ চালু করে নীতিমালা জারি করেছে সরকার। গত বছর জুলাই থেকে কার্যকর হওয়া ওই নীতিমালা সংশোধন করে সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনে স্থায়ী নিয়োগপ্রাপ্তদেরও এ সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
এই নীতিমালায় বলা হয়েছে, রেডি ফ্ল্যাট কেনা ও জমি কিনে ভবন নির্মাণের জন্য এই ঋণ নেওয়া যাবে। কোনো ঋণগ্রহীতা শুধু সরকারি সংস্থাগুলোর নির্মাণাধীন ফ্ল্যাট কিনতেও ঋণ নিতে পারবেন। কিন্তু সরকারি চাকরিজীবীরা নির্মাণাধীন ফ্ল্যাট কিনতে ঋণের আবেদন করে জটিলতায় পড়ছেন। কারণ ফ্ল্যাটটি নির্মাণাধীন হওয়ার কারণে ব্যাংকে আমমোক্তারনামা দেওয়া যাচ্ছে না। আবার আমমোক্তারনামা ছাড়া ব্যাংকগুলোও ঋণ দিতে রাজি হচ্ছে না।
এ জটিলতা দূর করতে গৃহনির্মাণ ঋণ বিষয়ে গঠিত স্টিয়ারিং কমিটি গত ২৫ ফেব্রুয়ারি বৈঠক করেছে। অর্থবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় কয়েকজন সম্ভাব্য ঋণগ্রহীতা বলেন, ঋণ দিতে ব্যাংক তাদের কাছ থেকে সংশ্লিষ্ট ফ্ল্যাট, বাড়ি জামানত নিচ্ছে। তারপরও তাদের ওই সম্পত্তির বিষয়ে আমমোক্তারনামা দিতে বলা হচ্ছে। তারা আমমোক্তারনামা বাতিলের অনুরোধ করেন। সভায় উপস্থিত ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, ঋণগ্রহীতা যথাসময়ে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলেই কেবল ঋণের অর্থ আদায়ে সর্বশেষ ব্যবস্থা হিসেবে আমমোক্তারনামা ব্যবহার করা হয়। তারা বলেন, গৃহনির্মাণ ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে আইনগত কোনো বাধ্যবাধকতা না থাকলেও দীর্ঘদিন যাবত আনুষ্ঠানিকতা বা প্রচলিত রীতি হিসেবে আমমোক্তারনামা নেওয়া হয়ে থাকে। তবে কর্র্তৃপক্ষ চাইলে গৃহনির্মাণ ঋণে আমমোক্তারনামা নেওয়া থেকে অব্যাহতি দেওয়া যায়। পরে আমমোক্তারনামা না দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয় সভায়।
