ঢাকা উত্তর সিটির উন্নয়নে সব ‘প্রটোকল’ ভেঙে কাজ করবেন বলে অঙ্গীকার করেছেন ডিএনসিসির নতুন মেয়র আতিকুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, ‘যেখানে যেভাবে কাজ করলে আমাদের শহরের ভালো হবে, আমি সেভাবেই কাজ করব। কোথাও যদি কোনো ফাইল আটকে থাকে প্রয়োজনে আমি প্রটোকল ভেঙে ওই অফিসের কেরানির সামনে বসে থাকব।’ গতকাল রবিবার ডিএনসিসিতে প্রথম দিনের অফিস শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
মেয়র বলেন, “প্রয়োজন হলে একজন সাধারণ দিনমজুর বা শ্রমিকের মতো কাজ করব। এর জন্য ‘কামলা’ বা ‘জোগাইল’ এর মতো হয়ে আমার কাজ করতেও কোনো আপত্তি নেই। আমার ২০টা মেশিন থেকে আজ ১২ হাজার মেশিন হয়েছে। আমি কাজ করেছি
বলেই তো হয়েছে। বসে থাকলে হতো না। আমি নগর পিতা বরং নগর সেবক হতে চাই।”
তিনি বলেন, ‘যারা বাসাবাড়ি বানাচ্ছেন তারা শহরের ড্রেনে বালি, সিমেন্ট থেকে শুরু করে লোহা-লক্কড় সবকিছু ফেলে রাখছেন। ড্রেনগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আপনারা যারা এসব করছেন আমি আপনাদের বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধ করব বিল্ডিং তৈরির সময় কারও যেন কোনো সমস্যা না হয়।’ এ সময় তিনি ব্যবসায়ীদের দোকানের ফুটপাত মুক্ত রাখারও অনুরোধ জানান।
তিনি আরও বলেন, ‘দেয়ালে কোনো ধরনের লিখন আপনারা মেহেরবানি করে লিখবেন না, আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের জন্য গাছে পেরেক মারছেন। যারা এরই মধ্যে এ কাজগুলো করেছেন এই মার্চ মাসের মধ্যে এগুলো সরিয়ে নেবেন।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, ‘আগামী ১৭ মার্চ থেকে আমাদের পরিষ্কার অভিযান চলবে আর এ অভিযান শুরু হবে তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ড থেকে, তখন সেটি দখলমুক্ত হবে। পাশাপাশি আমরা পর্যায়ক্রমে গাবতলী বাসস্ট্যান্ড দখলমুক্ত করব।’
কর অবকাশ সুবিধার কথা উল্লেখ করে আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা দেখছি এ ঢাকা শহরে প্রতিনিয়ত অক্সিজেনের পরিমাণ কমছে। আপনারা যারা প্রত্যেকে নিজের বাড়ির ছাদে, ব্যালকনিতে অথবা অ্যাপার্টমেন্ট বাগান করবেন তাদের কর অবকাশ সুবিধা দেওয়া হবে।’
হোল্ডিং ট্যাক্স অটোমেশনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা শিগগিরই ব্যাংকের সঙ্গে কথা বলে হোল্ডিং ট্যাক্স অটোমেশনের ব্যবস্থা করব যাতে করে আমাদের সঙ্গে আর কারও কথা বলতে না হয়। দ্রুত কিছু খেলার মাঠ আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।’
মশার উৎখাত সবাইকে একসঙ্গে করতে হবে উল্লেখ করে মেয়র বলেন, ‘মশা উৎখাতের বিষয়ে আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এরই মধ্যে আমাদের মশক নিধনের জন্য নতুন ওষুধ আনা হচ্ছে। একটি প্রকল্প হয়েছে ৭২০ কোটি টাকার যা শুধু মশক নিধনের জন্য। আমরা দ্রুত ক্র্যাশ প্রোগ্রামের আওতায় কাজগুলো করব।’
সংবাদ সম্মেলনে মেয়র আতিকুল ইসলামের সঙ্গে ডিএনসিসির সচিব রবীন্দ্র শ্রী বড়–য়া, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাকির, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জুবায়ের সালেহীনসহ অন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
