সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

চুড়িহাট্টা ট্র্যাজেডি

এখনো দোলার পথ চেয়ে বাবা-মা

আপডেট : ১১ মার্চ ২০১৯, ০৫:১৭ এএম

‘আল্লাহপাক কী না পারেন, ফিরিয়েও দিতে পারেন আমার দোলাকে! তাই মেয়ের ফেরার আশায় সব সময় আল্লাহর কাছে দোয়া করছি সবাই।’ গতকাল রবিবার কান্নাজড়িত কণ্ঠে দেশ রূপান্তরকে এসব কথা বলছিলেন রাজধানীর চকবাজারের চুড়িহাট্টার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে নিখোঁজ শিক্ষার্থী ও আবৃত্তিশিল্পী রেহনুমা তাবাসসুম দোলার বাবা দলিলুর রহমান দুলাল।

তিনি বলেন, ‘আমার দুটি মাত্র মেয়ে, দোলাই ছিল সবার বড়। ওর শোকে ওর মা ও ছোট বোন অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এখনো স্বাভাবিক হতে পারেনি ওরা দুইজন।’ গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে শিল্পকলা একাডেমিতে আবৃত্তি শেষে দুই বান্ধবী ফাতেমা তুজ জোহরা বৃষ্টি ও রেহনুমা তাবাসসুম দোলা একই রিকশায় চড়ে বাসায় ফিরছিলেন। কিন্তু পথে চুড়িহাট্টার অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই তাদের কোনো খোঁজ পাচ্ছিলেন না দুই পরিবারের সদস্যরা। দুই বান্ধবীকে শিশু একাডেমি থেকে চুড়িহাট্টা এবং সেখান থেকে হাসপাতাল, থানা ও তাদের বিভিন্ন বান্ধবীর বাসায় খুঁজতে থাকেন স্বজনরা। থানায় সাধারণ ডায়েরি করার পাশাপাশি সিআইডির ফরেনসিক বিভাগের কাছে রক্তের নমুনাও দিয়েছেন। এরই এক

পর্যায়ে অগ্নিকাণ্ডের ১২ দিন পর গত ৬ মার্চ গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী বৃষ্টির লাশের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়। সিআইডির ডিএনএ পরীক্ষায় বৃষ্টির লাশ শনাক্ত হলে জীবিত ফেরার আশাভঙ্গে পাগলপ্রায় হয়ে ওঠেন বৃষ্টির বাবা-মা। একইভাবে দোলার জীবিত ফেরার আশাও ফিকে হয়ে যায় তার স্বজনদের মনে। 

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী দোলার বাবা দুলাল বলেন, ‘বৃষ্টির লাশ শনাক্ত হওয়ার পরই মন ভেঙে যায়। বুঝতে পারি, বৃষ্টির রিকশাতেই তো আমার মেয়ে বসেছিল। বৃষ্টিকে তার বাসায় নামিয়ে দিয়ে একই রিকশায় দোলার ফিরে আসার কথা ছিল। কিন্তু আগুন লাগার ৬ মিনিট আগের একটি সিসি ক্যামেরা ফুটেজে একই রিকশায় তাদের চুড়িহাট্টার পথে যেতে দেখা গেছে।’

তিনি বলেন, ‘তারপরও আল্লাহ কী না পারেন। তিনি চাইলে মেয়েকে এখনো জীবিত ফেরত পাঠাতে পারেন। সেই ভরসায় প্রার্থনা করছি আমি ও আমার স্ত্রী। বৃষ্টির লাশ শনাক্ত হওয়ার পর সিআইডির কর্মকর্তারাই বৃষ্টির বাসায় ফোন দিয়ে জানিয়েছেন। আমাদেরও ফোন নম্বর দেওয়া আছে। তাই অপরিচিত কোনো নম্বর থেকে ফোন আসলেই বাসার সবাই অস্থির হয়ে ওঠে, এই বুঝি দোলার কোনো খবর এলো।’

দোলার কথা জানতে চাইলে কান্নায় ভেঙে পড়েন তার মা সুফিয়া বেগম। কিছুটা ধাতস্থ হয়ে তিনি বলেন, ‘মাত্র ৮ লাশের পরিচয় পাওয়া যায়নি, কিন্তু দাবিদার তো আছে ২৪ জনের মতো। তাহলে আমার মেয়েকে কোথায় পাব? আমার মন বলছে, আমার মেয়ে ফিরে আসবে।’ দোলার ছোট বোন নূসা এবার এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। সে বলে, ‘আপুর জন্য মা সারাক্ষণই কান্না করে। কোনোকিছুতেই তাকে ভোলানো যায় না।’ বৃষ্টি ও দোলার স্বজনরা জানান, বৃষ্টি ও দোলা ছিলেন ঘনিষ্ঠ বান্ধবী। ছোটবেলা থেকেই তারা একসঙ্গে মিশতেন। চতুর্থ শ্রেণি থেকে তারা একই স্কুলে ও একই কলেজে সহপাঠী ছিলেন। কোথাও গেলে একইসঙ্গে বের হতেন, ফিরতেনও একইসঙ্গে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত