ব্যবসায়ীদের বাধার মুখে পুরান ঢাকা থেকে কেমিক্যাল কারখানা ও গোডাউন অপসারণে গঠিত টাস্কফোর্সের অভিযান শিথিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এখন থেকে শুধু অতি দাহ্য কেমিক্যাল গোডাউন অপসারণে অভিযান চালাবে টাস্কফোর্স। প্লাস্টিক দানা ও অর্গানিক পিগমেন্ট অভিযানের আওতামুক্ত থাকবে। গতকাল রবিবার চকবাজারের উর্দু রোডে পুরান ঢাকার ব্যবসায়ী সমিতি, পঞ্চায়েত ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করে এমন সিদ্ধান্ত নেন ডিএসসিসির মেয়র সাঈদ খোকন। মতবিনিময় সভায় ব্যবসায়ী নেতা, সাধারণ ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের বক্তব্য শুনে তাদের প্রায় সব দাবি মেনে নেন তিনি। ওই সময় ব্যবসায়ীরা উৎফুল্ল হয়ে সাঈদ খোকনের নামে স্লোগান দিতে থাকেন।
ব্যবসায়ীদের দাবি অনুযায়ী, প্লাস্টিক দানা ও অর্গানিক পিগমেন্ট থাকার কারণে যেসব হোল্ডিংয়ের পরিষেবা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল, সেগুলো অনতিবিলম্বে পুনর্বহালের ঘোষণা দেন মেয়র।
মতবিনিময় সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের বিষয়ে সাঈদ খোকন জানান, শুধু অতি দাহ্য কেমিক্যাল গোডাউন অপসারণের জন্য টাস্কফোর্সের অভিযান চলমান থাকবে। বিস্ফোরক অধিদপ্তর প্লাস্টিক দানা ও অর্গানিক পিগমেন্টকে অবিপজ্জনক দাহ্য পদার্থ ঘোষণা করায় এগুলোর গোডাউন অভিযানের আওতামুক্ত থাকবে। এ ছাড়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পুরান ঢাকার প্রতিটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে অগ্নিনির্বাপণের জন্য অবধারিতভাবে ‘ফায়ার ডিস্টিংগুইশার’ ও এক বালতি করে পানি ও বালি রাখতে হবে। সেজন্য ব্যবসায়ীদের এক সপ্তাহ সময় বেঁধে দেওয়া হয়।
সভায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসার জন্য একটি স্পষ্ট নীতিমালা করতে মেয়রের কাছে দাবি জানান। এ ছাড়া প্লাস্টিকপল্লী বানিয়ে সেখানে ব্যবসা স্থানান্তর করা, ব্যবসায়ীদের অগ্নিনির্বাপণের প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং প্রশাসনের হয়রানি বন্ধের দাবিও জানান ব্যবসায়ীরা।
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পুরান ঢাকা থেকে সব ধরনের কেমিক্যাল গোডাউন অপসারণে অভিযান শুরু করে ডিএসসিসির টাস্কফোর্স। এক মাসের মধ্যে সব কেমিক্যাল কারখানা অপসারণে গতকাল পর্যন্ত ৯ দিন অভিযান চালায় টাস্কফোর্স। অভিযানে অধিকাংশ দিনই ব্যবসায়ীদের বাধার মুখে পড়ে টাস্কফোর্স। অবশেষে অভিযান শিথিল করল ডিএসসিসি।
