বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ব্যবস্থাপনায় নানা ধরনের অনিয়ম ও অদক্ষতা রয়েছে। এসব অদক্ষতার ফলে গ্রাহকের ওপর যেন বাড়তি মূল্যের বোঝা চাপানো না হয়, সেদিকে কর্র্তৃপক্ষের নজর দেওয়া প্রয়োজন। গতকাল রবিবার ঢাকার গুলশানের একটি হোটেলে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সংলাপে বক্তারা এমন পরামর্শ দেন। ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত : সাম্প্রতিক বিতর্ক’ শীর্ষক এ সংলাপে মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। এ প্রতিবেদনে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে উৎপাদনের ক্রমবর্ধমান উন্নতি, শিল্প ও আবাসিক খাতে চাহিদার বৃদ্ধি, গ্রাহক সেবার মান ও মূল্য নির্ধারণ এবং টেকসই ও সাশ্রয়ী জ্বালানি নিশ্চিতকরণে ভবিষ্যতের পরামর্শ তুলে ধরেন বক্তারা।
সংলাপে বক্তাদের এসব সমালোচনার জবাবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নসরুল হামিদ বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তুলনায় আমাদের জ্বালানি খরচ অনেক কম। যারা ব্যয়বহুল বিদ্যুৎ জ্বালানির অভিযোগ করেন, তারা অপপ্রচার করছেন। মূল্য সমন্বয়ের পরেও ভর্তুকির মাধ্যমে জ্বালানিকে ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার চেষ্টা করে হচ্ছে।’
নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানির বিষয়ে নসরুল হামিদ বলেন, ‘আমরা মাত্র উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পেরেছি। তবে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হলে আরও সময় লাগবে। কোরিয়ায় কোয়ালিটি বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে ৩০ বছর সময় লেগেছে।’
ভোক্তারদের বাড়তি খরচ ও দুর্নীতির প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির শাসনামলে বিদ্যুতের সিসটেম লস ছিল ৪৪ শতাংশ। এখন সেই সিসটেম লস ১১ শতাংশের ঘরে।’ ওই সময় তিনি জানান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ জোগাড় করতে সরকার ২০০ কোটি ডলারের এনার্জি বন্ড ছাড়ার পরিকল্পনা নিয়েছে।
অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্যে সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘প্রকল্প গ্রহণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ আইন এখনই বাতিল করা দরকার। এই খাতের কার্যক্রম ধীরে ধীরে সরকারি ক্রয় আইনে নিয়ে আসতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হবে।’
সভাপতির বক্তব্যে সিপিডির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. রেহমান সোবহান বলেন, বর্তমানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বেশ কিছু অনিয়ম ও অস্বচ্ছতা রয়েছে। এগুলো দূর করার জন্য উইন উইন শর্তে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়টি খেয়াল করতে হবে। এ ছাড়া অস্বচ্ছতার কারণে প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি হচ্ছে। এসব অদক্ষতার ফল গ্রাহকের ওপর যেন বাড়তি মূল্যের বোঝা চাপানো না হয়, সেটি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের মাধ্যমে দূর করতে হবে।
এর আগে আলোচনায় অংশ নিয়ে কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. শামসুল আলম বলেন, ‘২০০৯ সালে উৎপাদনক্ষমতার ৪৯ শতাংশ ব্যবহার হতো। এখন ব্যবহার হচ্ছে মাত্র ৪০ শতাংশ। ভারত ৬ ডলার দিয়ে এলএনজি কিনতে পারলে বাংলাদেশ কেন ১০ ডলার দিয়ে কিনবে? বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ঘাটে ঘাটে দুর্নীতি হচ্ছে। ১০০ কোটি ঘনফুট এলএনজি আমদানি বাবদ ঘাটতি দেখিয়ে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করতে যাচ্ছে পেট্রোবাংলা। অথচ এখন মাত্র ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস আমদানি হচ্ছে। কবে নাগাদ বাকি গ্যাস আমদানি হবে তার নিশ্চয়তা ভোক্তারা জানে না। কিন্তু দাম বৃদ্ধি করা হবে খুব শিগগির।’
