স্থানীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ফিরে আসুক

আপডেট : ১১ মার্চ ২০১৯, ১০:৩১ পিএম

বাংলাদেশের সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে যে চার স্তরের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার কথা বলা আছে, উপজেলা পরিষদ তাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। গ্রামীণ জনপদের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও জনগণের জীবনমান উন্নয়নের প্রশ্নে উপজেলা পরিষদের কর্মকা-ই সবচেয়ে বেশি বিস্তৃত। সেই উপজেলার প্রথম ধাপে নির্বাচন হয়ে গেল রবিবার।

একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচন সব সময়েই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে এটাই কাম্য। সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে একে প্রাণবন্ত করে তোলা যেকোনো গণতান্ত্রিক সরকারের দায়িত্ব। কিন্তু এবারের উপজেলা নির্বাচনের প্রথম ধাপে যে চিত্র দেখা গেল, তা হতাশাজনক। প্রথম ধাপে চার বিভাগে ১২টি জেলার ৭৮টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে সব মিলিয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন ২৮ জন। এবারের উপজেলা নির্বাচন বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টসহ অন্য বিরোধীরা বর্জন করে।

অবস্থাদৃষ্টে এটি বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ তৈরি হয়েছে যে, অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক না হওয়ার কারণে অধিকাংশ কেন্দ্রেই ভোটার উপস্থিতি ছিল খুবই কম। নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও যেসব নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হয়েছে তাতে ভোটারদের সরব উপস্থিতি দেখা গেছে। জনগণ চায় নির্বাচনে সব সময়েই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আমেজ থাকুক। কিন্তু ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে দেখা গেছে, ভোটারদের উপস্থিতি খুবই কম। কিন্তু অনেকেই যেমন বলছেন এখন জনগণ ভোটদানে আগ্রহ আর বোধ করছে না উপজেলা নির্বাচনের সার্বিক চিত্র এই ধরনের বক্তব্যকেই সমর্থন জোগায়। এর ফলে গোটা নির্বাচনী প্রক্রিয়া প্রশ্নের মুখে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

স্থানীয় সরকারের এই স্তরে জনগণ সরাসরি তাদের নিজস্ব উন্নয়নের জন্য প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারে। তাই এই স্তরে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দায়িত্ব অনেক বেশি। তাই তাদের ক্ষমতায়ন জনগণের ক্ষমতায়নের সঙ্গে সম্পর্কিত। উপজেলা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তৃণমূলের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা ক্ষমতাপ্রাপ্ত হবে বলে মনে করা হলেও সেটি হয়ে ওঠেনি বলে অভিযোগ রয়েছে। বলা হচ্ছে, পরিষদ প্রতিনিধিদের ক্ষমতা খর্ব করে সংসদ সদস্য ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে সব ক্ষমতা বাটোয়ারা করে দেওয়া হয়েছে।

এর ফলে নির্বাচিত উপজেলা পরিষদ প্রতিনিধিরা গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন বা অন্য কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছেন। এতে ক্ষমতার প্রকৃত বিকেন্দ্রীকরণ তো ঘটেইনি বরং আমলাদের হাতেই ক্ষমতা কুক্ষিগত হয়েছে। আর তাদের ওপর ছায়া হয়ে থাকছেন সংসদ সদস্যরা। এ থেকে বের হওয়ার জন্য কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। স্থানীয় সরকার শক্তিশালী হলে জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হয়। তখন আমলাতন্ত্রের শক্তি হ্রাস পায়। তাই স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার ব্যাপারটি সর্বাগ্রে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক এবং কার্যকরী নির্বাচনের জন্য জনপ্রত্যাশা রয়েছে। একতরফা, প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচন কখনোই কাম্য নয়। তাই সবার অংশগ্রহণে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের আমেজে দেশ ফিরে আসুক এটাই সবার কাম্য। সে ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল এবং নির্বাচন কমিশনকেই সবচেয়ে বেশি তৎপর হতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত