সাধারণ বীমায় মুনাফা ৩২%

আপডেট : ১১ মার্চ ২০১৯, ১১:২৯ পিএম

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বেশিরভাগ খাতের শেয়ারের দর বাড়লেও সবচেয়ে এগিয়ে সাধারণ বীমা খাত। চলতি বছরের মাত্র দুই মাসে সাধারণ বীমা খাতের শেয়ার থেকে বিনিয়োগকারীরা মূলধনী মুনাফা পেয়েছেন ৩২ শতাংশের বেশি। ২০১৮ সালে এ খাতের প্রিমিয়াম আয় বাড়ায় সাধারণ বীমা কোম্পানির শেয়ার দরে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এছাড়া হিসাব বছর শেষে লভ্যাংশ ঘোষণার প্রস্তুতি নেওয়ার কারণেও এসব শেয়ারের দর বাড়ছে।

বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) দেওয়া তথ্যানুসারে, ২০১৭ সালে সাধারণ বীমা খাতের কোম্পানিগুলোর প্রিমিয়াম আয় ছিল ৩ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা। আর ২০১৮ সালের তৃতীয় প্রান্তিক (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত এ খাতের প্রিমিয়াম আয় হয় ৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। এ হিসাবে ২০১৮ সালে সাধারণ বীমা খাতের প্রিমিয়াম আয়ের সম্ভাব্য পরিমাণ হচ্ছে ৪ হাজার ৫৩৩ কোটি টাকা, যা আগের বছরের চেয়ে ২৫ শতাংশ বেশি। এ সময় সাধারণ বীমা খাতে সম্পদের প্রবৃদ্ধি হয় ৯ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রিমিয়াম আয় বৃদ্ধি ও লভ্যাংশ সময় ঘনিয়ে আসায় সাধারণ বীমা খাতের কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে। যদিও প্রিমিয়াম আয় সবচেয়ে বেশি বেড়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সাধারণ বীমা করপোরেশনের, যেটি তালিকাভুক্ত নয়। পর্যালোচনায় দেখা গেছে, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৩০২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে দেখা গেছে। যদিও একই হারে আয় বাড়েনি। পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রিমিয়াম আয়ের তুলনায় দর সবচেয়ে বেশি বেড়েছে সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্সের। এ কোম্পানির প্রিমিয়াম আয় দ্বিতীয় প্রান্তিকের তুলনায় তৃতীয় প্রান্তিকে ৩১ দশমিক ৬৫ শতাংশ বেড়েছে। আর গত দুই মাসে এর শেয়ার দর বেড়েছে ৩০২ শতাংশ। একই সময়ে প্রভাতি ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দর বেড়েছে ১১৬ শতাংশ। এছাড়া ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স ৯২ শতাংশ, অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স ৮৮ শতাংশ, এশিয়া ইন্স্যুরেন্স ৫৬ শতাংশ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স ৩১ শতাংশ ও মার্কেন্টাইল ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দর ৪৪ শতাংশ বেড়েছে। সব মিলিয়ে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত সাধারণ বীমা খাত থেকে বিনিয়োগকারীদের মূলধনী মুনাফা হয়েছে গড়ে ৩২ শতাংশ। ২০১৭ সালে সাধারণ বীমা খাত থেকে প্রায় সাড়ে ৪ শতাংশ লোকসান ছিল বিনিয়োগকারীদের।

তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে সাধারণ বীমা খাতে গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের প্রিমিয়াম আয় সবচেয়ে বেশি। ২০১৮ সালের তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত এ কোম্পানি প্রিমিয়াম আয় ৩১১ কোটি টাকা, যা এ খাতের মার্কেট শেয়ারের ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ। এরপর রয়েছে পাইওনিয়ার, রিলায়েন্স ও প্রগতি ইন্সুরেন্স। এসব কোম্পানি প্রিমিয়াম আয়ে শীর্ষে থাকলেও এদের বাজার মূলধন আনুপাতিক হারে বাড়েনি।  

এদিকে সাধারণ বিমা খাতে বড় ধরনের মূলধনী মুনাফা এলেও জীবন বীমা খাতে উল্টো চিত্র লক্ষ করা গেছে। চলতি বছর এ খাত থেকে বিনিয়োগকারীরা প্রায় সাড়ে ৪ শতাংশ লোকসান করেছেন। এ খাতে প্রিমিয়াম আয় কমে যাওয়ায় শেয়ার দর কমছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আইডিআরএ প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ২০১৭ সালে জীবন বিমা কোম্পানিগুলোর মোট প্রিমিয়াম আয় ছিল ৮ হাজার ৯৭ কোটি টাকা। আর ২০১৮ সালের তৃতীয় প্রান্তিক (জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত এ খাতে প্রিমিয়াম আয় হয় ৫ হাজার ৭৭৯ কোটি টাকা। এ হিসেবে ২০১৮ সালে জীবন বীমা কোম্পানি খাতে প্রিমিয়াম আয় হতে পারে ৭ হাজার ৭০৫ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ৩৯১ কোটি টাকা কম। যদিও ২০১৮ সালে এ খাত থেকে প্রায় ২৪ শতাংশ মূলধনী মুনাফা পেয়েছিলেন বিনিয়োগকারীরা।

পর্যালোচনায় দেখা যায়, শুধু সাধারণ বীমা নয়, চলতি বছর পুঁজিবাজারের ঊর্ধ্বমুখী ধারার পরিপ্রেক্ষিতে বেশিরভাগ খাতের বাজার মূলধন বেড়েছে। অবশ্য বাজার মূলধন বৃদ্ধির নেপথ্যে বড় মূলধনী কোম্পানির শেয়ারের দরবৃদ্ধি ছিল বড় কারণ। মূলধনী মুনাফায় সাধারণ বীমা খাতের পরবর্তী অবস্থানে রয়েছে বিবিধ খাত। চলতি বছর এ খাত থেকে বিনিয়োগকারীরা ২৭ শতাংশ মূলধনী মুনাফা পেয়েছেন। এছাড়া মুন্নু সিরামিকসের শেয়ার দরবৃদ্ধির কারণে সিরামিকস খাতের বাজার মূলধন ১৫ শতাংশ, ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেল অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির শেয়ারের দর বাড়ায় পুরো জ¦ালানি খাতের বাজার মূলধন বেড়েছে ১৪ দশমিক ৯ শতাংশ। এছাড়া বিএটিবিসির কারণে খাদ্য ও অনুষঙ্গ খাত ১১ শতাংশ, টেলিযোগাযোগ খাতের ১০ শতাংশ বাজার মূলধন বেড়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত