সাক্ষাৎকারে সাবেক উপাচার্য আরেফিন সিদ্দিক

ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ের

আপডেট : ১২ মার্চ ২০১৯, ০৪:৩৪ এএম

২৮ বছর পর গতকাল সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন যেভাবে হয়েছে তাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে মনে করছেন সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে নির্বাচনে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন তিনি।

দেশ রূপান্তরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাবেক এই উপাচার্য বলেন, ‘আমি মনে করি, ডাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে বিষয়গুলো ঘটল, তাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হলো। এর আগে কোনো ডাকসুতেই এমন হয়নি। ভোট শুরুর আগেই কেন ব্যালট পাওয়া গেল? আর ছাত্রীরা যখন সে  অভিযোগ দিল, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কেন কোনো ব্যবস্থা নিল না? বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের দাবির পরও কেন স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ব্যবহার করা হলো না? সকালে হলে হলে ব্যালট বাক্স না পাঠিয়ে কেন রাতেই পাঠানো হলো? এমনকি ভোটের দিন নানা অভিযোগ উঠল। তারপরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হলো না। এসব কারণেই ডাকসু নির্বাচন বিতর্কিত হলো। যেসব শিক্ষক নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তারা কেউই কোনো প্রতিবাদ করলেন না। ভোটের আগে ও ভোটের দিন প্রার্থী ও শিক্ষার্থীদের কোনো অভিযোগই আমলে নেওয়া হলো না। এসবই কিন্তু বিতর্কের কারণ। এখানেই সুষ্ঠু ভোট নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।’

আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘আমরা ডাকসু নির্বাচন চাই। ২৮ বছর পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন সে উদ্যোগ নিয়ে একটি ভালো কাজ করেছে। কিন্তু যে আশায় নির্বাচনের উদ্যোগ, সেটা সফল হলো না। উল্টো নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় গোটা নির্বাচনই বিতর্কিত হয়ে পড়ল।’ তিনি বলেন, ‘মনে রাখতে হবে, কেবল শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্যই এই বিশ্ববিদ্যালয় নয়। এই বিশ্ববিদ্যালয় জাতির বিবেক। গোটা দেশের মানুষ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে তাকিয়ে থাকে। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ এটি। এ পর্যন্ত দেশে যত গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সফলতা, সবকিছুরই সূতিকাগার এই বিশ্ববিদ্যালয়। ডাকসুর ঐতিহ্য গৌরবোজ্জ্বল। ডাকসুর সঙ্গে বিশ^বিদ্যালয় ও গোটা জাতির ভাবমূর্তি জড়িত।’

অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘এবারের ডাকসু নির্বাচনকে ঘিরে যা ঘটল, তা কিন্তু স্বাভাবিকভাবে নিলে হবে না। বিশ^বিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করতে হবে। নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার করতে হবে, শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’ তিনি মনে করেন, ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করতে হলে প্রত্যেকটি ঘটনার তদন্ত করতে হবে। একদিনে হয়তো সম্ভব নয়, পর্যায়ক্রমে করতে হবে।

সাবেক উপাচার্য আরেফিন বলেন, ‘যেসব ঘটনা ঘটল, কেন সেখানে ব্যত্যয় ঘটল, এগুলো কি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের গাফিলতি নাকি ইচ্ছেকৃতভাবে করল, এর পেছনে কোনো পক্ষের কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র আছে কি না সেটা দেখতে হবে। মনে রাখতে হবে জাতীয় রাজনীতির জন্যও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে এখানে কোনো অস্থিরতা নেই, স্থিতিশীল। ডাকসু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সেই বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে ও দুর্বল করতে চায় কি না সেটাও দেখতে হবে। এটা কিন্তু শুধু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাজ নয়; সরকারের পক্ষ থেকেও দেখা উচিত। যেকোনো উপায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করতে হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত