কুড়িগ্রামের রাজীবপুরে উপজেলা নির্বাচন শেষে বিজয় মিছিলে পদদলিত হয়ে ইয়াসিন আলী (১০) নামের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র ছিল। মিছিলকারীদের পায়ের চাপায় মারাত্মকভাবে আহত শিশুটিকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। কিন্তু পথেই মৃত্যু হয় শিশুটির। গত রবিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার জালচিরাপাড়া গ্রামে পায়ের চাপার ওই ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে জানা গেছে, রাজীবপুর উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আকবর হোসেন হিরোর আনারস মার্কার বিজয়ের খবরে কর্মী-সমর্থকরা উল্লাসে ফেটে পড়ে। বালিয়ামারী বাজার থেকে কর্মী-সমর্থকদের একটি বিজয় মিছিল রাজীবপুরে যাচ্ছিল। যাওয়ার পথে জালচিরাপাড়া নামক স্থানে মিছিল দেখতে রাস্তায় আসে ইয়াছিন আলী নামের ওই শিশু। আনন্দ-উল্লাসের মিছিলের ভিড়ের মধ্যে পড়ে যায় শিশুটি। এ সময় মিছিলকারীদের পায়ের নিচে পড়ে সে। উপজেলার বালিয়ামারীর ব্যাপারীপাড়ার জেলে পরিবারের সন্তান নিহত ইয়াছিন আলী। বাবা আনছের আলী একজন জেলে। ইয়াছিনের মা ইয়াছমিন বেগম বলেন, ‘মরার মিছিল আমার পোলারে কাইরা নিল। মিছিল না অইলে আমার পোলা মরত না। মিছিলের মধ্যে পইরা পোলা আমার মা মা কইয়া চিৎকার করছে। কেউ আগায় আসে নাই। আমি আমার পোলার হত্যার বিচার চাই।’
বাবা আনছের আলী বলেন, ‘আমরার অবুঝ ফুটফুটে ছেলেটাকে তারা মাইরা ফেলল। সেখানে বিজয়ী চেয়ারম্যান আইয়া এক হাজার ট্যাহা হাতে দেয়। আমি নেই নাই।’
নিহত শিশু ইয়াছিন আলী উপজেলার বালিয়ামারী বাজারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণিতে লেখাপড়া করে। ক্লাসে তার রোল নম্বর ৬। স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘ছেলেটি মেধাবী। লেখাপড়ায় খুবই ভালো ছিল।’
নির্বাচনে পরাজিত আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী শফিউল আলম অভিযোগ করে বলেন, ‘বালিয়ামারী ব্যাপারীপাড়া গ্রামের আনছের আলী আমার কর্মী ছিল। বিজয়ী দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর কর্মীরা অন্যায়ভাবে আমার কর্মীর বাড়িতে ইটের ঢিল ছুড়েছে। মিছিল দেখতে আসা নিরপরাধ এক শিশুকে তারা মেরে ফেলেছে। ঘটনার তদন্তের দাবি করছি আমি।’
তবে বিজয়ী প্রার্থী আকবর হোসেন হিরো বলেন, ‘এটা একটা দুর্ঘটনা। শিশুটি বিজয় মিছিলের মাঝখানে পা পিছলে পড়ে মাথায় আঘাত পায়।’
রাজীবপুর থানার ওসি রবিউল ইসলাম বলেন, বিষয়টির খোঁজ নিয়েছি। কিন্তু থানায় কেউ অভিযোগ করেনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, থানার ওসিকে ব্যবস্থা নিতে বলেছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থীর মিছিল বের করার নিয়ম নেই।
